বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

৭৯ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সেই কয়েদি ইয়াবা সম্রাট আমিন হুদার ঢাকা জেলে মৃত্যু

ঢাকা ব্যুরো :=

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দুটি মামলায় ৭৯ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ‘ইয়াবা সম্রাট’ খ্যাত আমিন হুদা মারা গেছেন।শুক্রবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেলে তার মৃত্যু হয়।গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাহবুবুল ইসলাম।

জেলার মাহবুবুল জানান, কয়েদি আমিন হুদা শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি হৃদরোগসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারা সূত্র জানায়, দণ্ড হওয়ার পর প্রায় সাত বছর ধরে কারাগারে ছিলেন আমিন হুদা। এর মধ্যে কয়েক দফায় হাসপাতালের প্রিজন সেলে কাটিয়েছেন প্রায় তিন বছর।

আমিন হুদাকে ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর গুলশানের একটি বাড়ি থেকে ৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গুলশানের আরেকটি বাসা থেকে ১৩৮ বোতল মদ, পাঁচ কেজি ইয়াবা (১ লাখ ৩০ হাজার পিস) এবং ইয়াবা তৈরির যন্ত্র ও উপাদান উদ্ধার করা হয়। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই আমিন ও তার সহযোগী আহসানুল হককে ৭৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের দু’জনকে ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

তবে এক সঙ্গে সাজা চলার কারণে আমিন হুদাকে সর্বোচ্চ ১৪ বছর সাজাভোগ করতে হবে বলে আইনজীবীরা জানান।

এরপর দুই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আমিন হুদা হাইকোর্টে আপিল করে জামিন চান। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ওই বছরের ৫ মে আপিল বিভাগ জামিন বাতিল করে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে ও হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেন। আত্মসমর্পণের পর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ড. ইউনূসকে ৫০ কোটি টাকা কর জমা দিয়ে আপিল করতে হবে : হাইকোর্ট রায়

৭৯ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সেই কয়েদি ইয়াবা সম্রাট আমিন হুদার ঢাকা জেলে মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ০৮:২৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২০
ঢাকা ব্যুরো :=

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দুটি মামলায় ৭৯ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ‘ইয়াবা সম্রাট’ খ্যাত আমিন হুদা মারা গেছেন।শুক্রবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেলে তার মৃত্যু হয়।গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাহবুবুল ইসলাম।

জেলার মাহবুবুল জানান, কয়েদি আমিন হুদা শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি হৃদরোগসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারা সূত্র জানায়, দণ্ড হওয়ার পর প্রায় সাত বছর ধরে কারাগারে ছিলেন আমিন হুদা। এর মধ্যে কয়েক দফায় হাসপাতালের প্রিজন সেলে কাটিয়েছেন প্রায় তিন বছর।

আমিন হুদাকে ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর গুলশানের একটি বাড়ি থেকে ৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গুলশানের আরেকটি বাসা থেকে ১৩৮ বোতল মদ, পাঁচ কেজি ইয়াবা (১ লাখ ৩০ হাজার পিস) এবং ইয়াবা তৈরির যন্ত্র ও উপাদান উদ্ধার করা হয়। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই আমিন ও তার সহযোগী আহসানুল হককে ৭৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের দু’জনকে ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

তবে এক সঙ্গে সাজা চলার কারণে আমিন হুদাকে সর্বোচ্চ ১৪ বছর সাজাভোগ করতে হবে বলে আইনজীবীরা জানান।

এরপর দুই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আমিন হুদা হাইকোর্টে আপিল করে জামিন চান। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ওই বছরের ৫ মে আপিল বিভাগ জামিন বাতিল করে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে ও হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেন। আত্মসমর্পণের পর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।