Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১রবিবার , ৮ মার্চ ২০২০
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

গোপনে বিয়ে ৮ দিন মেলামেশা, অতঃপর অস্বীকার

Shahriar Hossain
মার্চ ৮, ২০২০ ৭:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :=

মোবাইলে পরিচয় গোপন করে দুই বছর প্রেমের পর বিয়ে। সংসার করেছেন মাত্র আটদিন। এরপরই বিএম কলেজে তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে মুন্সীগঞ্জ থেকে বরিশালে চলে যান তরুণী। পরীক্ষা শেষে পুনরায় মুন্সীগঞ্জে ফিরলেও আর ঠাঁই হয়নি স্বামীর বাড়িতে।

পরে আসল পরিচয় জেনে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করছেন ওই তরুণী। এর পরই ঘরে তালা দিয়ে পালিয়েছে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন।

এদিকে, স্বামী তাকে স্বীকৃতি না দিলে বিষপানে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকিও দিয়েছেন ওই তরুণী। তার বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী বিয়ের নামে শারীরিক সম্পর্ক করে স্বীকৃতি না দিয়ে তাকে ধোঁকা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার বাগপাড়া গ্রামের কানাই বৈষ্ণবের ছেলে কর্নধর বৈষ্ণব। তিনি ‍মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার ভবেরচরে ভাড়া বাসায় থেকে চাকরি করেন।

কর্নধর বৈষ্ণবের সঙ্গে দুই বছর আগে দর্জিরপাড় গ্রামের শ্যামল মল্লিকের কন্যা সাথী মল্লিকের মোবাইল ফোনে প্রেম হয়। পরে পরিচয় গোপন করে গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে তারা বিয়ে করেন।

আটদিন সংসার করে বরিশালে পরীক্ষা দিতে এসে পুনরায় মুন্সীগঞ্জে ফিরে গেলে তাকে আর বাসায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন ওই স্ত্রী।

এ ব্যাপারে সাথী মল্লিক বলেন, ‌পরিচয় গোপন করে দুই বছর প্রেম করে বিয়ে করে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মুন্সীগঞ্জের বাসায় আটদিন সংসার করে বরিশালে পরীক্ষা দিতে আসি। এর পরে ফিরে গেলে সে আমাকে অস্বীকার করে।

তিনি বলেন, এ নিয়ে কলহের সৃষ্টি হলে কর্নধর বৈষ্ণব আমাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। ওই এলাকার লোকজন জানতে পেরে তাকে দিয়ে ঢাকায় আমার আত্মীয়ের কাছে পৌঁছে দেয়। এর পর আমি জ্যাঠাতো ভাই রিপন মল্লিকের কাছে আমাদের ছবি দিলে সে জানায়, এর বাড়ি মাদারীপুর নয়। এর বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের কানাই বৈষ্ণবের ছেলে কর্নধর বৈষ্ণব।

আমি পরিচয় জেনে গেছি জেনে কর্নধর লক্ষীপুরের বাসা থেকে আত্মগোপনে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

তিনি আরো বলেন, এরপর আমি গত ৪ মার্চ এসে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রমেশ সরকারের কাছে জানালে তারা বসে সঠিক সমাধান করে দেয়ার কথা বললেও কোনো সমাধান করেননি। শুক্রবার রাতে প্রহসনের সালিস মীমাংসায় বসলেও কোনো সমাধান করতে পারেনি তারা। এ কারণে এলাকার লোকজন পুনরায় আগামী শুক্রবার ১৩ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেছে।

ওইদিন আমাকে মেনে নেয়া না হলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে জানান ওই তরুণী। তিনি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিষপান করে আত্মহত্যা করব। আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

জানতে চাইলে স্বামী কর্নধর বৈষ্ণবের বাবা কানাই বৈষ্ণব বলেন, আমি ওই মেয়ের কথা কয়েকদিন আগে শুনেছি। গত শুক্রবার আমার বাড়িতে আসলে তখন আমি তাকে দেখি। সত্যতা পেলে এলাকার সালিস মীমাংসায় যা হবে তা আমি মেনে নেব।

এ ব্যাপারে জানতে কর্নধর বৈষ্ণবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রমেশ সরকার জানান, কর্নধর বৈষ্ণবের পিতা কানাই বৈষ্ণবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার ১৩ মার্চ তারিখ বসে মীমাংসা করে দেওয়া হবে।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে আগৈলঝাড়া থানার ওসি আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
%d bloggers like this: