রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

করোনায় নারীর চেয়ে ‘সহজে কাবু হচ্ছে’ পুরুষ

আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান :=

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) নারী ও শিশুদের তুলনায় পুরুষের মৃত্যুর হার বেশি। চাইনিজ সেন্টারস অব ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এমন খবর দিয়েছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন তথা বিবিসি।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ৪৪ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এই রোগীদের যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ২.৮ শতাংশ পুরুষ, নারী ১.৭ শতাংশ। বিপরীতে শিশু ০.২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে বয়স্ক মানুষ, প্রায় ১৫ শতাংশ।

সাধারণ ফ্লু যখন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনও একই অবস্থা দেখা গেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, লাইফস্টাইলের কারণে এই পার্থক্য। পুরুষেরা এমনিতে বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করেন, তার ওপর অনেকে আবার ধূমপান করেন। যার কারণে ফুসফুসের ক্ষতি তাদের বেশি হয়। আর এই ধরনের ভাইরাস ফুসফুসকেই আগে আক্রমণ করে।

চীনে বেশি পুরুষ মারা যাওয়ার কারণও এই ধূমপান। দেশটির ৫২ শতাংশ পুরুষ ধূমপান করেন। সেখানে নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস আছে ৩ শতাংশের। এসবের পাশাপাশি নারীদের ইনফেকশন প্রতিরোধ-ব্যবস্থাও আলাদা।

পূর্ব আঞ্জলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পল হান্টার বলেন, ‘ফ্লু প্রতিরোধে নারীদের শরীর ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ভালো অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে।’শিশুদের কম আক্রান্ত হওয়ার পেছনে কিংস কলেজ লন্ডনের ডাক্তার নাথালি ম্যাকডার্মটের যুক্তি, ‘মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর মা-বাবা সবার আগে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়। তাদের ‍সুস্থতার জন্য এটি একটি কারণ।’ভাইরাসটিতে চীনে রবিবার মারা গেছেন ২৭ জন। গোটা পৃথিবীতে সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৫৯৪ জন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

করোনায় নারীর চেয়ে ‘সহজে কাবু হচ্ছে’ পুরুষ

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২০
আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান :=

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) নারী ও শিশুদের তুলনায় পুরুষের মৃত্যুর হার বেশি। চাইনিজ সেন্টারস অব ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এমন খবর দিয়েছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন তথা বিবিসি।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ৪৪ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এই রোগীদের যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ২.৮ শতাংশ পুরুষ, নারী ১.৭ শতাংশ। বিপরীতে শিশু ০.২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে বয়স্ক মানুষ, প্রায় ১৫ শতাংশ।

সাধারণ ফ্লু যখন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনও একই অবস্থা দেখা গেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, লাইফস্টাইলের কারণে এই পার্থক্য। পুরুষেরা এমনিতে বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করেন, তার ওপর অনেকে আবার ধূমপান করেন। যার কারণে ফুসফুসের ক্ষতি তাদের বেশি হয়। আর এই ধরনের ভাইরাস ফুসফুসকেই আগে আক্রমণ করে।

চীনে বেশি পুরুষ মারা যাওয়ার কারণও এই ধূমপান। দেশটির ৫২ শতাংশ পুরুষ ধূমপান করেন। সেখানে নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস আছে ৩ শতাংশের। এসবের পাশাপাশি নারীদের ইনফেকশন প্রতিরোধ-ব্যবস্থাও আলাদা।

পূর্ব আঞ্জলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পল হান্টার বলেন, ‘ফ্লু প্রতিরোধে নারীদের শরীর ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ভালো অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে।’শিশুদের কম আক্রান্ত হওয়ার পেছনে কিংস কলেজ লন্ডনের ডাক্তার নাথালি ম্যাকডার্মটের যুক্তি, ‘মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর মা-বাবা সবার আগে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়। তাদের ‍সুস্থতার জন্য এটি একটি কারণ।’ভাইরাসটিতে চীনে রবিবার মারা গেছেন ২৭ জন। গোটা পৃথিবীতে সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৫৯৪ জন।