শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্ক নেই করোনার!

আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান :=

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ২১৭ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৪ হাজার ২৯৯ জন। অপরদিকে করোনায় আক্রান্ত ৬৬ হাজার ৫৬৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, তখন অনেকেই এমন বলছেন— উষ্ণ তাপমাত্রায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে।এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে এমন তথ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণ তাপমাত্রায় করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকার তথ্যটির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে ৭০ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা হলে এ ভাইরাস ধ্বংস হয়। স্বাভাবিক পরিবেশে কোথাও এমন তাপমাত্রা থাকে না। তাই তাপমাত্রা বাড়া বা কমার সঙ্গে এ রোগের সংক্রমণের কোন সম্পর্ক নেই।

এমন তথ্য জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. এ. এস. এম আলমগীর। রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি জানি ৫৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ৩০ মিনিট ফুটালে ভাইরাস মরতে পারে। তাহলে আমরা কী নিজেদের ৫৬ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে পারবো। যদি আমি ভাইরাস মারতে চাই তাহলে ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা প্রয়োজন হবে।

এটার নিচে ১ ডিগ্রীও না। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া যখন আমরা মারি তখন আমাদের সব মারতে হবে। কারণ মানুষের শরীরে যদি একটা ব্যাকটেরিয়া বা একটা ভাইরাস বেঁচে থাকে তবে সেটা আবার রিপ্রোডাকশন করে মিলিয়ন বিলিয়ন ভাইরাস তৈরি করতে পারে।তিনি আরো বলেন, আমাদের সৌভাগ্য আমরা মোটামুটি সবাই ১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে সেদ্ধ করা খাবার খাই। তবে হাফ বয়েল ডিম, ডিম পোচ খাওয়া এগুলো কাঁচা খাওয়া। আফ্রিকান মানুষ যখন বন জঙ্গলে যায়, পোকা মুখে দেয় আমরা বলি ও পোকা খায়। কিন্তু আপনি যে কাঁচা ডিম খান প্রতিবেলায়।

আফ্রিকার মানুষ দেখে তো হাসতেও পারে ও কাঁচা ডিম খায়। তাই বলব যা খাবেন সিদ্ধ করে খাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইইডিসিআর’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মেরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা, সেশন চেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, গেস্ট স্পিকার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্ক নেই করোনার!

প্রকাশের সময় : ০৮:১২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২০
আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান :=

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ২১৭ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৪ হাজার ২৯৯ জন। অপরদিকে করোনায় আক্রান্ত ৬৬ হাজার ৫৬৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, তখন অনেকেই এমন বলছেন— উষ্ণ তাপমাত্রায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে।এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে এমন তথ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণ তাপমাত্রায় করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকার তথ্যটির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে ৭০ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা হলে এ ভাইরাস ধ্বংস হয়। স্বাভাবিক পরিবেশে কোথাও এমন তাপমাত্রা থাকে না। তাই তাপমাত্রা বাড়া বা কমার সঙ্গে এ রোগের সংক্রমণের কোন সম্পর্ক নেই।

এমন তথ্য জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. এ. এস. এম আলমগীর। রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি জানি ৫৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ৩০ মিনিট ফুটালে ভাইরাস মরতে পারে। তাহলে আমরা কী নিজেদের ৫৬ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে পারবো। যদি আমি ভাইরাস মারতে চাই তাহলে ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা প্রয়োজন হবে।

এটার নিচে ১ ডিগ্রীও না। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া যখন আমরা মারি তখন আমাদের সব মারতে হবে। কারণ মানুষের শরীরে যদি একটা ব্যাকটেরিয়া বা একটা ভাইরাস বেঁচে থাকে তবে সেটা আবার রিপ্রোডাকশন করে মিলিয়ন বিলিয়ন ভাইরাস তৈরি করতে পারে।তিনি আরো বলেন, আমাদের সৌভাগ্য আমরা মোটামুটি সবাই ১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে সেদ্ধ করা খাবার খাই। তবে হাফ বয়েল ডিম, ডিম পোচ খাওয়া এগুলো কাঁচা খাওয়া। আফ্রিকান মানুষ যখন বন জঙ্গলে যায়, পোকা মুখে দেয় আমরা বলি ও পোকা খায়। কিন্তু আপনি যে কাঁচা ডিম খান প্রতিবেলায়।

আফ্রিকার মানুষ দেখে তো হাসতেও পারে ও কাঁচা ডিম খায়। তাই বলব যা খাবেন সিদ্ধ করে খাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইইডিসিআর’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মেরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা, সেশন চেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, গেস্ট স্পিকার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান প্রমুখ।