শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দু’ধর্মাবলম্বীর দু’আধ্যাত্বিক মহাসাধক শাহ আরেফিন(রাঃ)ওরস ও গঙ্গাস্নান বন্ধ

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া : সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :=
করোণাভাইরাস আতঙ্কের কারণে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুই তীরে প্রায় ৫০০বছর ধরে অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ হিন্দু-মুসলমানের দু’ধর্মাবলম্বীর দু’আধ্যাত্বিক মহাসাধক শাহ আরেফিন(রাঃ)ওরস ও গঙ্গাস্নান উপলক্ষ্যে মিলনোৎসব বন্ধ ঘোষনা করেছেন জেলা প্রশাসন।
সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কে অনুষ্ঠিত দুই ধর্মের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বৈঠক করে এই উৎসব বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। তবে আগামী ২১থেকে ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য দুই উৎসবের তীর্থ এলাকার মন্দির ও মাজারের সংশ্লিষ্টরা তাদের ধর্মকর্ম পালন করতে পারবেন।
এসময় দুই ধর্মের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সহগন্যমান্য ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন।
শাহ আরেফিন মাজার রনা বেন ও স্থানীয় কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আলম সাব্বির জানান,করুনা ভাইরাসের আত্নংকে ও নিজের জীবন রক্ষার তাগিদেই সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে দুটি উৎসব বন্ধের জন্য সম্মতি পোষন করেন।
শ্রী অদ্বৈত মহাপ্রভু জন্মধাম ও বারুণি মেলা কমিটির সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বের সঙ্গে আমরাও আতঙ্কিত তাই হিন্দু মুসলমানের মিলনোৎসব হিসেবে পরিচিত শাহ আরেফিন(রাঃ)ওরস ও গঙ্গাস্নানে লোকসমাগম এড়াতে উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুটি স্থানে কোনো লোকসমাগত হবেনা এবার।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন,উৎসব বন্ধের জন্য দুই ধর্মের প্রতিনিধিরাই ঐক্যববদ্ধ্য ভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাই এবার শাহ আরেফিন ও বারুণি স্নান উৎসব হচ্ছে না। তবে দুই ধর্মের প্রতিনিধিদের যারা সার্বিক ভাবে অবস্থান করেন তারা নিয়মিতই ধর্মকর্ম পালন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য,হিন্দু-মুসলমানের দু’ধর্মাবলম্বীর একটি হল,আধ্যাত্বিক মহাসাধকের শাহ আরেফিন(রাঃ)এর ওরশ ও অন্যটি হিন্দু সম্প্রাদায়ের গঙ্গা স্নান বা বারুনী মেলা। দু-ধর্মের কেউ আসবেন অস্থি নিয়ে,কেউ পূন্যের আশায়,আবার কেউ আসেন মানত নিয়ে মনোবাসনার ইচ্ছে পূরণ করার আশায়। এ দু’উৎসবকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের সিলেট,হবিগঞ্জ,মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ ৪জেলা দেশ,বিদেশের দেশে থেকে কাফেলাধারী পাগল,ফকির,ভক্ত,সাধক ও দর্শনার্থীরা ওরস এবং স্নানযাত্রা মহোৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পূন্যার্থী ও ভক্তবৃন্দরা যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী ও আশ পাশের গ্রাম,স্থানীয় হাটবাজার ও শাহ আরেফিন মোকাম আস্তানায় এলাকায় আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে আসেন।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দু’ধর্মাবলম্বীর দু’আধ্যাত্বিক মহাসাধক শাহ আরেফিন(রাঃ)ওরস ও গঙ্গাস্নান বন্ধ

প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০
জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া : সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :=
করোণাভাইরাস আতঙ্কের কারণে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুই তীরে প্রায় ৫০০বছর ধরে অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ হিন্দু-মুসলমানের দু’ধর্মাবলম্বীর দু’আধ্যাত্বিক মহাসাধক শাহ আরেফিন(রাঃ)ওরস ও গঙ্গাস্নান উপলক্ষ্যে মিলনোৎসব বন্ধ ঘোষনা করেছেন জেলা প্রশাসন।
সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কে অনুষ্ঠিত দুই ধর্মের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বৈঠক করে এই উৎসব বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। তবে আগামী ২১থেকে ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য দুই উৎসবের তীর্থ এলাকার মন্দির ও মাজারের সংশ্লিষ্টরা তাদের ধর্মকর্ম পালন করতে পারবেন।
এসময় দুই ধর্মের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সহগন্যমান্য ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন।
শাহ আরেফিন মাজার রনা বেন ও স্থানীয় কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আলম সাব্বির জানান,করুনা ভাইরাসের আত্নংকে ও নিজের জীবন রক্ষার তাগিদেই সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে দুটি উৎসব বন্ধের জন্য সম্মতি পোষন করেন।
শ্রী অদ্বৈত মহাপ্রভু জন্মধাম ও বারুণি মেলা কমিটির সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বের সঙ্গে আমরাও আতঙ্কিত তাই হিন্দু মুসলমানের মিলনোৎসব হিসেবে পরিচিত শাহ আরেফিন(রাঃ)ওরস ও গঙ্গাস্নানে লোকসমাগম এড়াতে উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুটি স্থানে কোনো লোকসমাগত হবেনা এবার।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন,উৎসব বন্ধের জন্য দুই ধর্মের প্রতিনিধিরাই ঐক্যববদ্ধ্য ভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাই এবার শাহ আরেফিন ও বারুণি স্নান উৎসব হচ্ছে না। তবে দুই ধর্মের প্রতিনিধিদের যারা সার্বিক ভাবে অবস্থান করেন তারা নিয়মিতই ধর্মকর্ম পালন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য,হিন্দু-মুসলমানের দু’ধর্মাবলম্বীর একটি হল,আধ্যাত্বিক মহাসাধকের শাহ আরেফিন(রাঃ)এর ওরশ ও অন্যটি হিন্দু সম্প্রাদায়ের গঙ্গা স্নান বা বারুনী মেলা। দু-ধর্মের কেউ আসবেন অস্থি নিয়ে,কেউ পূন্যের আশায়,আবার কেউ আসেন মানত নিয়ে মনোবাসনার ইচ্ছে পূরণ করার আশায়। এ দু’উৎসবকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের সিলেট,হবিগঞ্জ,মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ ৪জেলা দেশ,বিদেশের দেশে থেকে কাফেলাধারী পাগল,ফকির,ভক্ত,সাধক ও দর্শনার্থীরা ওরস এবং স্নানযাত্রা মহোৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পূন্যার্থী ও ভক্তবৃন্দরা যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী ও আশ পাশের গ্রাম,স্থানীয় হাটবাজার ও শাহ আরেফিন মোকাম আস্তানায় এলাকায় আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে আসেন।