শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

করোনায় বেশি মারা যাচ্ছেন ধূমপায়ীরা!

তানজীর মহসিন অংকন :=

করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণায় নানা ধরনের দিক উঠে আসছে। এর একটি হলো করোনাভাইরাসে যারা মারা গেছেন তার মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। এর একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ধূমপানকে।

চীনে এক জরিপে দেখা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমিত প্রতি একশ’ জন পুরুষদের মধ্যে মৃত্যু হয় ২ দশমিক ৮ জনের।কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এই হার অনেকটাই কম- প্রতি ১০০ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা যাচ্ছেন ১ দশমিক ৭ শতাংশ। একই প্রবণতা দেখা গেছে ইতালিতেও।দেশটির স্বাস্থ্য গবেষণা এজেন্সি বলছে, কোভিড নাইনটিনে মৃতদের ৭০ শতাংশই পুরুষ। এর পেছনে ধূমপানকেই একটি বড় কারণ মনে করা হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা হচ্ছে, চীনা পুরুষদের একটি বড় অংশ ধূমপায়ী। ইতালিতেও পুরুষদের মধ্যে ধূমপায়ীর হার বেশি।বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যারা ধূমপান করেন তাদের কোভিড নাইনটিন সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হবার সম্ভাবনা আছে। কারণ, সিগারেট খাবার সময় হাতের আঙুলগুলো ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে এবং এর ফলে হাতে (বা সিগারেটের গায়ে) লেগে থাকা ভাইরাস মুখে চলে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।এছাড়া, ধূমপায়ীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার আগ থেকেই ফুসফুসের রোগ থাকার ঝুঁকি বেশি। তাদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে।যারা শিশা দিয়ে ধূমপান করেন তারা অনেক সময় একাধিক লোক মিলে একটি হুঁকো বা নল ব্যবহার করেন যার ফলে কোভিড নাইনটিন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য সংস্থা অ্যাশের প্রধান নির্বাহী ডেবোরা আর্নট জানান, যারা ধূমপান করেন তাদের উচিত করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান কমিয়ে ফেলা কিম্বা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া।ধূমপায়ীদের শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের চেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া নানা কারণেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এতে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।ধূমপান ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলে তাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।তবে, করোনাভাইরাসে পুরুষদের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ যে ধূমপান সেটি শতভাগ নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় না। এমন হতে পারে যে নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্ভবত পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি বলেই এ ভাইরাসে তাদের মৃত্যু অপেক্ষাকৃত কম।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ব্রায়ান লারার অপরাজিত ৪০০ রানের রেকর্ড, দু’দশক আজ

করোনায় বেশি মারা যাচ্ছেন ধূমপায়ীরা!

প্রকাশের সময় : ০১:২১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০
তানজীর মহসিন অংকন :=

করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণায় নানা ধরনের দিক উঠে আসছে। এর একটি হলো করোনাভাইরাসে যারা মারা গেছেন তার মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। এর একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ধূমপানকে।

চীনে এক জরিপে দেখা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমিত প্রতি একশ’ জন পুরুষদের মধ্যে মৃত্যু হয় ২ দশমিক ৮ জনের।কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এই হার অনেকটাই কম- প্রতি ১০০ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা যাচ্ছেন ১ দশমিক ৭ শতাংশ। একই প্রবণতা দেখা গেছে ইতালিতেও।দেশটির স্বাস্থ্য গবেষণা এজেন্সি বলছে, কোভিড নাইনটিনে মৃতদের ৭০ শতাংশই পুরুষ। এর পেছনে ধূমপানকেই একটি বড় কারণ মনে করা হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা হচ্ছে, চীনা পুরুষদের একটি বড় অংশ ধূমপায়ী। ইতালিতেও পুরুষদের মধ্যে ধূমপায়ীর হার বেশি।বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যারা ধূমপান করেন তাদের কোভিড নাইনটিন সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হবার সম্ভাবনা আছে। কারণ, সিগারেট খাবার সময় হাতের আঙুলগুলো ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে এবং এর ফলে হাতে (বা সিগারেটের গায়ে) লেগে থাকা ভাইরাস মুখে চলে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।এছাড়া, ধূমপায়ীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার আগ থেকেই ফুসফুসের রোগ থাকার ঝুঁকি বেশি। তাদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে।যারা শিশা দিয়ে ধূমপান করেন তারা অনেক সময় একাধিক লোক মিলে একটি হুঁকো বা নল ব্যবহার করেন যার ফলে কোভিড নাইনটিন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য সংস্থা অ্যাশের প্রধান নির্বাহী ডেবোরা আর্নট জানান, যারা ধূমপান করেন তাদের উচিত করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান কমিয়ে ফেলা কিম্বা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া।ধূমপায়ীদের শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের চেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া নানা কারণেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এতে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।ধূমপান ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলে তাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।তবে, করোনাভাইরাসে পুরুষদের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ যে ধূমপান সেটি শতভাগ নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় না। এমন হতে পারে যে নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্ভবত পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি বলেই এ ভাইরাসে তাদের মৃত্যু অপেক্ষাকৃত কম।