মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনার ‘ওষুধ’ বলে কাশির সিরাপ বিক্রি, ডিলারকে জরিমানা

ফারুক হাসান :=

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ‘ওষুধ’ বিক্রি করায় একজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এই বিজ্ঞাপনদাতার সন্ধান পায় স্থানীয় প্রশাসন। এরপর তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিনের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি করা হয়। দণ্ডিত মনসুর আলী (৪০) হাটহাজারি উপজেলার চিকদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

ভেষজ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনডেক্সের ডিলার মনসুর তুলশি পাতার কাশির সিরাপকে করোনার প্রতিষেধক বলে বিক্রি করছিলেন। প্রতি ফাইল ১৫০ টাকা হলেও টানা ১২০ দিন বা চার মাস খেতে হবে বলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন তিনি।

জানা গেছে, মনসুর আলী নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘বাসুডেক্স’ ও ‘থার্মোকেয়ার’ সিরাপের ছবি ব্যবহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের বরাত দিয়ে লিখেন, ‘ভেষজ ওষুধ করোনা প্রতিরোধে ব্যবহার করতে বলেছেন। বেশি উদ্বিগ্নদের জন্য করোনা প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক পাওয়া যাচ্ছে।’

একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। বিষয়টি হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমীনের নজরে এলে তিনি ফোন করে ওষুধ আছে কিনা জানতে চাইলে, আছে বলে জানান মনসুর। এরপর দোকানে গিয়ে ওষুধ চাইলে কাশির সিরাপ ধরিয়ে দেন তিনি।

ইউএনও মো. রুহুল বলেন, ‘আজ আমরা ছদ্মবেশে ওষুধ কিনতে যাই। তিনি প্রতি ফাইল ১৫০ টাকায় ১২০ দিন সেবনের পরামর্শ দিয়ে দুই বোতল ওষুধ দেন। পরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রতারণার কথা স্বীকার করেন মনসুর। করোনাভাইরাসের ওষুধের নামে প্রতারণার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করি। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গ্রেপ্তার না করে মুচলেকা নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে সোপর্দ করেছি।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

করোনার ‘ওষুধ’ বলে কাশির সিরাপ বিক্রি, ডিলারকে জরিমানা

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০
ফারুক হাসান :=

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ‘ওষুধ’ বিক্রি করায় একজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এই বিজ্ঞাপনদাতার সন্ধান পায় স্থানীয় প্রশাসন। এরপর তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিনের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি করা হয়। দণ্ডিত মনসুর আলী (৪০) হাটহাজারি উপজেলার চিকদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

ভেষজ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনডেক্সের ডিলার মনসুর তুলশি পাতার কাশির সিরাপকে করোনার প্রতিষেধক বলে বিক্রি করছিলেন। প্রতি ফাইল ১৫০ টাকা হলেও টানা ১২০ দিন বা চার মাস খেতে হবে বলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন তিনি।

জানা গেছে, মনসুর আলী নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘বাসুডেক্স’ ও ‘থার্মোকেয়ার’ সিরাপের ছবি ব্যবহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের বরাত দিয়ে লিখেন, ‘ভেষজ ওষুধ করোনা প্রতিরোধে ব্যবহার করতে বলেছেন। বেশি উদ্বিগ্নদের জন্য করোনা প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক পাওয়া যাচ্ছে।’

একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। বিষয়টি হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমীনের নজরে এলে তিনি ফোন করে ওষুধ আছে কিনা জানতে চাইলে, আছে বলে জানান মনসুর। এরপর দোকানে গিয়ে ওষুধ চাইলে কাশির সিরাপ ধরিয়ে দেন তিনি।

ইউএনও মো. রুহুল বলেন, ‘আজ আমরা ছদ্মবেশে ওষুধ কিনতে যাই। তিনি প্রতি ফাইল ১৫০ টাকায় ১২০ দিন সেবনের পরামর্শ দিয়ে দুই বোতল ওষুধ দেন। পরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রতারণার কথা স্বীকার করেন মনসুর। করোনাভাইরাসের ওষুধের নামে প্রতারণার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করি। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গ্রেপ্তার না করে মুচলেকা নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে সোপর্দ করেছি।’