মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ভোলায় জেলা প্রশাসকের ভিডিও কনফারেন্স

ভোলা প্রতিনিধি॥
করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯) পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভোলা জেলা প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে তিনি ভোলা জেলার করোনাভাইরাস নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসনের ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভোলার মানুষের জন্য খুশি খবর যে এখনো করোনা ভাইরাসমুক্ত রয়েছে তারা। এ অবস্থাই যেন ঠিক থাকে, সেদিকেও সবাইকে ল্য রাখেতে হবে। বাইরে থেকে কাউকে আসতে দেওয়া যাবে না। কারণ বাইরের মানুষই এ ভাইরাস নিয়ে ছড়াবে।
জননেত্রী বলেন, মুজিববর্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। ভোলা একটি নদী ভাঙন কবলিত এলাকা, নদী ভাঙনে মানুষ সর্বশান্ত হয়ে যায়। তাই তিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে হবে, আমরা প্রতিটি গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দিবো, কেউ গৃহহীন থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ভোলা থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য তরমুজ থেকে শুরু করে অন্য সকল ফসল যাতে রাজধানী সহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছানোর যায় সে ব্যবস্থা করা হবে এবং সে মোতাবেক নির্দেশ দেওয়া আছে। পণ্য পরিবহন উম্মুক্ত থাকবে। এতে কেউ বাধা দিবে না।
প্রধানমন্ত্রী ভোলার করনো পরিস্থিতির কথা শোনেন এবং সবাইকে সরকারের নির্দশনা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান।
এরআগে, ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জেলার করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো করেনা রোগী পাওয়া যায়নি। ১৩৪ জনের নমুনা পরীা করা হয়েছে, এরমধ্যে ৮৮ জনের রিপোর্ট হাতে পেয়েছি, সবগুলো রিপোর্ট নেগেটিভ। এখন পর্যন্ত কারো করোনা ধরা পড়েনি। নৌ-বাহিনী, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করছি। জেলার আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠু এবং সুন্দর রয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা ৮৭৭ মেট্রিন টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা পেয়েছি। এরমধ্যে ১৬ লাখ টাকা ও ৪৭৭ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তালিকা তৈরির মাধ্যমে ৩০ হাজার ৪৯৭ দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারিভাবে ১৫ হাজার ১৭২ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সময় জেলা প্রশাসক ভোলা জেলাকে করোনামুক্ত রাখার ব্যাপারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা-২,বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মকুল, ভোলা-৩.লালমোহন-তজুমদ্দিন আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ভোলা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা আ’লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মঞ্জু, পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির, জেলা সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী, নৌ-বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নুর মোহাম্মদ, ডাকার-নার্স ও আলেমসমাজ সহ জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ভোলায় জেলা প্রশাসকের ভিডিও কনফারেন্স

প্রকাশের সময় : ১০:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০
ভোলা প্রতিনিধি॥
করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯) পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভোলা জেলা প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে তিনি ভোলা জেলার করোনাভাইরাস নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসনের ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভোলার মানুষের জন্য খুশি খবর যে এখনো করোনা ভাইরাসমুক্ত রয়েছে তারা। এ অবস্থাই যেন ঠিক থাকে, সেদিকেও সবাইকে ল্য রাখেতে হবে। বাইরে থেকে কাউকে আসতে দেওয়া যাবে না। কারণ বাইরের মানুষই এ ভাইরাস নিয়ে ছড়াবে।
জননেত্রী বলেন, মুজিববর্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। ভোলা একটি নদী ভাঙন কবলিত এলাকা, নদী ভাঙনে মানুষ সর্বশান্ত হয়ে যায়। তাই তিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে হবে, আমরা প্রতিটি গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দিবো, কেউ গৃহহীন থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ভোলা থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য তরমুজ থেকে শুরু করে অন্য সকল ফসল যাতে রাজধানী সহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছানোর যায় সে ব্যবস্থা করা হবে এবং সে মোতাবেক নির্দেশ দেওয়া আছে। পণ্য পরিবহন উম্মুক্ত থাকবে। এতে কেউ বাধা দিবে না।
প্রধানমন্ত্রী ভোলার করনো পরিস্থিতির কথা শোনেন এবং সবাইকে সরকারের নির্দশনা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান।
এরআগে, ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জেলার করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো করেনা রোগী পাওয়া যায়নি। ১৩৪ জনের নমুনা পরীা করা হয়েছে, এরমধ্যে ৮৮ জনের রিপোর্ট হাতে পেয়েছি, সবগুলো রিপোর্ট নেগেটিভ। এখন পর্যন্ত কারো করোনা ধরা পড়েনি। নৌ-বাহিনী, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করছি। জেলার আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠু এবং সুন্দর রয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা ৮৭৭ মেট্রিন টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা পেয়েছি। এরমধ্যে ১৬ লাখ টাকা ও ৪৭৭ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তালিকা তৈরির মাধ্যমে ৩০ হাজার ৪৯৭ দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারিভাবে ১৫ হাজার ১৭২ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সময় জেলা প্রশাসক ভোলা জেলাকে করোনামুক্ত রাখার ব্যাপারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা-২,বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মকুল, ভোলা-৩.লালমোহন-তজুমদ্দিন আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ভোলা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা আ’লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মঞ্জু, পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির, জেলা সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী, নৌ-বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নুর মোহাম্মদ, ডাকার-নার্স ও আলেমসমাজ সহ জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা।