শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনার মধ্যেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের তাগিদ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ

ইকবাল হোসেন ।। 

করোনাভাইরাসের ক্ষতি মোকাবেলায় ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে; কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড  মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্ন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ব্যবসায়ীদের জমা দেয়ার তাগিদ দিয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এই সংকট কবে কাটবে এবং ততদিনে শিল্পকারখানাসহ সামগ্রিক অর্থনীতির কী হবে-সেটিই এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ এ রকম চিন্তাকে সামনে নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আপৎকালীন সময় কাটিয়ে উঠতে ভারত জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) হিসাব জমা থেকে সাময়িক ও বিলম্ব সুদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাই এসব ভ্যাট শুল্ক আদায়ের পরিবর্তে আমাদের এখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বেশি সময় দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ১০ এপ্রিল ভ্যাটের দাখিলপত্র জমা দেয়ার সুবিধার্থে এনবিআর ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের সব ভ্যাট সার্কেল অফিস সীমিত পরিসরে অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এ সময়ে কর্মকর্তারা করোনাসংক্রান্ত সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনাররা এ বিষয় মনিটর করবেন।

এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এখন মহাদুর্যোগ চলছে। এই সময় প্রধানমন্ত্রী জরুরি ছুটি দিয়ে সবাইকে ঘরে থাকতে বলেছেন। অনেক জায়গা লকডাউন অবস্থায় আছে।

এই অবস্থায় কীভাবে ভ্যাট রিটার্ন দেয়া সম্ভব, তা বোধগম্য নয়। অফিসই খুলব কীভাবে, আর কর্মকর্তারা আসবেন কীভাবে? তিনি আরও বলেন, ছুটি শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যবসায়ীদের রিটার্ন জমা দিতে আপত্তি নেই। তবে এই সময়ে কোনোভাবেই রিটার্ন জমা দেয়া যাবে না।

ভ্যাট আইনের ৬৪ ধারায় বলা আছে, প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত বা নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে এনবিআর নির্ধারিত পদ্ধতিতে করমেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে আইনের ৮৫ ধারায় বলা আছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে এককালীন ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি ১২৭ ধারায় বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত তারিখে কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে নির্ধারিত তারিখের পরদিন থেকে মাসিক ২ শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ পরিশোধ করতে হবে।

খোদ প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যবসায়ীদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য দিয়েছেন। এ বিষয়টি এনবিআরকে বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা ট্যাক্স-ভ্যাট দিই; কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ব্যবসায়ী সমাজ যদি টিকে থাকতে না পারে, তাহলে তারা কার কাছ থেকে সুদ-আসলে এসব অর্থ আদায় করবেন?

মোদ্দা কথা, সরকার ঘোষিত ছুটিকালীন কোনো জরিমানা আদায় তো পরের কথা, আপৎকালীন পুরো সময়ের সব পাওনা তাদের মওকুফ করা উচিত।

বিটিএমএ-র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, একদিকে সরকার বলছে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না, অন্যদিকে এনবিআর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়ার কথা বলছে। বিষয়টি তো নির্বাহী বিভাগের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাছাড়া জীবনের চেয়ে কী আইন বড় হয়ে গেল? তিনি আরও বলেন, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণের স্বার্থে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা-কারখানা বন্ধ রেখেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনছে। কাজ ছাড়া শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে।

সেখানে এনবিআর কেন সামান্য আইন সংশোধন করতে পারে না। তিনি জানান, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আমরা এনবিআরে চিঠি দিয়েছি।

অবশ্য নাম প্রকাশ না-করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ভ্যাট আইনটি নতুন। এটি এ বছরই প্রথম চালু হয়েছে। আইনটিতে এনবিআরকে রিটার্ন দাখিল করার সময় বর্ধিত করার জন্য ক্ষমতায়ন করা হয়নি। আগামী বাজেটের সময় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হবে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

করোনার মধ্যেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের তাগিদ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০
ইকবাল হোসেন ।। 

করোনাভাইরাসের ক্ষতি মোকাবেলায় ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে; কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড  মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্ন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ব্যবসায়ীদের জমা দেয়ার তাগিদ দিয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এই সংকট কবে কাটবে এবং ততদিনে শিল্পকারখানাসহ সামগ্রিক অর্থনীতির কী হবে-সেটিই এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশ এ রকম চিন্তাকে সামনে নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আপৎকালীন সময় কাটিয়ে উঠতে ভারত জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) হিসাব জমা থেকে সাময়িক ও বিলম্ব সুদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাই এসব ভ্যাট শুল্ক আদায়ের পরিবর্তে আমাদের এখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বেশি সময় দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ১০ এপ্রিল ভ্যাটের দাখিলপত্র জমা দেয়ার সুবিধার্থে এনবিআর ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের সব ভ্যাট সার্কেল অফিস সীমিত পরিসরে অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এ সময়ে কর্মকর্তারা করোনাসংক্রান্ত সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনাররা এ বিষয় মনিটর করবেন।

এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এখন মহাদুর্যোগ চলছে। এই সময় প্রধানমন্ত্রী জরুরি ছুটি দিয়ে সবাইকে ঘরে থাকতে বলেছেন। অনেক জায়গা লকডাউন অবস্থায় আছে।

এই অবস্থায় কীভাবে ভ্যাট রিটার্ন দেয়া সম্ভব, তা বোধগম্য নয়। অফিসই খুলব কীভাবে, আর কর্মকর্তারা আসবেন কীভাবে? তিনি আরও বলেন, ছুটি শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যবসায়ীদের রিটার্ন জমা দিতে আপত্তি নেই। তবে এই সময়ে কোনোভাবেই রিটার্ন জমা দেয়া যাবে না।

ভ্যাট আইনের ৬৪ ধারায় বলা আছে, প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত বা নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে এনবিআর নির্ধারিত পদ্ধতিতে করমেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে আইনের ৮৫ ধারায় বলা আছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে এককালীন ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি ১২৭ ধারায় বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত তারিখে কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে নির্ধারিত তারিখের পরদিন থেকে মাসিক ২ শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ পরিশোধ করতে হবে।

খোদ প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যবসায়ীদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য দিয়েছেন। এ বিষয়টি এনবিআরকে বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা ট্যাক্স-ভ্যাট দিই; কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ব্যবসায়ী সমাজ যদি টিকে থাকতে না পারে, তাহলে তারা কার কাছ থেকে সুদ-আসলে এসব অর্থ আদায় করবেন?

মোদ্দা কথা, সরকার ঘোষিত ছুটিকালীন কোনো জরিমানা আদায় তো পরের কথা, আপৎকালীন পুরো সময়ের সব পাওনা তাদের মওকুফ করা উচিত।

বিটিএমএ-র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, একদিকে সরকার বলছে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না, অন্যদিকে এনবিআর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়ার কথা বলছে। বিষয়টি তো নির্বাহী বিভাগের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাছাড়া জীবনের চেয়ে কী আইন বড় হয়ে গেল? তিনি আরও বলেন, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণের স্বার্থে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা-কারখানা বন্ধ রেখেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনছে। কাজ ছাড়া শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে।

সেখানে এনবিআর কেন সামান্য আইন সংশোধন করতে পারে না। তিনি জানান, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আমরা এনবিআরে চিঠি দিয়েছি।

অবশ্য নাম প্রকাশ না-করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ভ্যাট আইনটি নতুন। এটি এ বছরই প্রথম চালু হয়েছে। আইনটিতে এনবিআরকে রিটার্ন দাখিল করার সময় বর্ধিত করার জন্য ক্ষমতায়ন করা হয়নি। আগামী বাজেটের সময় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হবে।