শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রবৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপানকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

ইকবাল হোসেন ।। করোনার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের অর্থনীতিতেই ধস নেমেছে। এতকিছুর পরও চলতি অর্থবছরে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। তবে করোনা বিদায় নিলে আগামী অর্থবছরই (২০২০-২১) দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো, চীন, জাপান, রাশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, পাকিস্তানের মতো দেশকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের। যা বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে ৯ শতাংশে।গত ১৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের () এক প্রতিবেদনে এমনটাই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

আইএমএফের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) বাংলাদেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। করোনার প্রভাবে চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়াবে ২ শতাংশে। তবে তার পরের অর্থবছরই (২০২০-২১) দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে পৃথিবী স্বাভাবিক হয়ে গেলে ২০২০-২১ অর্থবছরে (আইএমএফের হিসাবে ২০২১ সাল) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ইউরোপীয় অঞ্চলে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, জাপানে ৩ শতাংশ, চীনে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, ভারতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, রাশিয়ায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্রাজিলে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, সৌদি আরবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশে সাড়ে ৯ শতাংশ।

করোনার কারণে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নামলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া, জাপান, ব্রাজিল, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানের কোনো প্রবৃদ্ধি থাকবে না, বরং ঋণাত্মক হবে বলেও জানিয়েছে আইএমএফ।

তাদের পূর্বাভাস বলছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে (আইএমএফের হিসাবে ২০২০ সালে) জিডিপির প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ইউরোপীয় অঞ্চলে ঋণাত্মক ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, জাপানে ঋণাত্মক ৫ দশমিক ২ শতাংশ, চীনে ১ দশমিক ২ শতাংশ, ভারতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, রাশিয়ায় ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্রাজিলে ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, সৌদি আরবে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ঋণাত্মক ১ দশমিক ৫ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ২ শতাংশ।

আইএমএফের দুই দিন আগে ১২ এপ্রিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংকও। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনের সঙ্গে আইএমএফের প্রতিবেদনে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৯ শতাংশ। আর বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নামতে পারে।

আরেকটি গরমিল হলো- আইএমএফ বলেছে, গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আর বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

বাংলাদেশের বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। করোনাভাইরাসের কারণে চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ২ থেকে ৩ শতাংশে। তার পরের অর্থবছরে (২০২০-২১) প্রবৃদ্ধির পরিমাণ আরও কমতে পারে। এ সময় ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে অল্প বেড়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ দশমিক ৮ থেকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

প্রবৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপানকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৭:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

ইকবাল হোসেন ।। করোনার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের অর্থনীতিতেই ধস নেমেছে। এতকিছুর পরও চলতি অর্থবছরে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। তবে করোনা বিদায় নিলে আগামী অর্থবছরই (২০২০-২১) দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো, চীন, জাপান, রাশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, পাকিস্তানের মতো দেশকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের। যা বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে ৯ শতাংশে।গত ১৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের () এক প্রতিবেদনে এমনটাই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

আইএমএফের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) বাংলাদেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। করোনার প্রভাবে চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়াবে ২ শতাংশে। তবে তার পরের অর্থবছরই (২০২০-২১) দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে পৃথিবী স্বাভাবিক হয়ে গেলে ২০২০-২১ অর্থবছরে (আইএমএফের হিসাবে ২০২১ সাল) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ইউরোপীয় অঞ্চলে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, জাপানে ৩ শতাংশ, চীনে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, ভারতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, রাশিয়ায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্রাজিলে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, সৌদি আরবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশে সাড়ে ৯ শতাংশ।

করোনার কারণে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নামলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া, জাপান, ব্রাজিল, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানের কোনো প্রবৃদ্ধি থাকবে না, বরং ঋণাত্মক হবে বলেও জানিয়েছে আইএমএফ।

তাদের পূর্বাভাস বলছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে (আইএমএফের হিসাবে ২০২০ সালে) জিডিপির প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ইউরোপীয় অঞ্চলে ঋণাত্মক ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, জাপানে ঋণাত্মক ৫ দশমিক ২ শতাংশ, চীনে ১ দশমিক ২ শতাংশ, ভারতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, রাশিয়ায় ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্রাজিলে ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, সৌদি আরবে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ঋণাত্মক ১ দশমিক ৫ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ২ শতাংশ।

আইএমএফের দুই দিন আগে ১২ এপ্রিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংকও। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনের সঙ্গে আইএমএফের প্রতিবেদনে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৯ শতাংশ। আর বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নামতে পারে।

আরেকটি গরমিল হলো- আইএমএফ বলেছে, গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আর বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

বাংলাদেশের বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। করোনাভাইরাসের কারণে চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ২ থেকে ৩ শতাংশে। তার পরের অর্থবছরে (২০২০-২১) প্রবৃদ্ধির পরিমাণ আরও কমতে পারে। এ সময় ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে অল্প বেড়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ দশমিক ৮ থেকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।