শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভারতের মসজিদে লুকিয়ে থাকা ১৯ জামাতি গ্রেফতার

মাহবুবুল আলম টুটুল ।। 

মসজিদে লুকিয়ে থাকা ১৯ তাবলীগ জামাতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। একটি মসজিদে লুকিয়েছিলেন তাবলীগ জামাতের ওই সদস্যরা। দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ধৃতরা।

লকডাউন ঘোষণা হতেই এরপর তারা লুকিয়ে পড়েন শহরের দুটি মসজিদে। প্রশাসনের বারবার আবেদনেও সাড়া দেননি তারা। শেষমেশ সূত্র মারফত পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশ থেকেই ভারতে ভীষণভাবে ছড়িয়ে পড়ে মারণ করোনার সংক্রমণ। দিল্লির ওই সমাবেশে বিশ্বের একাধিক দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন যোগ দিয়েছিলেন। সমাবেশ ফেরত অনেককেই দেশের একাধিক রাজ্যে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। পরে তাদের অনেকের শরীরেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।

নিজামুদ্দিনের ওই সমাবেশের পরই দেশে লাফিয়ে বাড়ে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় সরকার ওই সমাবেশে যোগ দেওয়া প্রত্যেককে সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেয়। কারও শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা দিলেই তড়িঘড়ি যাতে তাদের চিকিৎসা করা যায় সেই জন্য ওই পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্র।

এত কিছুর পরেও সব আবেদন অগ্রাহ্য করে লুকিয়ে বসেছিলেন ১৯ জন জামাতি। খোঁজ পেয়েই পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায় ৷ ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন বিদেশি। গ্রেফতার হওয়া তাবলীগ জামাতিদের মধ্যে ৭ জন ইন্দোনেশিয়ার, ৯ জন থাইল্যান্ডের।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও এরা নিজেদের করোনা সংক্রমণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসেননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি এই তাবলীগ জামাতের সদস্যরা দুটি মসজিদে লুকিয়েছিলেন। তাদের লুকিয়ে থাকার ঘটনায় সাহায্যের অভিযোগে এলাহাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওই প্রফেসর বিদেশি এই তাবলীগ জামাতের সদস্যদের বাড়িতে লুকিয়ে থাকতে বলেছিলেন একইসঙ্গে তাদের সাহায্যও করছিলেন। এখনও পর্যন্ত ওই ১৯ জামাতি ছাড়াও তাদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করার অভিযোগে আরও ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ভারতের মসজিদে লুকিয়ে থাকা ১৯ জামাতি গ্রেফতার

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

মাহবুবুল আলম টুটুল ।। 

মসজিদে লুকিয়ে থাকা ১৯ তাবলীগ জামাতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। একটি মসজিদে লুকিয়েছিলেন তাবলীগ জামাতের ওই সদস্যরা। দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ধৃতরা।

লকডাউন ঘোষণা হতেই এরপর তারা লুকিয়ে পড়েন শহরের দুটি মসজিদে। প্রশাসনের বারবার আবেদনেও সাড়া দেননি তারা। শেষমেশ সূত্র মারফত পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশ থেকেই ভারতে ভীষণভাবে ছড়িয়ে পড়ে মারণ করোনার সংক্রমণ। দিল্লির ওই সমাবেশে বিশ্বের একাধিক দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন যোগ দিয়েছিলেন। সমাবেশ ফেরত অনেককেই দেশের একাধিক রাজ্যে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। পরে তাদের অনেকের শরীরেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।

নিজামুদ্দিনের ওই সমাবেশের পরই দেশে লাফিয়ে বাড়ে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় সরকার ওই সমাবেশে যোগ দেওয়া প্রত্যেককে সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেয়। কারও শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা দিলেই তড়িঘড়ি যাতে তাদের চিকিৎসা করা যায় সেই জন্য ওই পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্র।

এত কিছুর পরেও সব আবেদন অগ্রাহ্য করে লুকিয়ে বসেছিলেন ১৯ জন জামাতি। খোঁজ পেয়েই পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায় ৷ ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন বিদেশি। গ্রেফতার হওয়া তাবলীগ জামাতিদের মধ্যে ৭ জন ইন্দোনেশিয়ার, ৯ জন থাইল্যান্ডের।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও এরা নিজেদের করোনা সংক্রমণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসেননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি এই তাবলীগ জামাতের সদস্যরা দুটি মসজিদে লুকিয়েছিলেন। তাদের লুকিয়ে থাকার ঘটনায় সাহায্যের অভিযোগে এলাহাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওই প্রফেসর বিদেশি এই তাবলীগ জামাতের সদস্যদের বাড়িতে লুকিয়ে থাকতে বলেছিলেন একইসঙ্গে তাদের সাহায্যও করছিলেন। এখনও পর্যন্ত ওই ১৯ জামাতি ছাড়াও তাদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করার অভিযোগে আরও ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।