শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চিত্রশিল্পীদের বকেয়া আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

মাহবুবুল আলম টুটুল ।।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চিত্রশিল্পীদের পাওনা টাকা আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ তৃণমূল কমার্শিয়াল আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। ভিশন অ্যাডভারটাইজিং ও বাংলাদেশ তৃণমূল কমার্শিয়াল আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মো. মুরাদ সিকদার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সেখানে মুরাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তৃণমূল পর্যায়ে বাংলাদেশে কমপক্ষে এক লক্ষ আর্টিস্ট আছে! আজ এই দুর্যোগের সময় এক লক্ষ আর্টিস্ট পরিবার খুব একটা ভালো নেই। কারণ আপনার ত্রাণ তহবিলে যে সকল কোম্পানি মোটা অংকের টাকা সহযোগিতা করছে আপনি দয়া করে তাদেরকে বলেন, এ্যাড ফার্মের মালিকদের বিলগুলো দিতে।‘

দেশের ইতিহাসে আর্টিস্টদের ভূমিকা তুলে ধরে মুরাদ লেখেন, ‘বাংলাদেশ আর্ট শিল্পীরা কিন্তু ৫২ ভাষা আন্দোলন হাতে লেখা প্লাকার্ড লিখে বাংলা ভাষার আন্দোলন করে ছিলো শুধু ভাষার জন্য। ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ঠিক একইভাবে রং-তুলি হাতে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন তুলে ধরেছিলো এই আর্ট শিল্পীগোষ্ঠী।‘

আর্টিস্টদের কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন কোম্পানির কাছে পড়ে আছে উল্লেখ করে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমরা কোন কোম্পানির কাছে সাহায্য চাচ্ছি না। আমাদের কোটি কোটি টাকার বিল কোম্পানির নিকট পড়ে আছে এই দুর্যোগের অযুহাত দেখিয়ে আমাদের বিলগুলো দিচ্ছি না কিন্তু তাদের কার্যক্রম ঠিক চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের বিল নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নাই, আজ আমরা আর্টিস্টগোষ্ঠী চরম সমস্যাতে আছি।‘

অ্যাডফার্মের পাওনা আদায়ের সঙ্গে আর্টিস্টদের বেতন জড়িত জানিয়ে মুরাদ লেখেন, ‘আমরা অ্যাড ফার্ম বিল না পেলে আর্টিস্টদেরকে আমরা বিল কিংবা বেতন দিতে পারছি না, আর্টিস্টরা তাদের ফ্যামিলি নিয়ে চরম সংকটময় জীবন যাপন করতেছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মাসের ভিতর, আমাদের প্রাপ্ত বিল না পেলে, আমরা প্রতিটি কোম্পানির সামনে অবস্থান করে প্রতিবাদ সমাবেশ করবো। কারণ আমাদের এ সকল বিজ্ঞাপনের কাজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করতে হয় এবং বিভিন্নভাবে লোন নিয়ে করতে হয়। কারণ আমরা এদেশের স্বাধীন জনগণ আমাদের ও বাঁচার অধিকার আছে।‘

এবিষয়ে মুরাদ সিকদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দেশের অ্যাডফার্মগুলোতে হাজার হাজার আর্টিস্ট কাজ করে। এটা খুব আহামরি কোনো পেশা না। অনেকেই কেবল ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এ পেশায় আছেন। কিন্তু তাই বলেও তাদের পাওনাটা আমরা তাদের দেব না? আমরা চাই, প্রতিষ্ঠানগুলো বকেয়া বিল পরিশোধ করে দিক। আর্টিস্টরা এখন কর্মহীন। বকেয়া টাকা পেলেও এই দুর্দিনে তারা নতুন করে সমস্যায় পড়বে না। আমরা প্রণোদনা চাই না। আমরা আমাদের পাওনা টাকা চাই।‘

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

চিত্রশিল্পীদের বকেয়া আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

মাহবুবুল আলম টুটুল ।।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চিত্রশিল্পীদের পাওনা টাকা আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ তৃণমূল কমার্শিয়াল আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। ভিশন অ্যাডভারটাইজিং ও বাংলাদেশ তৃণমূল কমার্শিয়াল আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মো. মুরাদ সিকদার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সেখানে মুরাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তৃণমূল পর্যায়ে বাংলাদেশে কমপক্ষে এক লক্ষ আর্টিস্ট আছে! আজ এই দুর্যোগের সময় এক লক্ষ আর্টিস্ট পরিবার খুব একটা ভালো নেই। কারণ আপনার ত্রাণ তহবিলে যে সকল কোম্পানি মোটা অংকের টাকা সহযোগিতা করছে আপনি দয়া করে তাদেরকে বলেন, এ্যাড ফার্মের মালিকদের বিলগুলো দিতে।‘

দেশের ইতিহাসে আর্টিস্টদের ভূমিকা তুলে ধরে মুরাদ লেখেন, ‘বাংলাদেশ আর্ট শিল্পীরা কিন্তু ৫২ ভাষা আন্দোলন হাতে লেখা প্লাকার্ড লিখে বাংলা ভাষার আন্দোলন করে ছিলো শুধু ভাষার জন্য। ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ঠিক একইভাবে রং-তুলি হাতে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন তুলে ধরেছিলো এই আর্ট শিল্পীগোষ্ঠী।‘

আর্টিস্টদের কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন কোম্পানির কাছে পড়ে আছে উল্লেখ করে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমরা কোন কোম্পানির কাছে সাহায্য চাচ্ছি না। আমাদের কোটি কোটি টাকার বিল কোম্পানির নিকট পড়ে আছে এই দুর্যোগের অযুহাত দেখিয়ে আমাদের বিলগুলো দিচ্ছি না কিন্তু তাদের কার্যক্রম ঠিক চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের বিল নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নাই, আজ আমরা আর্টিস্টগোষ্ঠী চরম সমস্যাতে আছি।‘

অ্যাডফার্মের পাওনা আদায়ের সঙ্গে আর্টিস্টদের বেতন জড়িত জানিয়ে মুরাদ লেখেন, ‘আমরা অ্যাড ফার্ম বিল না পেলে আর্টিস্টদেরকে আমরা বিল কিংবা বেতন দিতে পারছি না, আর্টিস্টরা তাদের ফ্যামিলি নিয়ে চরম সংকটময় জীবন যাপন করতেছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মাসের ভিতর, আমাদের প্রাপ্ত বিল না পেলে, আমরা প্রতিটি কোম্পানির সামনে অবস্থান করে প্রতিবাদ সমাবেশ করবো। কারণ আমাদের এ সকল বিজ্ঞাপনের কাজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করতে হয় এবং বিভিন্নভাবে লোন নিয়ে করতে হয়। কারণ আমরা এদেশের স্বাধীন জনগণ আমাদের ও বাঁচার অধিকার আছে।‘

এবিষয়ে মুরাদ সিকদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দেশের অ্যাডফার্মগুলোতে হাজার হাজার আর্টিস্ট কাজ করে। এটা খুব আহামরি কোনো পেশা না। অনেকেই কেবল ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এ পেশায় আছেন। কিন্তু তাই বলেও তাদের পাওনাটা আমরা তাদের দেব না? আমরা চাই, প্রতিষ্ঠানগুলো বকেয়া বিল পরিশোধ করে দিক। আর্টিস্টরা এখন কর্মহীন। বকেয়া টাকা পেলেও এই দুর্দিনে তারা নতুন করে সমস্যায় পড়বে না। আমরা প্রণোদনা চাই না। আমরা আমাদের পাওনা টাকা চাই।‘