মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গুজবের ভেতর ‘শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন’ কিম জং উন

আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান ।। 

মৃত্যুর গুজব ওঠার পর পর্যটন এলাকার কর্মীদের ‘শুভেচ্ছা পাঠালেন’ উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উন। দেশটির প্রধান সংবাদমাধ্যম রোডং সিনমুন সেই শুভেচ্ছা বার্তা ছেপেছে। দ্য কোরিয়া হেরাল্ডও একই খবর দিয়েছে।পত্রিকা দুটি লিখেছে, ‘ওনসান-কালমা পর্যটন অঞ্চলে যারা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সুপ্রিম লিডার কিম জং-উন।’

কিমকে নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয় গত ১৫ এপ্রিল। তার দাদা ও দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুংয়ের জন্মদিনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়নি। তার এ অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয় জল্পনা কল্পনা।এরপর উত্তর কোরিয়ার পক্ষ ত্যাগকারীদের মিডিয়া অনলাইন ডেইলি এনকে’র খবরে বলা হয়, হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচারের পর নর্থ পিয়ংগাও প্রদেশে কিমের চিকিৎসা চলছে।

দুদিন আগে হংকংয়ের একটি টেলিভিশনে আবার কিমের মৃত্যুর খবর আসে। একই সঙ্গে রয়টার্স জানায়, কিমের চিকিৎসার জন্য চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে।উত্তর কোরিয়া পৃথিবী থেকে রীতিমতো ‘বিচ্ছিন্ন’ একটি দেশ। তারা নিজেদের মতো করে রাষ্ট্রীয় কাজ চালায়। সেদেশের শীর্ষ কর্মকর্তার স্বাস্থ্য বিষয়ক কোনো খবর মিডিয়ায় আসে না বললেই চলে।

দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী কিম সাধারণ মানুষের থেকে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে চুলে বিশেষ ‘স্টাইল’ করেন। তার মতো করে দেশটিতে আর কেউ চুল পর্যন্ত কাটতে পারেন না! এমন শতশত বিধিনিষেধ মানতে হয় উত্তর কোরিয়ার জনগণকে।৩৬ বছর বয়সী কিম প্রচুর ধূমপান করেন। তার পরিবারের হার্টের সমস্যার ইতিহাস আছে।তার আবার এমন উধাও হয়ে যাওয়ারও ইতিহাস আছে। এর আগে ২০১৪ সালে প্রায় এক মাস কোনো খবর ছিল না। হঠাৎ একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সৈকতে হাঁটছেন।

এবার তার খবর না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া শুরু থেকে দাবি করে, কোনো গোপন কাজ সামলাতে কিম কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে আসছেন না।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের বিদেশ নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা চুং-ইন মুন রবিবার ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত কিম জং-উন বেঁচে আছেন এবং ভালো আছেন।’

‘তিনি ১৩ এপ্রিল থেকে ওনসান এলাকায় অবস্থান করছেন। সন্দেহজনক কোনো আচরণ এখনো বোঝা যায়নি।’তিনি জানান, কিমের হলিডে রিসোর্টের কাছে একটি ব্যক্তিগত রেলস্টেশন আছে। সেখানে তার ট্রেন দেখা গেছে।‘কিম ট্রেনেই চলাফেরা করেন। কিন্তু এই ট্রেন মানেই তার অবস্থান নিশ্চিত নয়। তবে এই এলাকায়ই তিনি আছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

পঞ্চগড়ের জগদল বাজারের জবাইখানা তালাবদ্ধ, ক্রেতা-বিক্রেতা বিপাকে 

গুজবের ভেতর ‘শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন’ কিম জং উন

প্রকাশের সময় : ১২:৫৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান ।। 

মৃত্যুর গুজব ওঠার পর পর্যটন এলাকার কর্মীদের ‘শুভেচ্ছা পাঠালেন’ উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উন। দেশটির প্রধান সংবাদমাধ্যম রোডং সিনমুন সেই শুভেচ্ছা বার্তা ছেপেছে। দ্য কোরিয়া হেরাল্ডও একই খবর দিয়েছে।পত্রিকা দুটি লিখেছে, ‘ওনসান-কালমা পর্যটন অঞ্চলে যারা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সুপ্রিম লিডার কিম জং-উন।’

কিমকে নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয় গত ১৫ এপ্রিল। তার দাদা ও দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুংয়ের জন্মদিনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়নি। তার এ অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয় জল্পনা কল্পনা।এরপর উত্তর কোরিয়ার পক্ষ ত্যাগকারীদের মিডিয়া অনলাইন ডেইলি এনকে’র খবরে বলা হয়, হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচারের পর নর্থ পিয়ংগাও প্রদেশে কিমের চিকিৎসা চলছে।

দুদিন আগে হংকংয়ের একটি টেলিভিশনে আবার কিমের মৃত্যুর খবর আসে। একই সঙ্গে রয়টার্স জানায়, কিমের চিকিৎসার জন্য চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে।উত্তর কোরিয়া পৃথিবী থেকে রীতিমতো ‘বিচ্ছিন্ন’ একটি দেশ। তারা নিজেদের মতো করে রাষ্ট্রীয় কাজ চালায়। সেদেশের শীর্ষ কর্মকর্তার স্বাস্থ্য বিষয়ক কোনো খবর মিডিয়ায় আসে না বললেই চলে।

দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী কিম সাধারণ মানুষের থেকে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে চুলে বিশেষ ‘স্টাইল’ করেন। তার মতো করে দেশটিতে আর কেউ চুল পর্যন্ত কাটতে পারেন না! এমন শতশত বিধিনিষেধ মানতে হয় উত্তর কোরিয়ার জনগণকে।৩৬ বছর বয়সী কিম প্রচুর ধূমপান করেন। তার পরিবারের হার্টের সমস্যার ইতিহাস আছে।তার আবার এমন উধাও হয়ে যাওয়ারও ইতিহাস আছে। এর আগে ২০১৪ সালে প্রায় এক মাস কোনো খবর ছিল না। হঠাৎ একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সৈকতে হাঁটছেন।

এবার তার খবর না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া শুরু থেকে দাবি করে, কোনো গোপন কাজ সামলাতে কিম কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে আসছেন না।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের বিদেশ নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা চুং-ইন মুন রবিবার ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত কিম জং-উন বেঁচে আছেন এবং ভালো আছেন।’

‘তিনি ১৩ এপ্রিল থেকে ওনসান এলাকায় অবস্থান করছেন। সন্দেহজনক কোনো আচরণ এখনো বোঝা যায়নি।’তিনি জানান, কিমের হলিডে রিসোর্টের কাছে একটি ব্যক্তিগত রেলস্টেশন আছে। সেখানে তার ট্রেন দেখা গেছে।‘কিম ট্রেনেই চলাফেরা করেন। কিন্তু এই ট্রেন মানেই তার অবস্থান নিশ্চিত নয়। তবে এই এলাকায়ই তিনি আছেন।