শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সরকার মানুষকে বাঁচানোর জন্য কাজ করেনি: রিজভী

মামুন বাবু :/=

জনগণের ম্যান্ডেট বিহীন বর্তমান সরকার করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ। তারা মানুষকে বাঁচানোর জন্য কোনো কাজ করেনি। শুধু নিজেদের নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করা, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণকালে এসব কথা বলেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে খাদ্য বিতরণের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, আজকে যারা পিস্তল দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে, অত্যাচার করছে তারা বাংলাদেশ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে পালিয়ে গেছে। একটি ছেলে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দিলেই তাকে রাতের অন্ধকারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে আসে। আর এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে হত্যার হুমকি দেয়া শিকদার গ্রুপের দুইজন ছেলে কি করে চলে গেল? মেডিকেল ভিসা দিল কি করে? তাদের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশ সেখানে কি করল? পুলিশ কিছুই করেনি। তার মানে শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধীদেরকে নানাভাবে রেহাই দেয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলছে দেশে। এভাবে চলতে পারে না।

তিনি বলেন, আমাদেরকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। হয়রানি করা হচ্ছে। কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তারপরও আমরা মানুষের দুঃসময় বসে নেই। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

রিজভী বলেন, করোনার প্রকোপে সারা দেশে কর্মহীন মানুষদের হাহাকার চলছে। আরেকদিকে সরকারের ত্রাণ লুটপাট চলছে। প্রধানমন্ত্রীর আড়াই হাজার টাকা থেকেও আত্মসাৎ করা হয়েছে। জনগণের সমর্থনহীন সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই জনগণের টাকা আত্মসাৎ করছে। জনগণের ত্রাণ আত্মসাৎ করছে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি রোগীদের জায়গা দিতে পারছে না। ঢাকার বাহিরে তো চিকিৎসা পাচ্ছে না। এর মধ্যে যদি কেউ করোনা ছাড়া হৃদরোগ শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয় তারা কোনো হাসপাতালে সিট পাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে আগে করোনা টেস্ট করুন। করোনা টেস্ট করতে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। অনেক জায়গায় চারদিনও লেগে যায়। তাই অনেক রোগী অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মারা যাচ্ছেন।

জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব জাকির হোসেন রোকনের পরিচালনায় খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাসাসের সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ চৌধুরী, শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, ডাক্তার আরিফ, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, ফেরদৌস ফকির, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মাজহার আলী শিবা শানু প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ব্রায়ান লারার অপরাজিত ৪০০ রানের রেকর্ড, দু’দশক আজ

সরকার মানুষকে বাঁচানোর জন্য কাজ করেনি: রিজভী

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২০

মামুন বাবু :/=

জনগণের ম্যান্ডেট বিহীন বর্তমান সরকার করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ। তারা মানুষকে বাঁচানোর জন্য কোনো কাজ করেনি। শুধু নিজেদের নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করা, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণকালে এসব কথা বলেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে খাদ্য বিতরণের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, আজকে যারা পিস্তল দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে, অত্যাচার করছে তারা বাংলাদেশ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে পালিয়ে গেছে। একটি ছেলে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দিলেই তাকে রাতের অন্ধকারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে আসে। আর এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে হত্যার হুমকি দেয়া শিকদার গ্রুপের দুইজন ছেলে কি করে চলে গেল? মেডিকেল ভিসা দিল কি করে? তাদের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশ সেখানে কি করল? পুলিশ কিছুই করেনি। তার মানে শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধীদেরকে নানাভাবে রেহাই দেয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলছে দেশে। এভাবে চলতে পারে না।

তিনি বলেন, আমাদেরকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। হয়রানি করা হচ্ছে। কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তারপরও আমরা মানুষের দুঃসময় বসে নেই। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

রিজভী বলেন, করোনার প্রকোপে সারা দেশে কর্মহীন মানুষদের হাহাকার চলছে। আরেকদিকে সরকারের ত্রাণ লুটপাট চলছে। প্রধানমন্ত্রীর আড়াই হাজার টাকা থেকেও আত্মসাৎ করা হয়েছে। জনগণের সমর্থনহীন সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই জনগণের টাকা আত্মসাৎ করছে। জনগণের ত্রাণ আত্মসাৎ করছে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি রোগীদের জায়গা দিতে পারছে না। ঢাকার বাহিরে তো চিকিৎসা পাচ্ছে না। এর মধ্যে যদি কেউ করোনা ছাড়া হৃদরোগ শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয় তারা কোনো হাসপাতালে সিট পাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে আগে করোনা টেস্ট করুন। করোনা টেস্ট করতে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। অনেক জায়গায় চারদিনও লেগে যায়। তাই অনেক রোগী অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মারা যাচ্ছেন।

জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব জাকির হোসেন রোকনের পরিচালনায় খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাসাসের সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ চৌধুরী, শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, ডাক্তার আরিফ, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, ফেরদৌস ফকির, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মাজহার আলী শিবা শানু প্রমুখ।