সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩, ১২ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাজেট ২০২০-২১ ব্যক্তিগত গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ছে

নুরুজ্জামান লিটন:/=

আগামী বাজেটে ব্যক্তিগত গাড়ি রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর বাড়ানো হচ্ছে। এতে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের খরচ বাড়বে। অবশ্য বিত্তশালীদের নানা করছাড়ও দেয়া হচ্ছে। তবে সম্পদ কর বা সারচার্জ অপরিবর্তিত থাকছে। একই সঙ্গে আয়করের হারও কমানো হচ্ছে।

বর্তমানে প্রাইভেট কার মালিকদের সিসিভেদে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন বা রি-রেজিস্ট্রেশনের সময় অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। যেমন ১৫০০ সিসির কম ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির অগ্রিম কর ১৫ হাজার টাকা ধার্য আছে। ১৫০০ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকা, ২০০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ২৫০০ থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা, ৩০০০ থেকে ৩৫০০ সিসি পর্যন্ত ১ লাখ টাকা, ৩৫০০ সিসি বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং মাইক্রোবাসের জন্য ২০ হাজার টাকা আয়কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে সব ধরনের গাড়ির অগ্রিম কর বাড়ানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে ১৫০০ সিসির কম ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির জন্য ২৫ হাজার, ১৫০০ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ২০০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা, ২৫০০ থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ৩০০০ থেকে ৩৫০০ সিসি পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩৫০০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাসের জন্য ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর ধার্য করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে এবং করহার কমানো হচ্ছে। ফলে টানা পাঁচ বছর পর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে। এতে নিুমধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীরা উপকৃত হলেও বিত্তবানদের কম কর দিতে হবে।

তবে বিত্তবানদের সারচার্জ বা সম্পদ কর অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা। এর বেশি বার্ষিক আয় থাকলে এলাকাভেদে ন্যূনতম ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আয়কর দেয়ার বিধান আছে। মহিলা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৩ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী করদাতারা ৪ লাখ টাকা ও গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতারা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।

আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হচ্ছে। মহিলা, প্রতিবন্ধী ও গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সীমা বাড়ছে আনুপাতিক হারে। অন্যদিকে করহার কমানো হচ্ছে। সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। একইভাবে সর্বনিু করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৪৭ লাখ টাকা বেশি আয় হলে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দেয়ার বিধান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রে বাজেট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, করোনাকালে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের কষ্ট লাঘবে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ভারতও করমুক্ত আয়সীমা দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫ লাখ রুপি করেছে। যদিও এনবিআর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পক্ষে ছিল না। কারণ করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলে করদাতাদের বড় একটি অংশ করজালের বাইরে চলে যাবে। এতে আদায়ও কমবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

বাজেট ২০২০-২১ ব্যক্তিগত গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ছে

প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০

নুরুজ্জামান লিটন:/=

আগামী বাজেটে ব্যক্তিগত গাড়ি রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর বাড়ানো হচ্ছে। এতে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের খরচ বাড়বে। অবশ্য বিত্তশালীদের নানা করছাড়ও দেয়া হচ্ছে। তবে সম্পদ কর বা সারচার্জ অপরিবর্তিত থাকছে। একই সঙ্গে আয়করের হারও কমানো হচ্ছে।

বর্তমানে প্রাইভেট কার মালিকদের সিসিভেদে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন বা রি-রেজিস্ট্রেশনের সময় অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। যেমন ১৫০০ সিসির কম ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির অগ্রিম কর ১৫ হাজার টাকা ধার্য আছে। ১৫০০ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকা, ২০০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ২৫০০ থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা, ৩০০০ থেকে ৩৫০০ সিসি পর্যন্ত ১ লাখ টাকা, ৩৫০০ সিসি বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং মাইক্রোবাসের জন্য ২০ হাজার টাকা আয়কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে সব ধরনের গাড়ির অগ্রিম কর বাড়ানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে ১৫০০ সিসির কম ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির জন্য ২৫ হাজার, ১৫০০ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ২০০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা, ২৫০০ থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ৩০০০ থেকে ৩৫০০ সিসি পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩৫০০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাসের জন্য ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর ধার্য করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে এবং করহার কমানো হচ্ছে। ফলে টানা পাঁচ বছর পর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে। এতে নিুমধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীরা উপকৃত হলেও বিত্তবানদের কম কর দিতে হবে।

তবে বিত্তবানদের সারচার্জ বা সম্পদ কর অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা। এর বেশি বার্ষিক আয় থাকলে এলাকাভেদে ন্যূনতম ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আয়কর দেয়ার বিধান আছে। মহিলা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৩ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী করদাতারা ৪ লাখ টাকা ও গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতারা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।

আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হচ্ছে। মহিলা, প্রতিবন্ধী ও গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সীমা বাড়ছে আনুপাতিক হারে। অন্যদিকে করহার কমানো হচ্ছে। সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। একইভাবে সর্বনিু করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৪৭ লাখ টাকা বেশি আয় হলে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দেয়ার বিধান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রে বাজেট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, করোনাকালে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের কষ্ট লাঘবে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ভারতও করমুক্ত আয়সীমা দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫ লাখ রুপি করেছে। যদিও এনবিআর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পক্ষে ছিল না। কারণ করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলে করদাতাদের বড় একটি অংশ করজালের বাইরে চলে যাবে। এতে আদায়ও কমবে।