মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমেরিকা আবিষ্কারক কলম্বাসের ভাস্কর্য উচ্ছেদ করে লেকে ছুড়ে ফেলল বিক্ষোভকারীরা

রোকনুজ্জামান রিপন:/=

আমেরিকা আবিষ্কারক কিংবদন্তী ইউরোপীয় পর্যটক ক্রিস্টোফার কলম্বোসের ভাস্কর্য উচ্ছেদ করে লেকে ছুড়ে মারল বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভকারীরা।

আলজাজিরা জানায়,  যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরের বিয়র্ড পার্কে স্থাপন করা হয়েছিল কলম্বাসের ভাস্কর্যটি।  মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটায়ভাস্কর্যটি উচ্ছেদ করে বিক্ষোভকারীরা।

প্রথম ভাস্কর্যটিকে অপসারণ করে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর শহরের একটি লেকে ভাস্কর্যটি ছুড়ে ফেলে বর্ণবাদ বিরোধীরা।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই বিক্ষোভে ভাস্কর্যের পাদদেশে কলম্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান স্প্রে করে দেয় বিক্ষোভকারীরা। কৃষ্ণাঙ্গদের গণহত্যার জন্য এই ইউরোপীয় পর্যটককে দায়ী করেন তারা।

বিক্ষোভের সময় পার্কটিকে কোনো নিরাপত্তা বাহিনী দেখা যায়নি। তবে পার্কটির উপরে পুলিশের হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে।

কলম্বাসের ভাস্কর্য উচ্ছেদের ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা সংস্থা এপি প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

প্রসঙ্গত, ইতালীয় নাবিক ও ঔপনিবেশিক কলম্বাসের (আনু. ১৪৫১-মে ২০, ১৫০৬) স্পেনীয় উচ্চারণ কোলন থেকে কলোনির উৎপত্তি, যার অর্থ উপনিবেশ।  তার আমেরিকা অভিযাত্রা ওই অঞ্চলে ইউরোপীয়দের উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা করেছিল।

এরপর আমেরিকায় দাস হিসেবে আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা হয় কৃষ্ণাঙ্গদের। সেসময় আফ্রিকায় অনেকগুলো গণহত্যার পেছনে ছিল ইউরোপীয়দের এই দাস ব্যবসা।

২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে নির্মমভাবে হত্যা করে এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে সহায়তা দেয় আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তা। এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশটি জুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপেও। যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ হয়। দেশটিতে এক দাস ব্যবসায়ীর ভাস্কর্য উচ্ছেদ করে নদীতে ছুড়ে ফেলে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

সোমবার কৃষ্ণাঙ্গদের হত্যাকারী হিসেবে পরিচিত ‘কুখ্যাত’ বেলজিয়ান রাজা লিওপোল্ড দ্বিতীয়’র মূর্তি উচ্ছেদ করে বিক্ষোভকারীরা।

উনিশ শতকের বেলজিয়ামের রাজা লিওপোল্ড দ্বিতীয় এর অধীনে ছিল আফ্রিকার কঙ্গো অঞ্চল। তার আমলে সেখানে দশ লাখেরও বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। যেটি এখন ডিআর কঙ্গোতে পড়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

আমেরিকা আবিষ্কারক কলম্বাসের ভাস্কর্য উচ্ছেদ করে লেকে ছুড়ে ফেলল বিক্ষোভকারীরা

প্রকাশের সময় : ০৬:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০

রোকনুজ্জামান রিপন:/=

আমেরিকা আবিষ্কারক কিংবদন্তী ইউরোপীয় পর্যটক ক্রিস্টোফার কলম্বোসের ভাস্কর্য উচ্ছেদ করে লেকে ছুড়ে মারল বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভকারীরা।

আলজাজিরা জানায়,  যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরের বিয়র্ড পার্কে স্থাপন করা হয়েছিল কলম্বাসের ভাস্কর্যটি।  মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটায়ভাস্কর্যটি উচ্ছেদ করে বিক্ষোভকারীরা।

প্রথম ভাস্কর্যটিকে অপসারণ করে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর শহরের একটি লেকে ভাস্কর্যটি ছুড়ে ফেলে বর্ণবাদ বিরোধীরা।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই বিক্ষোভে ভাস্কর্যের পাদদেশে কলম্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান স্প্রে করে দেয় বিক্ষোভকারীরা। কৃষ্ণাঙ্গদের গণহত্যার জন্য এই ইউরোপীয় পর্যটককে দায়ী করেন তারা।

বিক্ষোভের সময় পার্কটিকে কোনো নিরাপত্তা বাহিনী দেখা যায়নি। তবে পার্কটির উপরে পুলিশের হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে।

কলম্বাসের ভাস্কর্য উচ্ছেদের ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা সংস্থা এপি প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

প্রসঙ্গত, ইতালীয় নাবিক ও ঔপনিবেশিক কলম্বাসের (আনু. ১৪৫১-মে ২০, ১৫০৬) স্পেনীয় উচ্চারণ কোলন থেকে কলোনির উৎপত্তি, যার অর্থ উপনিবেশ।  তার আমেরিকা অভিযাত্রা ওই অঞ্চলে ইউরোপীয়দের উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা করেছিল।

এরপর আমেরিকায় দাস হিসেবে আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা হয় কৃষ্ণাঙ্গদের। সেসময় আফ্রিকায় অনেকগুলো গণহত্যার পেছনে ছিল ইউরোপীয়দের এই দাস ব্যবসা।

২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে নির্মমভাবে হত্যা করে এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে সহায়তা দেয় আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তা। এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশটি জুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপেও। যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ হয়। দেশটিতে এক দাস ব্যবসায়ীর ভাস্কর্য উচ্ছেদ করে নদীতে ছুড়ে ফেলে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

সোমবার কৃষ্ণাঙ্গদের হত্যাকারী হিসেবে পরিচিত ‘কুখ্যাত’ বেলজিয়ান রাজা লিওপোল্ড দ্বিতীয়’র মূর্তি উচ্ছেদ করে বিক্ষোভকারীরা।

উনিশ শতকের বেলজিয়ামের রাজা লিওপোল্ড দ্বিতীয় এর অধীনে ছিল আফ্রিকার কঙ্গো অঞ্চল। তার আমলে সেখানে দশ লাখেরও বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। যেটি এখন ডিআর কঙ্গোতে পড়েছে।