মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ডা. জাফরুল্লাহ

মাহবুবুল আলম টুটুল:/=

ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা। তবে শারীরিক অন্যান্য সমস্যা ও বয়স বিবেচনায় তাকে এখনই ঝুঁকিমুক্ত বলছেন না চিকিৎসকরা।শুক্রবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আজ বেশ সকালে ঘুম থেকে উঠেছেন। নিজে থেকে নাশতা করেছেন। তার প্রিয় খাবার আমসত্ত্ব খেতে চেয়েছেন। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেছেন। তাকে দেখে গতকাল রাতের চেয়েও ভালো মনে হয়েছে।’

গত ২৫মে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রথমে গণস্বাস্থ্যের কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরে বিএসএমএমইউতে পিসিআর টেস্টেও তার করোনা পজিটিভ আসে।

ডা. জাফরুল্লাহর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মো. ফরহাদ বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সর্বশেষ যে এক্স-রে রিপোর্ট, তাতে তার ফুসফুসের উন্নতি দেখা গেছে। নিউমোনিয়া থেকে তার ফুসফুসে যে ইনফেকশন, তা পর্যায়ক্রমে ধীর গতিতে ভালো হয়ে উঠছে। এর ভিত্তিতেই বলা হচ্ছে যে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদিও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ক্ষেত্রে এখনই বলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই যে তিনি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। কারণ ফুসফুস নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও তার আরও বেশ কয়েকটি শারীরিক অসুস্থতা আছে। তার বয়স ৭৯ বছর। এটি একটি কারণ। তার কিডনির প্রকট সমস্যা ও রক্তচাপ আছে। এ ছাড়াও, তিনি তো করোনায় আক্রান্ত। সেই কারণে আমরা বলতে পারি, তার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু, তিনি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নন।

ফরহাদ বলেন, ‘প্রথম অ্যান্টিজেন টেস্টে দেখা গিয়েছিল, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শরীরে করোনাভাইরাসের মাত্রা কমে যাচ্ছে। তিন দিন পরে আবারো টেস্ট করা হয়েছে। সেই টেস্টে দেখা গেছে, তার শরীরে করোনাভাইরাসের মাত্রা আরও কমেছে। কিন্তু, একেবারে দূর হয়ে যায়নি। যখন তিনি সম্পূর্ণরূপে করোনামুক্ত হবেন, তখনই তার ব্যাপারে আমরা আরও ভালোভাবে মন্তব্য করতে পারবো। তবে, এটা খুবই ইতিবাচক দিক যে তিনি নিজে থেকে পছন্দের খাবার খেতে চাচ্ছেন। কারণ, করোনা রোগীর মুখের স্বাদ চলে যায় বলে তারা সাধারণত খাবার গ্রহণ করতে পারে না।’

বর্তমানে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত বোর্ডের মাধ্যমে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিকিৎসা চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২০

মাহবুবুল আলম টুটুল:/=

ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা। তবে শারীরিক অন্যান্য সমস্যা ও বয়স বিবেচনায় তাকে এখনই ঝুঁকিমুক্ত বলছেন না চিকিৎসকরা।শুক্রবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আজ বেশ সকালে ঘুম থেকে উঠেছেন। নিজে থেকে নাশতা করেছেন। তার প্রিয় খাবার আমসত্ত্ব খেতে চেয়েছেন। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেছেন। তাকে দেখে গতকাল রাতের চেয়েও ভালো মনে হয়েছে।’

গত ২৫মে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রথমে গণস্বাস্থ্যের কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরে বিএসএমএমইউতে পিসিআর টেস্টেও তার করোনা পজিটিভ আসে।

ডা. জাফরুল্লাহর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মো. ফরহাদ বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সর্বশেষ যে এক্স-রে রিপোর্ট, তাতে তার ফুসফুসের উন্নতি দেখা গেছে। নিউমোনিয়া থেকে তার ফুসফুসে যে ইনফেকশন, তা পর্যায়ক্রমে ধীর গতিতে ভালো হয়ে উঠছে। এর ভিত্তিতেই বলা হচ্ছে যে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদিও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ক্ষেত্রে এখনই বলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই যে তিনি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। কারণ ফুসফুস নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও তার আরও বেশ কয়েকটি শারীরিক অসুস্থতা আছে। তার বয়স ৭৯ বছর। এটি একটি কারণ। তার কিডনির প্রকট সমস্যা ও রক্তচাপ আছে। এ ছাড়াও, তিনি তো করোনায় আক্রান্ত। সেই কারণে আমরা বলতে পারি, তার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু, তিনি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নন।

ফরহাদ বলেন, ‘প্রথম অ্যান্টিজেন টেস্টে দেখা গিয়েছিল, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শরীরে করোনাভাইরাসের মাত্রা কমে যাচ্ছে। তিন দিন পরে আবারো টেস্ট করা হয়েছে। সেই টেস্টে দেখা গেছে, তার শরীরে করোনাভাইরাসের মাত্রা আরও কমেছে। কিন্তু, একেবারে দূর হয়ে যায়নি। যখন তিনি সম্পূর্ণরূপে করোনামুক্ত হবেন, তখনই তার ব্যাপারে আমরা আরও ভালোভাবে মন্তব্য করতে পারবো। তবে, এটা খুবই ইতিবাচক দিক যে তিনি নিজে থেকে পছন্দের খাবার খেতে চাচ্ছেন। কারণ, করোনা রোগীর মুখের স্বাদ চলে যায় বলে তারা সাধারণত খাবার গ্রহণ করতে পারে না।’

বর্তমানে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত বোর্ডের মাধ্যমে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিকিৎসা চলছে।