সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রক্তে বেঈমানি নেই, প্রমাণ দিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিম

অলহাজ্ব আব্দুল লতিফ:/= 

দিনটি ছিল ৩ নভেম্বর, ২০১৬। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে নিজের বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জাতীয় চার নেতার একজন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেঈমানের সন্তান আমি নই। আমার পিতা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেননি। বেঈমানি আমার রক্তে নেই।

রাজনীতির মাঠে এমন জ্বালাময়ী বক্তৃতা-বিবৃতি অনেকেই দেন। কিন্তু মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে তাদের পার্থক্যটা হলো তিনি নিজের জীবনে এটা বারবার প্রমাণ করেছিলেন যে, বেঈমানি তার রক্তে নেই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন মোহাম্মদ নাসিমের বাবা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। পঁচাত্তরের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কয়েক মাস পরেই জেলাখানায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে। জাতির পিতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার শাস্তি হিসেবেই যে এই হত্যা তা আমাদের কারোরই অজানা নয়। পিতার দেখানো পথই অনুসরণ করেছিলেন নাসিম। তাকে বহুবার নির্যাতন নীপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু কখনো তিনি দলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে বেঈমানি করেননি।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলের মধ্যে ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হলে মোহাম্মদ নাসিম ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে চার বছর কাটান তিনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের সৈনিক হতে ১৯৮০ সালে দেশে ফিরে আসেন মোহাম্মদ নাসিম। দেশে ফেরার পরপরই পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। জেলে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। কিন্তু তিনি তার পিতার দেখানো পথ থেকে এতটুকু বিচ্যুত হননি।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতার উপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন নিপীড়ণ চালানো হয়েছিল নাসিম ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। চাইলেই তিনি বিএনপি জামাত জোটের সঙ্গে আপোষ করতে পারতেন, পালিয়ে দেশ ছাড়তে পারতেন। কিন্তু এর কোনোটাই তিনি করেননি। বরং শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।

ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ও নাসিমের উপর নেমে এসেছিল নির্যাতনের খড়্গ। সে সময় অনেক সিনিয়র নেতাই সরকারের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করেছিল। কেউ লোভে পড়ে, কেউ নির্যাতন এবং হয়রানির ভয়ে সেনা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে দলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। শেখ হাসিনার জন্য রাজনীতির পথ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু নাসিম সে সময়ও অনড় অবস্থানে ছিলেন। কারাবরণ করেছেন, মিথ্যা মামলায় ফেঁসেছেন, শত নির্যাতন সয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা তিনি করেননি। সে সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচারণ করতে লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে। এতে রাজি না হওয়ায় কারাগারে নিয়ে চালানো হয়েছিল নির্মম নির্যাতন। এমনকি মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নাসিমকে তার অবস্থান থেকে এক চুলও নড়ানো যায়নি।

রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি বাঁকে এভাবেই মোহাম্মদ নাসিম বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ‘ক্যাপ্টেন সাব’ এম মনসুর আলীর সন্তান, বিশ্বাসঘাতকতা তার রক্তে নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

রক্তে বেঈমানি নেই, প্রমাণ দিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিম

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২০

অলহাজ্ব আব্দুল লতিফ:/= 

দিনটি ছিল ৩ নভেম্বর, ২০১৬। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে নিজের বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জাতীয় চার নেতার একজন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেঈমানের সন্তান আমি নই। আমার পিতা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেননি। বেঈমানি আমার রক্তে নেই।

রাজনীতির মাঠে এমন জ্বালাময়ী বক্তৃতা-বিবৃতি অনেকেই দেন। কিন্তু মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে তাদের পার্থক্যটা হলো তিনি নিজের জীবনে এটা বারবার প্রমাণ করেছিলেন যে, বেঈমানি তার রক্তে নেই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন মোহাম্মদ নাসিমের বাবা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। পঁচাত্তরের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কয়েক মাস পরেই জেলাখানায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে। জাতির পিতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার শাস্তি হিসেবেই যে এই হত্যা তা আমাদের কারোরই অজানা নয়। পিতার দেখানো পথই অনুসরণ করেছিলেন নাসিম। তাকে বহুবার নির্যাতন নীপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু কখনো তিনি দলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে বেঈমানি করেননি।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলের মধ্যে ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হলে মোহাম্মদ নাসিম ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে চার বছর কাটান তিনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের সৈনিক হতে ১৯৮০ সালে দেশে ফিরে আসেন মোহাম্মদ নাসিম। দেশে ফেরার পরপরই পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। জেলে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। কিন্তু তিনি তার পিতার দেখানো পথ থেকে এতটুকু বিচ্যুত হননি।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতার উপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন নিপীড়ণ চালানো হয়েছিল নাসিম ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। চাইলেই তিনি বিএনপি জামাত জোটের সঙ্গে আপোষ করতে পারতেন, পালিয়ে দেশ ছাড়তে পারতেন। কিন্তু এর কোনোটাই তিনি করেননি। বরং শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।

ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ও নাসিমের উপর নেমে এসেছিল নির্যাতনের খড়্গ। সে সময় অনেক সিনিয়র নেতাই সরকারের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করেছিল। কেউ লোভে পড়ে, কেউ নির্যাতন এবং হয়রানির ভয়ে সেনা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে দলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। শেখ হাসিনার জন্য রাজনীতির পথ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু নাসিম সে সময়ও অনড় অবস্থানে ছিলেন। কারাবরণ করেছেন, মিথ্যা মামলায় ফেঁসেছেন, শত নির্যাতন সয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা তিনি করেননি। সে সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচারণ করতে লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে। এতে রাজি না হওয়ায় কারাগারে নিয়ে চালানো হয়েছিল নির্মম নির্যাতন। এমনকি মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নাসিমকে তার অবস্থান থেকে এক চুলও নড়ানো যায়নি।

রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি বাঁকে এভাবেই মোহাম্মদ নাসিম বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ‘ক্যাপ্টেন সাব’ এম মনসুর আলীর সন্তান, বিশ্বাসঘাতকতা তার রক্তে নেই।