রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমেরিকায় পুলিশ সংস্কারে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প

নজরুল ইসলাম: স্টাফ রিপোর্টার:/=

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যার প্রতিবাদে টানা বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পুলিশি কর্মকাণ্ডে সংস্কারের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই সংস্কার মূলত পুলিশ অফিসারদেরকে সহিংসতা নিরসণে দক্ষতা অর্জন ও পুলিশ বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যে করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে, এই সংস্কারের মধ্যে থাকছে পুলিশের বিচক্ষণতা বাড়ানোর জন্যের বরাদ্দ বা অনুদান বৃদ্ধি এবং কো-রেসপন্ডেন্ট সার্ভিস অর্থাৎ সমাজকর্মীদের সঙ্গে জোট করে পুলিশ যেনো স্থানীয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করার দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বা মাদক সমস্যার সমাধান করার বিষয়ও থাকবে। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের একটি ডাটাবেজও তৈরি করা হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, দেশটির কংগ্রেসে পুলিশ বিভাগে আরও বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশি সংস্কার নিয়ে সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেট চেম্বারে পুলিশ বিভাগের সংস্কার বিষয়ক একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে যাতে চোকহোল্ড বা পুলিশের শ্বাসরোধ করার বিষয় এবং শরীরের ক্যামেরার ব্যবহার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, এটি আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর সংস্কারের জন্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব।ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পুলিশের সংস্কার নিয়ে চলতি মাসেই যেকোনো সময় বিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। যাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের মামলা করা আরও বেশি সহজ হয়।

ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পুলিশের সংস্কার নিয়ে এ মাসের যেকোনো সময়ে বিতর্ক হবে যাতে পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের মামলা করার কাজ আরো সহজতরো করা যায়। তবে হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে ‘কোয়ালিফাইড ইমিউনিটি ডক্ট্রিন’ অর্থাৎ সরকারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সীমাবদ্ধতার যে আইন রয়েছে; তা বন্ধে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মত দেবেন না।

২৫শে মে মিনেসোটায় পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড মারা যাবার পর যুক্তরাস্ট্র জুড়ে যে প্রতিবাতদ বিক্ষোভ শুরু হয় তা থামাতে পুলিশ নানা স্থানে টিয়ার গ্যাস গ্রেফতারসহ নানা ব্যাবস্থা নেয়ার প্রেক্ষিতে পুলিশের সংস্কার নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন ওঠে। ফ্লয়েডের ঘটনার রেশ যেতে না যেতে গত শুক্রবার আটলান্টায় রেয়শার্ড ব্রুকস নামের এক আফ্রিকান আমেরিকান পুলিশের গুলীতে মারা যান।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

আমেরিকায় পুলিশ সংস্কারে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২০

নজরুল ইসলাম: স্টাফ রিপোর্টার:/=

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যার প্রতিবাদে টানা বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পুলিশি কর্মকাণ্ডে সংস্কারের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই সংস্কার মূলত পুলিশ অফিসারদেরকে সহিংসতা নিরসণে দক্ষতা অর্জন ও পুলিশ বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যে করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে, এই সংস্কারের মধ্যে থাকছে পুলিশের বিচক্ষণতা বাড়ানোর জন্যের বরাদ্দ বা অনুদান বৃদ্ধি এবং কো-রেসপন্ডেন্ট সার্ভিস অর্থাৎ সমাজকর্মীদের সঙ্গে জোট করে পুলিশ যেনো স্থানীয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করার দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বা মাদক সমস্যার সমাধান করার বিষয়ও থাকবে। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের একটি ডাটাবেজও তৈরি করা হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, দেশটির কংগ্রেসে পুলিশ বিভাগে আরও বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশি সংস্কার নিয়ে সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেট চেম্বারে পুলিশ বিভাগের সংস্কার বিষয়ক একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে যাতে চোকহোল্ড বা পুলিশের শ্বাসরোধ করার বিষয় এবং শরীরের ক্যামেরার ব্যবহার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, এটি আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর সংস্কারের জন্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব।ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পুলিশের সংস্কার নিয়ে চলতি মাসেই যেকোনো সময় বিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। যাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের মামলা করা আরও বেশি সহজ হয়।

ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পুলিশের সংস্কার নিয়ে এ মাসের যেকোনো সময়ে বিতর্ক হবে যাতে পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের মামলা করার কাজ আরো সহজতরো করা যায়। তবে হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে ‘কোয়ালিফাইড ইমিউনিটি ডক্ট্রিন’ অর্থাৎ সরকারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সীমাবদ্ধতার যে আইন রয়েছে; তা বন্ধে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মত দেবেন না।

২৫শে মে মিনেসোটায় পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড মারা যাবার পর যুক্তরাস্ট্র জুড়ে যে প্রতিবাতদ বিক্ষোভ শুরু হয় তা থামাতে পুলিশ নানা স্থানে টিয়ার গ্যাস গ্রেফতারসহ নানা ব্যাবস্থা নেয়ার প্রেক্ষিতে পুলিশের সংস্কার নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন ওঠে। ফ্লয়েডের ঘটনার রেশ যেতে না যেতে গত শুক্রবার আটলান্টায় রেয়শার্ড ব্রুকস নামের এক আফ্রিকান আমেরিকান পুলিশের গুলীতে মারা যান।