বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অস্ত্র আইনে সীমান্তে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো ভারতীয় সেনাবাহিনী

নুরুজ্জামান লিটন:/=

চীনের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সীমান্তে থাকা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) কর্তব্যরত সেনাদের জন্যে অস্ত্র আইনে পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার থেকে সীমান্তে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করতে পারবেন সেনা জওয়ানরা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ১৯৯৬ এবং ২০০৫ সালে ভারত এবং চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ছিল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিস্ফোরক বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না এবং দু’দেশের কোনো সেনাই অন্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালাবে না। তবে এবার সেনাদের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর অনুমতি দেয়া হলো।

সোমবার লাদাখ সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ হারান ২০ জন ভারতীয় সেনা। তারপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে ভারতের আরো ৭৬ জন সেনা সদস্য আহত হওয়ার কথা জানা যায়। ভারতীয় সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে অবশ্য এও জানানো হয় যে, ওই ৭৬ জনের কেউই গুরুতর আহত নন এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা কাজে যোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ক্ষতি এড়াতে পারেনি চীনও। ওই সংঘর্ষে সেদেশে হতাহত কমপক্ষে ৪৩ জন জওয়ান। যদিও চীনের সেনা সূত্র থেকে এব্যাপারে কোনো নিশ্চিত বিবৃতি মেলেনি।

গোটা ঘটনার জন্যে চীন ভারতীয় সেনাদের অসহিষ্ণু আচরণকে কাঠগড়ায় তুললেও ভারতের পক্ষ থেকে এই সংঘর্ষের জন্যে চীনকেই দায়ী করা হয়েছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণই করে এসেছে ভারত৷ ওই এলাকায় যে কার্যকলাপ করা হয়েছে, তার সবটাই ভারতীয় এলাকার মধ্যে করা হয়েছে। চীনের কাছ থেকেও আমরা একইরকম ব্যবহার আশা করি। ভারত সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে বিশ্বাসী। তবে একই সাথে ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।’

চার দশক পর আবার কেন রক্তাক্ত হল লাদাখ উপত্যকা? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সেনাকর্মীরা বলছেন, লাল ফৌজের চোখে চোখ রেখে কথা, সহ্য করতে পারেনি চীন। তাই কিছুটা পাল্টা দিতে এই সংঘর্ষ বাঁধিয়েছে। ৬ জুনের সামরিক স্তরের বৈঠকের পর চীন সেনার অধিগৃহীত জমি থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কাজ খতিয়ে দেখতে শহিদ কর্নেল বিএল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে এলাকা পরিদর্শনে বেরোয় ভারতীয় বাহিনী। তার সাথে ছিল প্রায় ১০০ জন জওয়ান। তারা ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় গালোয়ান উপত্যকা এলাকা গিয়ে দেখে সেখানে তখনো তাঁবুতে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে লাল ফৌজ। তাদের বের করে সেই তাঁবু ভাঙতে শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় কিছু তাঁবুতে। এতেই বিপদ বুঝে কাঠের তক্তা, লোহার রড, কাঁটাতার জড়ানো বাটামসহ আরো বাহিনী জড়ো হয় গালোয়ান এলাকায়। শুরু হয় দু’পক্ষের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ। সূত্র : এনডিটিভি

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

অস্ত্র আইনে সীমান্তে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো ভারতীয় সেনাবাহিনী

প্রকাশের সময় : ০২:২১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২০

নুরুজ্জামান লিটন:/=

চীনের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সীমান্তে থাকা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) কর্তব্যরত সেনাদের জন্যে অস্ত্র আইনে পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার থেকে সীমান্তে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করতে পারবেন সেনা জওয়ানরা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ১৯৯৬ এবং ২০০৫ সালে ভারত এবং চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ছিল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিস্ফোরক বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না এবং দু’দেশের কোনো সেনাই অন্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালাবে না। তবে এবার সেনাদের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর অনুমতি দেয়া হলো।

সোমবার লাদাখ সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ হারান ২০ জন ভারতীয় সেনা। তারপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে ভারতের আরো ৭৬ জন সেনা সদস্য আহত হওয়ার কথা জানা যায়। ভারতীয় সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে অবশ্য এও জানানো হয় যে, ওই ৭৬ জনের কেউই গুরুতর আহত নন এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা কাজে যোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ক্ষতি এড়াতে পারেনি চীনও। ওই সংঘর্ষে সেদেশে হতাহত কমপক্ষে ৪৩ জন জওয়ান। যদিও চীনের সেনা সূত্র থেকে এব্যাপারে কোনো নিশ্চিত বিবৃতি মেলেনি।

গোটা ঘটনার জন্যে চীন ভারতীয় সেনাদের অসহিষ্ণু আচরণকে কাঠগড়ায় তুললেও ভারতের পক্ষ থেকে এই সংঘর্ষের জন্যে চীনকেই দায়ী করা হয়েছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণই করে এসেছে ভারত৷ ওই এলাকায় যে কার্যকলাপ করা হয়েছে, তার সবটাই ভারতীয় এলাকার মধ্যে করা হয়েছে। চীনের কাছ থেকেও আমরা একইরকম ব্যবহার আশা করি। ভারত সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে বিশ্বাসী। তবে একই সাথে ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।’

চার দশক পর আবার কেন রক্তাক্ত হল লাদাখ উপত্যকা? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সেনাকর্মীরা বলছেন, লাল ফৌজের চোখে চোখ রেখে কথা, সহ্য করতে পারেনি চীন। তাই কিছুটা পাল্টা দিতে এই সংঘর্ষ বাঁধিয়েছে। ৬ জুনের সামরিক স্তরের বৈঠকের পর চীন সেনার অধিগৃহীত জমি থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কাজ খতিয়ে দেখতে শহিদ কর্নেল বিএল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে এলাকা পরিদর্শনে বেরোয় ভারতীয় বাহিনী। তার সাথে ছিল প্রায় ১০০ জন জওয়ান। তারা ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় গালোয়ান উপত্যকা এলাকা গিয়ে দেখে সেখানে তখনো তাঁবুতে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে লাল ফৌজ। তাদের বের করে সেই তাঁবু ভাঙতে শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় কিছু তাঁবুতে। এতেই বিপদ বুঝে কাঠের তক্তা, লোহার রড, কাঁটাতার জড়ানো বাটামসহ আরো বাহিনী জড়ো হয় গালোয়ান এলাকায়। শুরু হয় দু’পক্ষের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ। সূত্র : এনডিটিভি