শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভারতকে বাঁধের কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য করল নেপাল

মো: ইদ্রিস আলী:/=

চীনের সঙ্গে লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষেও পর থেকেই বেশ চাপে রয়েছে ভারত। এর মধ্যেই তাদের দাবিকৃত তিনটি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে নেপাল। এবার বিহার সরকারকে সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় বাঁধ সংস্কারের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেছে নেপাল। তাদের দাবি, বাঁধটি নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থিত। এদিকে গালওয়ান ভ্যালি, প্যাংগং লেকের পর এবার দেপসাং ভ্যালিতে চীন সামরিক শক্তি দখলের চেষ্টা করতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত রোববার ভারতের বন্যা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রকৌশলী উমা নাথ রাম দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে বন্যার সৃষ্টি হয় বলে প্রতি বছরই বাঁধটি  মেরামতের দরকার হয়। এবারও বাঁধটি মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে নেপাল থেকে আসা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীরা এতে বাধা দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ভারতের কিছু অংশ যুক্ত করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল। বৃহস্পতিবার এটি দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত ওই নতুন মানচিত্রে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার অঞ্চলগুলোকে নেপালি ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে দু’দেশের মধ্য উত্তেজনা বেড়েছে।

নেপালের পার্লামেন্টে ভারত নিয়ন্ত্রিত ভূমিসহ দেশের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র অনুমোদনের দু’দিন পরই বাঁধ নির্মাণে বাধা দেওয়ার খবর এলো।

বিহারের সঙ্গে নেপালের ৭২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ভারতের পানিসম্পদ বিভাগ (ডব্লিআরডি) কর্তৃপক্ষ বিহারের পূর্ব চাম্পারান জেলার লাল বকেয়া নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণে নেপালের বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

এদিকে গালওয়ান ভ্যালি, প্যাংগং লেকের পর এবার দেপসাং ভ্যালিতে সামরিক শক্তি দিয়ে ভারতের এলাকা চীন কবজা করার চেষ্টা করতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর ১৬ কোরের সাবেক কমান্ডার, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল রামেশ্বর রায় বলেছেন, এত দিন চীনের পক্ষে দেপসাং ভ্যালিতে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা মুশকিল ছিল। কারণ পাহাড়ের ওপওে দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি থেকে ভারত ওই এলাকায় কর্তৃত্ব করে। কিন্তু এখন চীনের সেনা দেপসাং ভ্যালির দক্ষিণে, গালওয়ান ভ্যালিতে পাহাড়ের মাথায় চলে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ওদিকে প্যাংগং লেকের মধ্যে ঢুকে আসা ফিঙ্গার ফোর নামের পাহাড়ের মাথায়ও চীনের সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেঁড়ে বসেছে। এর পর চীন দেপসাং-এও সামরিক শক্তি বড়াতে শুরু করবে। এর অর্থ হলো-দেপসাং ভ্যালি থেকে একেবারে নিচে ডেমচক পর্যন্ত কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা চীনের রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ব্রায়ান লারার অপরাজিত ৪০০ রানের রেকর্ড, দু’দশক আজ

ভারতকে বাঁধের কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য করল নেপাল

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২০

মো: ইদ্রিস আলী:/=

চীনের সঙ্গে লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষেও পর থেকেই বেশ চাপে রয়েছে ভারত। এর মধ্যেই তাদের দাবিকৃত তিনটি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে নেপাল। এবার বিহার সরকারকে সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় বাঁধ সংস্কারের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেছে নেপাল। তাদের দাবি, বাঁধটি নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থিত। এদিকে গালওয়ান ভ্যালি, প্যাংগং লেকের পর এবার দেপসাং ভ্যালিতে চীন সামরিক শক্তি দখলের চেষ্টা করতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত রোববার ভারতের বন্যা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রকৌশলী উমা নাথ রাম দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে বন্যার সৃষ্টি হয় বলে প্রতি বছরই বাঁধটি  মেরামতের দরকার হয়। এবারও বাঁধটি মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে নেপাল থেকে আসা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীরা এতে বাধা দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ভারতের কিছু অংশ যুক্ত করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল। বৃহস্পতিবার এটি দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত ওই নতুন মানচিত্রে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার অঞ্চলগুলোকে নেপালি ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে দু’দেশের মধ্য উত্তেজনা বেড়েছে।

নেপালের পার্লামেন্টে ভারত নিয়ন্ত্রিত ভূমিসহ দেশের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র অনুমোদনের দু’দিন পরই বাঁধ নির্মাণে বাধা দেওয়ার খবর এলো।

বিহারের সঙ্গে নেপালের ৭২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ভারতের পানিসম্পদ বিভাগ (ডব্লিআরডি) কর্তৃপক্ষ বিহারের পূর্ব চাম্পারান জেলার লাল বকেয়া নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণে নেপালের বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

এদিকে গালওয়ান ভ্যালি, প্যাংগং লেকের পর এবার দেপসাং ভ্যালিতে সামরিক শক্তি দিয়ে ভারতের এলাকা চীন কবজা করার চেষ্টা করতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর ১৬ কোরের সাবেক কমান্ডার, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল রামেশ্বর রায় বলেছেন, এত দিন চীনের পক্ষে দেপসাং ভ্যালিতে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা মুশকিল ছিল। কারণ পাহাড়ের ওপওে দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি থেকে ভারত ওই এলাকায় কর্তৃত্ব করে। কিন্তু এখন চীনের সেনা দেপসাং ভ্যালির দক্ষিণে, গালওয়ান ভ্যালিতে পাহাড়ের মাথায় চলে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ওদিকে প্যাংগং লেকের মধ্যে ঢুকে আসা ফিঙ্গার ফোর নামের পাহাড়ের মাথায়ও চীনের সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেঁড়ে বসেছে। এর পর চীন দেপসাং-এও সামরিক শক্তি বড়াতে শুরু করবে। এর অর্থ হলো-দেপসাং ভ্যালি থেকে একেবারে নিচে ডেমচক পর্যন্ত কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা চীনের রয়েছে।