বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে ৬ মাসে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা : ইউনিসেফ

আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান:/=

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিজনিত নানা সমস্যার কারণে আগামী ছয়মাসে বাংলাদেশে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ৷ সর্বোচ্চ পাঁচবছর বয়সের এই শিশুদের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

জন হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের মৃত্যু হতে পারে করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও অন্য রোগে৷

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে যানবাহন চলাচল সীমিত আকারে রয়েছে৷ ফলে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে৷ দরিদ্র পরিবারগুলোর তিনবেলার খাবার জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে৷ ফলে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে৷

আবার সংক্রমণের ভয়ে শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নেওয়া হচ্ছে না৷ ফলে তারা জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় টিকাও পাচ্ছে না৷ করোনাভাইরাসের সময় অর্ধেক শিশু বিভিন্ন রোগের টিকা নিতে পারেনি৷ সব মিলিয়ে শিশুরা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে৷ মহামারির পরোক্ষ কারণে তাই আগামী ছয়মাসে বাংলাদেশে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা আছে৷

এই সময়ে শিশুরা অন্য রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে বেশি৷ কারণ গত তিনমাস বলতে গেলে শিশুদের ১০টি রোগের ছয়টি জীবন রক্ষাকারী টিকা দেওয়া বন্ধ ছিলো লকডাউনের কারণে৷ অনেক টিকাদান কেন্দ্রই বন্ধ ছিলো৷ আবার যখন শুরু হয় তখন অনেক শিশুর অভিভাবক করোনাভাইরাসের কারণে তাদের শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নেননি৷ এছাড়া শিশুরা বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা এখন সবচেয়ে বেশি অপুষ্টির শিকার হচ্ছে৷ ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। শিশুদের করোনাভাইরাস চিকিৎসা

বাংলাদেশে এপর্যন্ত করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ১,৫৮২ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ১,২২,৬৬০ জন৷ আইইডিসিআর এর তথ্য মতে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ৩%, যাদের বয়স ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে৷ আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে ৭%৷ এপর্যন্ত যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সের ০.৮২%৷ ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে ১.৪৯%।

শিশুদের করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ইউনিট করা হয়েছে৷ দেশের আর কোথাও শিশুদের জন্য আলাদা করোনাভাইরাস ইউনিট নেই৷ এমনকি শিশু হাসপাতালেও নয়৷ অন্যান্য হাসপাতালে বয়স্ক রোগীদের সাথেই করোনাভাইরাস পজেটিভ শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়৷ তবে ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশুদের জন্য আটটি আইসোলেশন বেড আছে।

ঢাকা মেডিকেলের শিশু করোনাভাইরাস ইউনিটে এখন মোট ৩২টি বেড আছে৷ এরমধ্যে ২৪টি করোনাভাইরাস পজেটিভ শিশুর জন্য আর আটটি বেড আইসোলেশনের জন্য৷ এখন সেখানে মোট ২৮টি শিশু ভর্তি আছে করোনাভাইরাস পজেটিভ নিয়ে৷ এপর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছে ১০৮টি শিশু৷ পাঁচটি শিশু মারা গেছে৷ বাকিরা সুস্থ হয়েছে৷

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

বাংলাদেশে ৬ মাসে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা : ইউনিসেফ

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২০

আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান:/=

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিজনিত নানা সমস্যার কারণে আগামী ছয়মাসে বাংলাদেশে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ৷ সর্বোচ্চ পাঁচবছর বয়সের এই শিশুদের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

জন হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের মৃত্যু হতে পারে করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও অন্য রোগে৷

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে যানবাহন চলাচল সীমিত আকারে রয়েছে৷ ফলে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে৷ দরিদ্র পরিবারগুলোর তিনবেলার খাবার জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে৷ ফলে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে৷

আবার সংক্রমণের ভয়ে শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নেওয়া হচ্ছে না৷ ফলে তারা জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় টিকাও পাচ্ছে না৷ করোনাভাইরাসের সময় অর্ধেক শিশু বিভিন্ন রোগের টিকা নিতে পারেনি৷ সব মিলিয়ে শিশুরা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে৷ মহামারির পরোক্ষ কারণে তাই আগামী ছয়মাসে বাংলাদেশে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা আছে৷

এই সময়ে শিশুরা অন্য রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে বেশি৷ কারণ গত তিনমাস বলতে গেলে শিশুদের ১০টি রোগের ছয়টি জীবন রক্ষাকারী টিকা দেওয়া বন্ধ ছিলো লকডাউনের কারণে৷ অনেক টিকাদান কেন্দ্রই বন্ধ ছিলো৷ আবার যখন শুরু হয় তখন অনেক শিশুর অভিভাবক করোনাভাইরাসের কারণে তাদের শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নেননি৷ এছাড়া শিশুরা বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা এখন সবচেয়ে বেশি অপুষ্টির শিকার হচ্ছে৷ ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। শিশুদের করোনাভাইরাস চিকিৎসা

বাংলাদেশে এপর্যন্ত করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ১,৫৮২ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ১,২২,৬৬০ জন৷ আইইডিসিআর এর তথ্য মতে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ৩%, যাদের বয়স ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে৷ আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে ৭%৷ এপর্যন্ত যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সের ০.৮২%৷ ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে ১.৪৯%।

শিশুদের করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ইউনিট করা হয়েছে৷ দেশের আর কোথাও শিশুদের জন্য আলাদা করোনাভাইরাস ইউনিট নেই৷ এমনকি শিশু হাসপাতালেও নয়৷ অন্যান্য হাসপাতালে বয়স্ক রোগীদের সাথেই করোনাভাইরাস পজেটিভ শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়৷ তবে ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশুদের জন্য আটটি আইসোলেশন বেড আছে।

ঢাকা মেডিকেলের শিশু করোনাভাইরাস ইউনিটে এখন মোট ৩২টি বেড আছে৷ এরমধ্যে ২৪টি করোনাভাইরাস পজেটিভ শিশুর জন্য আর আটটি বেড আইসোলেশনের জন্য৷ এখন সেখানে মোট ২৮টি শিশু ভর্তি আছে করোনাভাইরাস পজেটিভ নিয়ে৷ এপর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছে ১০৮টি শিশু৷ পাঁচটি শিশু মারা গেছে৷ বাকিরা সুস্থ হয়েছে৷