শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

করোনা আক্রান্ত  বেনাপোলের মমিনুর রহমান মারা গেছেন

সেলিম রেজা: স্টাফ রিপোর্টার :/= 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত বেনাপোলের মমিনুর রহমানকে (৫৫) বেনাপোলে তার নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে সরকারী ব্যবস্থাপনায়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যান এই ব্যক্তি।
মৃত মমিনুরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, মরদেহ গতকাল বাড়িতে আনা হলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কেউ কাছে যেতে পারেননি। পরে আজ শুক্রবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় তাকে নিকটস্থ গোরস্থানে দাফন করা হয়।
তিনি জানান, মমিনুর রহমানের হার্ট ব্লক হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তার চিকিৎসক মধুসূদন পাল। পরে তার ফুসফুসে পানি জমায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। চারদিন আগে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয় করোনা পরীক্ষার জন্য। তার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে বলে বৃহস্পতিবার পরিবার-সদস্যদের জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেনোম সেন্টার থেকে আসা ফলাফলে দেখা যায়, যশোর জেলার যে নমুনাগুলো পজেটিভ ফল দিয়েছে, তার মধ্যে মমিনুর রহমানের নাম রয়েছে।
জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পজেটিভ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরই মমিনুরকে করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত গ্রিন ড্রিম লিমিটেডে হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে কিছু সময় পর রাতে র দিকে মারা যান মমিনুর।
ছেলে জাহাঙ্গীর বলছেন, মরদেহ বাড়িতে আনার পর শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলককুমার মণ্ডল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী প্রমুখ তাদের বাড়িতে এসে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তারা মরদেহের কাছে যেতে স্বজনদের নিষেধ করেন। জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় দাফন করা হবে মমিনুরকে।
আজ শুক্রবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি টিম মমিনুরকে দাফন করে। শার্শার ইউএনও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেনাপোল পৌর এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের নার্সারিপাড়ার বাসিন্দা মমিনুরের দুই স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। শার্শা  উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন এর আগেই বেনাপোল পৌরসভার এই ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত দেয়।
বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন  সেদিনই জানিয়েছিলেন, ওই ওয়ার্ডে কয়েকজন করোনা রোগীর বাড়ি।
মমিনুরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যশোর জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবে ৬ জন মারা গেলেন।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

করোনা আক্রান্ত  বেনাপোলের মমিনুর রহমান মারা গেছেন

প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০

সেলিম রেজা: স্টাফ রিপোর্টার :/= 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত বেনাপোলের মমিনুর রহমানকে (৫৫) বেনাপোলে তার নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে সরকারী ব্যবস্থাপনায়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যান এই ব্যক্তি।
মৃত মমিনুরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, মরদেহ গতকাল বাড়িতে আনা হলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কেউ কাছে যেতে পারেননি। পরে আজ শুক্রবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় তাকে নিকটস্থ গোরস্থানে দাফন করা হয়।
তিনি জানান, মমিনুর রহমানের হার্ট ব্লক হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তার চিকিৎসক মধুসূদন পাল। পরে তার ফুসফুসে পানি জমায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। চারদিন আগে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয় করোনা পরীক্ষার জন্য। তার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে বলে বৃহস্পতিবার পরিবার-সদস্যদের জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেনোম সেন্টার থেকে আসা ফলাফলে দেখা যায়, যশোর জেলার যে নমুনাগুলো পজেটিভ ফল দিয়েছে, তার মধ্যে মমিনুর রহমানের নাম রয়েছে।
জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পজেটিভ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরই মমিনুরকে করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত গ্রিন ড্রিম লিমিটেডে হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে কিছু সময় পর রাতে র দিকে মারা যান মমিনুর।
ছেলে জাহাঙ্গীর বলছেন, মরদেহ বাড়িতে আনার পর শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলককুমার মণ্ডল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী প্রমুখ তাদের বাড়িতে এসে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তারা মরদেহের কাছে যেতে স্বজনদের নিষেধ করেন। জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় দাফন করা হবে মমিনুরকে।
আজ শুক্রবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি টিম মমিনুরকে দাফন করে। শার্শার ইউএনও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেনাপোল পৌর এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের নার্সারিপাড়ার বাসিন্দা মমিনুরের দুই স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। শার্শা  উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন এর আগেই বেনাপোল পৌরসভার এই ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত দেয়।
বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন  সেদিনই জানিয়েছিলেন, ওই ওয়ার্ডে কয়েকজন করোনা রোগীর বাড়ি।
মমিনুরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যশোর জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবে ৬ জন মারা গেলেন।