শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এই কঠিন সময়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান: নেতাকর্মীদের ওবায়দুল কাদের

সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ:/=

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘করোনার এই সংকটে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আমি এই কঠিন সময়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

রবিবার (২৮ জুন) সরকারি বাসভবন থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপরাধীর দলীয় পরিচয় কিংবা ক্ষমতাবান হলেও ছাড় দেয়া হবে না। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, যে কোনও খাতের অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল।’

হাসপাতালসমূহের ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয় বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণা ও গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্ত অনেক রোগী বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সেবা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরামর্শ পেতে টেলি-মেডিসিন সেবা ও হটলাইনে সেবার মান বাড়ানোর অনুরোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার ভিআইপি কালচারে বিশ্বাসী নয়। সরকার এ সংকটে এমন চর্চাকে নিরুৎসাহিত করে। সরকারি হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করবো, বাছ-বিচার নয়, ধনী-গরিব নয়, বিত্তবান-বৃত্তহীন নয়। ভিআইপি-ননভিআইপি নয়, সকল রোগী সমান। আপনারা রোগীকে রোগী হিসেবে দেখবেন। কোনও ব্যবধান তৈরি করবেন না।’

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ৬৬টি ল্যাবে টেস্ট করোনা হচ্ছে। এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের জনস্বার্থে পিসিআর ল্যাব স্থাপনে উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানাচ্ছি। রোগী চিহ্নিত করা গেলে সংক্রমণের বিস্তার রোধ আরও সহজতর হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা এমন এক সংক্রমণ, কাছের মানুষকেও দূরে ঠেলে দেয়। মুহূর্তেই আপন মানুষ হয়ে যায় অচেনা। সন্তান বাবা-মাকে হাসপাতালে রেখে চলে যাচ্ছে। স্বামী স্ত্রীকে পথের পাশে রেখে চলে যাচ্ছে। আবার মৃত্যুর পর কেউ কাছে আসছে না, দাফন-কাফনের দায়িত্ব নিচ্ছে পুলিশ। পুরোটা জীবন প্রিয়জনের জন্য করে শেষ বিদায় নিচ্ছেন প্রিয় মানুষের স্পর্শহীনতায়, মমতার বন্ধনহীন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর মৃতদেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই। তাই বলবো- এ রোগ কোনও অভিশাপ নয়। নিজেকে সুরক্ষিত করে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে; দাফন-কাফন কিংবা সৎকারে মৃতের স্বজনরা অংশ নিতে পারে। রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। সংক্রমণরোধে নিজেকে সুরক্ষিত করুন।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

এই কঠিন সময়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান: নেতাকর্মীদের ওবায়দুল কাদের

প্রকাশের সময় : ০৭:৪০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০

সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ:/=

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘করোনার এই সংকটে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আমি এই কঠিন সময়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

রবিবার (২৮ জুন) সরকারি বাসভবন থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপরাধীর দলীয় পরিচয় কিংবা ক্ষমতাবান হলেও ছাড় দেয়া হবে না। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, যে কোনও খাতের অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল।’

হাসপাতালসমূহের ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয় বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণা ও গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্ত অনেক রোগী বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সেবা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরামর্শ পেতে টেলি-মেডিসিন সেবা ও হটলাইনে সেবার মান বাড়ানোর অনুরোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার ভিআইপি কালচারে বিশ্বাসী নয়। সরকার এ সংকটে এমন চর্চাকে নিরুৎসাহিত করে। সরকারি হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করবো, বাছ-বিচার নয়, ধনী-গরিব নয়, বিত্তবান-বৃত্তহীন নয়। ভিআইপি-ননভিআইপি নয়, সকল রোগী সমান। আপনারা রোগীকে রোগী হিসেবে দেখবেন। কোনও ব্যবধান তৈরি করবেন না।’

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ৬৬টি ল্যাবে টেস্ট করোনা হচ্ছে। এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের জনস্বার্থে পিসিআর ল্যাব স্থাপনে উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানাচ্ছি। রোগী চিহ্নিত করা গেলে সংক্রমণের বিস্তার রোধ আরও সহজতর হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা এমন এক সংক্রমণ, কাছের মানুষকেও দূরে ঠেলে দেয়। মুহূর্তেই আপন মানুষ হয়ে যায় অচেনা। সন্তান বাবা-মাকে হাসপাতালে রেখে চলে যাচ্ছে। স্বামী স্ত্রীকে পথের পাশে রেখে চলে যাচ্ছে। আবার মৃত্যুর পর কেউ কাছে আসছে না, দাফন-কাফনের দায়িত্ব নিচ্ছে পুলিশ। পুরোটা জীবন প্রিয়জনের জন্য করে শেষ বিদায় নিচ্ছেন প্রিয় মানুষের স্পর্শহীনতায়, মমতার বন্ধনহীন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর মৃতদেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই। তাই বলবো- এ রোগ কোনও অভিশাপ নয়। নিজেকে সুরক্ষিত করে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে; দাফন-কাফন কিংবা সৎকারে মৃতের স্বজনরা অংশ নিতে পারে। রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। সংক্রমণরোধে নিজেকে সুরক্ষিত করুন।’