শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফর্সা হলেই আকর্ষণীয় ও সুন্দর এমনটি ঠিক না : বিপাশা বসু

দেবুল কুমার দাস: স্টাফ রিপোর্টার:/=

কয়েক বছর আগে তাঁরই সহকর্মী, ফর্সা ত্বকের এক বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা বসুকে ডেকেছিলেন ‘কালি বিল্লি’বলে। চুপ করে ছিলেন বিপাশা। কিন্তু ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’ কাণ্ডে আজ আর চুপ করে থাকতে পারেননি। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘‘ছোট থেকে, সেই ছোট থেকে বোনের সঙ্গে আমাকে তুলনা করে বলা হত, সোনির থেকে বনি অনেক কালো, না? আমার পরিজন, আত্মীয় সবার মুখেই এক কথা। বনি কালো।’বনির যেন পরিচয় হয়ে উঠেছিল তাঁর গায়ের রং।

ভারতের ইউনিলিভার কোম্পানির এত দিন পরে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’ক্রিম থেকে অবশেষে বাদ যেতে চলেছে ‘ফেয়ার’কথাটি। ‘কালোমেয়ে’ বিপাশা আজ তাই আবেগঘন। খবার আনন্দবাজার পত্রিকার।

সেই ছোট্ট বনি মুম্বই পৌঁছয়। সুপারমডেল প্রতিযোগিতায় ছিনিয়ে নেয় প্রথম স্থান। বিপাশা ভেবেছিলেন, এ বার হয়ত তাঁর গুণের কদর হবে। গুণের কদর হল নিঃসন্দেহে। তবে, পরের দিনই খবরের কাগজে বড় বড় করে ছাপা হল, ‘ডাস্কি (শ্যামলা) গার্ল ফ্রম কলকাতা ইজ দ্য উইনার’। পরিশ্রমী নয়, সুন্দরী নয়, বিপাশার নামের আগে শোভা পেতে লাগল ডাস্কি বিশেষণ।

কিন্তু মেয়ে দমবার পাত্র নয়। পাড়ি দিলেন বিদেশে। ওখানে গিয়ে তিনি তো অবাক। তাঁর রংই যেন তাঁর পরিচয় হতে থাকল সে দেশে। দুধ সাদা ‘মেমসাহেব’-দের দেশে এক টুকরো কলকাতা সহজেই জায়গা করে নিল। কিন্তু, সেটাও চাননি বিপাশা। রং নিয়ে প্রশংসা-নিন্দা কিছুই চাননি। যা স্বাভাবিক, যা নিজস্ব, তা স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করাতেই বেশি খুশি ছিলেন তিনি। দেশে ফিরলেন। বলিউডে যাত্রা শুরু হল তাঁর। কিন্তু কালো শব্দের যত সমার্থক হয় তাঁর নামের সঙ্গে জুড়তে থাকল একের পর এক।

২০০৩ থেকে ০৪। একের পর এক হিট হচ্ছে বিপাশার ছবি। ‘জিসম’,‘রাজ’,বিপাশা আকাশ ছুঁয়ে ফেলছেন ক্রমশ। তাতে কী? মিডিয়া বড় বড় করে ছেপে দিল, তাঁর রং তাঁর সেক্সিনেসের ইউএসপি। নায়িকা হবে ঢলঢলে চোখ, দুধে আলতা গায়ের রং, ‘কালো’মেয়ে আবার নায়িকা নাকি! উড়ে এসেছিল টিপ্পনিও।

আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ফর্সা করে দেওয়ার দাবি করা ব্র্যান্ডগুলো বিপাশার কাছে কোটি কোটি টাকার অফার নিয়ে গিয়েছিল তাদের ফেয়ারনেস ক্রিমের মুখ হয়ে ওঠার। কালো নায়িকা তাদের ক্রিম মেখে রাতারতি ফর্সা হয়ে যাচ্ছে, এ একবার দেখাতে পারলেই যে কেল্লাফতে!

মুখের উপর না বলেছিলেন বিপাশা। বাঁচতে চেয়েছিলেন নিজের শর্তে।একটা দেশে যেখানে বেশির ভাগ মানুষের রং কালো সেখানে ফেয়ার কী করে লাভলি হয়ে গেল তা আজও বুঝতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়:‘‘এ এক শিকড় প্রোথিত কলঙ্ক। এ এক মিথ্যে স্বপ্ন বেচা।’’

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ফর্সা হলেই আকর্ষণীয় ও সুন্দর এমনটি ঠিক না : বিপাশা বসু

প্রকাশের সময় : ০৮:০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০

দেবুল কুমার দাস: স্টাফ রিপোর্টার:/=

কয়েক বছর আগে তাঁরই সহকর্মী, ফর্সা ত্বকের এক বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা বসুকে ডেকেছিলেন ‘কালি বিল্লি’বলে। চুপ করে ছিলেন বিপাশা। কিন্তু ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’ কাণ্ডে আজ আর চুপ করে থাকতে পারেননি। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘‘ছোট থেকে, সেই ছোট থেকে বোনের সঙ্গে আমাকে তুলনা করে বলা হত, সোনির থেকে বনি অনেক কালো, না? আমার পরিজন, আত্মীয় সবার মুখেই এক কথা। বনি কালো।’বনির যেন পরিচয় হয়ে উঠেছিল তাঁর গায়ের রং।

ভারতের ইউনিলিভার কোম্পানির এত দিন পরে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’ক্রিম থেকে অবশেষে বাদ যেতে চলেছে ‘ফেয়ার’কথাটি। ‘কালোমেয়ে’ বিপাশা আজ তাই আবেগঘন। খবার আনন্দবাজার পত্রিকার।

সেই ছোট্ট বনি মুম্বই পৌঁছয়। সুপারমডেল প্রতিযোগিতায় ছিনিয়ে নেয় প্রথম স্থান। বিপাশা ভেবেছিলেন, এ বার হয়ত তাঁর গুণের কদর হবে। গুণের কদর হল নিঃসন্দেহে। তবে, পরের দিনই খবরের কাগজে বড় বড় করে ছাপা হল, ‘ডাস্কি (শ্যামলা) গার্ল ফ্রম কলকাতা ইজ দ্য উইনার’। পরিশ্রমী নয়, সুন্দরী নয়, বিপাশার নামের আগে শোভা পেতে লাগল ডাস্কি বিশেষণ।

কিন্তু মেয়ে দমবার পাত্র নয়। পাড়ি দিলেন বিদেশে। ওখানে গিয়ে তিনি তো অবাক। তাঁর রংই যেন তাঁর পরিচয় হতে থাকল সে দেশে। দুধ সাদা ‘মেমসাহেব’-দের দেশে এক টুকরো কলকাতা সহজেই জায়গা করে নিল। কিন্তু, সেটাও চাননি বিপাশা। রং নিয়ে প্রশংসা-নিন্দা কিছুই চাননি। যা স্বাভাবিক, যা নিজস্ব, তা স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করাতেই বেশি খুশি ছিলেন তিনি। দেশে ফিরলেন। বলিউডে যাত্রা শুরু হল তাঁর। কিন্তু কালো শব্দের যত সমার্থক হয় তাঁর নামের সঙ্গে জুড়তে থাকল একের পর এক।

২০০৩ থেকে ০৪। একের পর এক হিট হচ্ছে বিপাশার ছবি। ‘জিসম’,‘রাজ’,বিপাশা আকাশ ছুঁয়ে ফেলছেন ক্রমশ। তাতে কী? মিডিয়া বড় বড় করে ছেপে দিল, তাঁর রং তাঁর সেক্সিনেসের ইউএসপি। নায়িকা হবে ঢলঢলে চোখ, দুধে আলতা গায়ের রং, ‘কালো’মেয়ে আবার নায়িকা নাকি! উড়ে এসেছিল টিপ্পনিও।

আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ফর্সা করে দেওয়ার দাবি করা ব্র্যান্ডগুলো বিপাশার কাছে কোটি কোটি টাকার অফার নিয়ে গিয়েছিল তাদের ফেয়ারনেস ক্রিমের মুখ হয়ে ওঠার। কালো নায়িকা তাদের ক্রিম মেখে রাতারতি ফর্সা হয়ে যাচ্ছে, এ একবার দেখাতে পারলেই যে কেল্লাফতে!

মুখের উপর না বলেছিলেন বিপাশা। বাঁচতে চেয়েছিলেন নিজের শর্তে।একটা দেশে যেখানে বেশির ভাগ মানুষের রং কালো সেখানে ফেয়ার কী করে লাভলি হয়ে গেল তা আজও বুঝতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়:‘‘এ এক শিকড় প্রোথিত কলঙ্ক। এ এক মিথ্যে স্বপ্ন বেচা।’’