শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩, ১০ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভারতকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য : নিজের দলে সমালোচনার মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ

নুরুজ্জামান লিটন:/=

ভারতকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে এবার নিজের দলের মধ্যে সমালোচনার মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারাই তাঁর (Nepal Prime Minister KP Sharma Oli) পদত্যাগের (KP Oli Asked To Resign) দাবি করেছেন। মঙ্গলবার বালুওয়াতরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ক্ষমতাসীন দলের (Nepal Communist Party) শক্তিশালী স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কামাল দাহাল ওরফে “প্রচণ্ড” (Pushpa Kamal Dahal) কে পি ওলির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,”তাঁকে কুর্সি থেকে সরানোর জন্যে ভারত ষড়যন্ত্র করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তো গ্রহণযোগ্য নয়ই, কূটনৈতিকভাবেও উপযুক্ত নয়”। “প্রধানমন্ত্রীর এ জাতীয় বক্তব্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে”, সকলকে সতর্ক করে দিয়ে একথাও বলেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি অলি বলেন যে, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য “দূতাবাস এবং হোটেলগুলিতে” বিভিন্ন ধরণের কাজকর্ম চলছে। তিনি বলেন, কিছু নেপালি নেতাও এই খেলার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

তবে ওলির বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে তাঁর দলই। শীর্ষ নেতা প্রচণ্ড ছাড়াও অভিজ্ঞ নেতা মাধব কুমার নেপাল, ঝালানাথ খানাল, সহ সভাপতি বামদেব গৌতম এবং মুখপাত্র নারায়ণকাজি শ্রেষ্ঠাও প্রধানমন্ত্রী ওলিকে তাঁর করা অভিযোগের প্রমাণ দিতে বলেছেন। পাশাপাশি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর ইস্তফার দাবিও উঠেছে।

তাঁরা বলেন যে প্রধানমন্ত্রীর এ জাতীয় “কূটনীতিবিরুদ্ধ ও অরাজনৈতিক মন্তব্য করার পরে নৈতিক ভাবেই পদত্যাগ করা উচিত।” তবে বৈঠকে উপস্থিত কেপি ওলি যদিও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

তবে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও নেপালের শাসক দল প্রধানমন্ত্রী ওলির উপর বেজায় চটেছিল। গত এপ্রিল মাসেও কেপি ওলিকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছিল দলের তরফে।

রবিবার এক অনুষ্ঠানে সরাসরি ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে ওলি বলেন, “নেপালের সংবিধান সংশোধনের পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে দিল্লি।” নতুন মানচিত্র তৈরির জন্যই তাঁর প্রতিপক্ষদের উসকানি দিয়ে সরকার ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। নেপালের সংবিধান সংশোধনের বিষয় নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক করার কী দরকার, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

“আমার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই আসল উদ্দেশ্য। যদিও, এই চেষ্টায় কোনওভাবেই সফল হবে না ভারত। কারণ, নেপালের জাতীয়তাবাদ অত ঠুনকো নয় যে কেউ বাইরে থেকে সরকার ফেলে দেবে। আমিও কোনও ভাবে বাইরের কোনও শক্তির কাছে মাথা নোয়াবো না। কারণ আমি সরে গেলে নেপালের জাতীয়তাবাদ ও সীমানা নিয়ে দাবি জানানোর আর কেউ নেই”, ওই অনুষ্ঠানে একথাও বলেন কেপি শর্মা ওলি। সুত্র -এনডিটিভি

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

ভারতকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য : নিজের দলে সমালোচনার মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ

প্রকাশের সময় : ০৯:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০

নুরুজ্জামান লিটন:/=

ভারতকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে এবার নিজের দলের মধ্যে সমালোচনার মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারাই তাঁর (Nepal Prime Minister KP Sharma Oli) পদত্যাগের (KP Oli Asked To Resign) দাবি করেছেন। মঙ্গলবার বালুওয়াতরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ক্ষমতাসীন দলের (Nepal Communist Party) শক্তিশালী স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কামাল দাহাল ওরফে “প্রচণ্ড” (Pushpa Kamal Dahal) কে পি ওলির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,”তাঁকে কুর্সি থেকে সরানোর জন্যে ভারত ষড়যন্ত্র করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তো গ্রহণযোগ্য নয়ই, কূটনৈতিকভাবেও উপযুক্ত নয়”। “প্রধানমন্ত্রীর এ জাতীয় বক্তব্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে”, সকলকে সতর্ক করে দিয়ে একথাও বলেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি অলি বলেন যে, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য “দূতাবাস এবং হোটেলগুলিতে” বিভিন্ন ধরণের কাজকর্ম চলছে। তিনি বলেন, কিছু নেপালি নেতাও এই খেলার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

তবে ওলির বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে তাঁর দলই। শীর্ষ নেতা প্রচণ্ড ছাড়াও অভিজ্ঞ নেতা মাধব কুমার নেপাল, ঝালানাথ খানাল, সহ সভাপতি বামদেব গৌতম এবং মুখপাত্র নারায়ণকাজি শ্রেষ্ঠাও প্রধানমন্ত্রী ওলিকে তাঁর করা অভিযোগের প্রমাণ দিতে বলেছেন। পাশাপাশি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর ইস্তফার দাবিও উঠেছে।

তাঁরা বলেন যে প্রধানমন্ত্রীর এ জাতীয় “কূটনীতিবিরুদ্ধ ও অরাজনৈতিক মন্তব্য করার পরে নৈতিক ভাবেই পদত্যাগ করা উচিত।” তবে বৈঠকে উপস্থিত কেপি ওলি যদিও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

তবে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও নেপালের শাসক দল প্রধানমন্ত্রী ওলির উপর বেজায় চটেছিল। গত এপ্রিল মাসেও কেপি ওলিকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছিল দলের তরফে।

রবিবার এক অনুষ্ঠানে সরাসরি ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে ওলি বলেন, “নেপালের সংবিধান সংশোধনের পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে দিল্লি।” নতুন মানচিত্র তৈরির জন্যই তাঁর প্রতিপক্ষদের উসকানি দিয়ে সরকার ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। নেপালের সংবিধান সংশোধনের বিষয় নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক করার কী দরকার, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

“আমার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই আসল উদ্দেশ্য। যদিও, এই চেষ্টায় কোনওভাবেই সফল হবে না ভারত। কারণ, নেপালের জাতীয়তাবাদ অত ঠুনকো নয় যে কেউ বাইরে থেকে সরকার ফেলে দেবে। আমিও কোনও ভাবে বাইরের কোনও শক্তির কাছে মাথা নোয়াবো না। কারণ আমি সরে গেলে নেপালের জাতীয়তাবাদ ও সীমানা নিয়ে দাবি জানানোর আর কেউ নেই”, ওই অনুষ্ঠানে একথাও বলেন কেপি শর্মা ওলি। সুত্র -এনডিটিভি