বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভিটামিন ডি র জন্য শরীরে প্রতিদিন রোদ লাগানো প্রয়োজন

ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম এর পরিমান বাড়িয়ে তুলে। ভিটামিন ডি চোখের সমস্যা কে দূরে রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে

আমাদের শরীরে যে সকল ভিটামিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তার মধ্যে ভিটামিন ডি প্রথম সারিতে অবস্থান করে। ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পোষণে সাহায্য করে। এটি যেমন আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস এর পরিমান বাড়িয়ে তোলে ঠিক তেমন ভাবেই দাঁত ও হাড় গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু রোগের প্রতিষেধক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয় ভিটামিন ডি এর উপকারিতা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রথমেই আলোচনা করা যাক আমাদের শরীরে এটি ঠিক কি কি উপকার করে।

ঠিক কি কাজ করে ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে?
ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম এর পরিমান বাড়িয়ে তুলে হাড়ের গঠনে সহায়তা করে। ভিটামিন ডি এর অভাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ওজন বৃদ্ধি, বিষন্নতা, হার্ট এর বিভিন্ন সমস্যা এর মতো রোগগুলি। সূর্যালোক ভিটামিন ডি- এরশরীরে তৈরী হওয়াতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন ডি এর স্বল্পতা শিশুদের শরীরে রিকেট এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের শরীরে অস্টিওম্যালাসিয়া এর মতো রোগের সৃষ্টি করে থেকে।গবেষকদের মতামত অনুযায়ী ভিটামিন ডি বেশ কিছু রোগের প্রতিষেধক হিসাবেও কাজ করে যথা – 2 ধরণের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি।

ভিটামিন ডি স্বল্পতার উপসর্গ :- কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ লক্ষ্য করা যায় ভিটামিন ডি এর স্বল্পতার কারন স্বরূপ। সেগুলি হলো –
১) প্রায়-ই অসুস্থ হয়ে পড়া
২) ক্লান্তি বোধ করা
৩) বিষন্নতা
৪) অতিরিক্ত চুল পড়া
৫) কোনো আঘাত এর ঘা দেরিতে শুকোনো প্রভৃতি।

ভিটামিন ডি এর উপকারীতা: -ভিটামিন ডি এর কিছু নির্দিষ্ট উপকারিতা লক্ষ্যণীয় যা জেনে রাখা সবার জন্য আবশ্যক। সেগুলি হলো যথাক্রমে :
1) ভিটামিন ডি চোখের সমস্যা কে দূরে রাখতে সাহায্য করে :-
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে দূরে রাখতে সহায়তা করে ভিটামিন ডি।
2) ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে:
ক্যালসিয়াম এর সহায়তায় ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যার অবসান ঘটায়। অনেকসময় আমাদের শরীরে পেশিতে টান লাগে,সেই বিষয় এড়িয়ে যাবেন না, মনে রাখবেন এগুলোই কিন্তু রিকেট এর মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
3) কোলেস্টেরোল কমাতে সাহায্য করে ভিটামিন ডি: শরীরের জন্য খারাপ কোলেস্টেরোল কমাতে বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে স্ত্রীরজ কমে যাওয়ার পর কোলেস্টেরোল কমাতে এছাড়া হার্ট এর সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে।
4) দীর্ঘকালীন মাথা ব্যথা এবং ওজন হ্রাস করতেও সাহায্য করে ভিটামিন ডি: দীর্ঘদিনের মাথা ব্যথা এবং ওজন বিশেষত মহিলাদের ওজন হ্রাস করতে ভিটামিন ডি যথেষ্ট উপকারী।

নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি :-

জাতীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নিত্যদিন কত পরিমানে ভিটামিন ডি শরীরে লাগবে তার পরিসংখ্যান পেশ করেছেন। সেটি নিম্নলিখিত:
1) 1-13 বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য 15 মাইক্রোগ্রাম।
2) 14-18 বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের 15 মাইক্রোগ্রাম।
3) 19-50 বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের 15 মাইক্রোগ্রাম।

ভিটামিন ডি এর উৎস: ব্রিটিশ ডায়াটেটিক্স এসোসিয়েশন এর মতানুযায়ী সূর্যালোকের পাশাপাশি বেশ কিছু খাদ্যও ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে তৈরী করতে সাহায্য করে। সেগুলি হলো :-

১) মাছের তেল
২) শুকনো মাশরুম
৩) ডিম্
৪) দুধ
৫) মাখন প্রভৃতি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ভিটামিন ডি র জন্য শরীরে প্রতিদিন রোদ লাগানো প্রয়োজন

প্রকাশের সময় : ০৯:১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০
ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম এর পরিমান বাড়িয়ে তুলে। ভিটামিন ডি চোখের সমস্যা কে দূরে রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে

আমাদের শরীরে যে সকল ভিটামিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তার মধ্যে ভিটামিন ডি প্রথম সারিতে অবস্থান করে। ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পোষণে সাহায্য করে। এটি যেমন আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস এর পরিমান বাড়িয়ে তোলে ঠিক তেমন ভাবেই দাঁত ও হাড় গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু রোগের প্রতিষেধক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয় ভিটামিন ডি এর উপকারিতা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রথমেই আলোচনা করা যাক আমাদের শরীরে এটি ঠিক কি কি উপকার করে।

ঠিক কি কাজ করে ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে?
ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম এর পরিমান বাড়িয়ে তুলে হাড়ের গঠনে সহায়তা করে। ভিটামিন ডি এর অভাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ওজন বৃদ্ধি, বিষন্নতা, হার্ট এর বিভিন্ন সমস্যা এর মতো রোগগুলি। সূর্যালোক ভিটামিন ডি- এরশরীরে তৈরী হওয়াতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন ডি এর স্বল্পতা শিশুদের শরীরে রিকেট এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের শরীরে অস্টিওম্যালাসিয়া এর মতো রোগের সৃষ্টি করে থেকে।গবেষকদের মতামত অনুযায়ী ভিটামিন ডি বেশ কিছু রোগের প্রতিষেধক হিসাবেও কাজ করে যথা – 2 ধরণের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি।

ভিটামিন ডি স্বল্পতার উপসর্গ :- কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ লক্ষ্য করা যায় ভিটামিন ডি এর স্বল্পতার কারন স্বরূপ। সেগুলি হলো –
১) প্রায়-ই অসুস্থ হয়ে পড়া
২) ক্লান্তি বোধ করা
৩) বিষন্নতা
৪) অতিরিক্ত চুল পড়া
৫) কোনো আঘাত এর ঘা দেরিতে শুকোনো প্রভৃতি।

ভিটামিন ডি এর উপকারীতা: -ভিটামিন ডি এর কিছু নির্দিষ্ট উপকারিতা লক্ষ্যণীয় যা জেনে রাখা সবার জন্য আবশ্যক। সেগুলি হলো যথাক্রমে :
1) ভিটামিন ডি চোখের সমস্যা কে দূরে রাখতে সাহায্য করে :-
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে দূরে রাখতে সহায়তা করে ভিটামিন ডি।
2) ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে:
ক্যালসিয়াম এর সহায়তায় ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যার অবসান ঘটায়। অনেকসময় আমাদের শরীরে পেশিতে টান লাগে,সেই বিষয় এড়িয়ে যাবেন না, মনে রাখবেন এগুলোই কিন্তু রিকেট এর মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
3) কোলেস্টেরোল কমাতে সাহায্য করে ভিটামিন ডি: শরীরের জন্য খারাপ কোলেস্টেরোল কমাতে বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে স্ত্রীরজ কমে যাওয়ার পর কোলেস্টেরোল কমাতে এছাড়া হার্ট এর সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে।
4) দীর্ঘকালীন মাথা ব্যথা এবং ওজন হ্রাস করতেও সাহায্য করে ভিটামিন ডি: দীর্ঘদিনের মাথা ব্যথা এবং ওজন বিশেষত মহিলাদের ওজন হ্রাস করতে ভিটামিন ডি যথেষ্ট উপকারী।

নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি :-

জাতীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নিত্যদিন কত পরিমানে ভিটামিন ডি শরীরে লাগবে তার পরিসংখ্যান পেশ করেছেন। সেটি নিম্নলিখিত:
1) 1-13 বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য 15 মাইক্রোগ্রাম।
2) 14-18 বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের 15 মাইক্রোগ্রাম।
3) 19-50 বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের 15 মাইক্রোগ্রাম।

ভিটামিন ডি এর উৎস: ব্রিটিশ ডায়াটেটিক্স এসোসিয়েশন এর মতানুযায়ী সূর্যালোকের পাশাপাশি বেশ কিছু খাদ্যও ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে তৈরী করতে সাহায্য করে। সেগুলি হলো :-

১) মাছের তেল
২) শুকনো মাশরুম
৩) ডিম্
৪) দুধ
৫) মাখন প্রভৃতি।