সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিড়ি কারখানা বন্ধ হচ্ছে শুল্ককর বৈষম্যে,বেকার হচ্ছেন কর্মীরা

ঢাকা ব্যুরো #

বিড়ি শিল্প রক্ষা, চলতি বাজেটে বিড়ির উপর বৃদ্ধিকৃত ৪ টাকা মূল্য প্রত্যাহার, বিড়ির উপর অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, সপ্তাহে ছয়দিন কাজের নিশ্চয়তাসহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিড়ি শ্রমিকরা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের আয়োজনে নারীসহ কয়েকশ বিড়ি শ্রমিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বঙ্গালী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বিড়ি তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা বিকল্প কোন কাজ না পেয়ে বিড়ি কারখানায় শ্রম দেয়। বিড়ি শিল্পে সমাজের অসহায়, বিশেষ করে চর, মঙ্গা অঞ্চলের অসহায় মানুষ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, পঙ্গুসহ বেকার শ্রমিকদের একমাত্র কর্মসংস্থান। কিন্তু বিড়িতে মাত্রাতিরিক্ত করারোপের ফলে বিড়ি মালিকরা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে শ্রমিকরা কর্ম হারিয়ে বেকার জীবন যাপন করছে। করোনা মহামারিতে কর্মের অভাবে তারা চরম অসহায়ত্বে দিনাতিপাত করছে।

এ বছর ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটেও প্রতি প্যাকেট বিড়ি ৪ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে বিড়িকে স্বমূলে ধ্বংস করার আরেকটি কৌশল অবলম্বন করেছে। বিড়িতে প্যাকেট প্রতি যেখানে ৪ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে সেখানে নিম্নস্তরের সিগারেটে মাত্র ২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও মধ্যমস্তরের সিগারেটে কোন ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি।

এই মূল্য বৈষম্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিড়ির বাজার সিগারেটের হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে বিদেশি সিগারেট কোম্পানী একচেটিয়া ব্যবসা করে এদেশ থেকে প্রচুর টাকা পাচার করছে। এছাড়াও বিড়ির উপর শুল্ক বৃদ্ধির কারণে নকল বিড়িতে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আমরা এই মূল্য বৈষম্য সৃষ্টির তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং বাজেটে মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাহার করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং করোনাকালীন সমস্যায় বিড়ি শিল্পকে সচল রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এমকে বাঙ্গালী, কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক ও পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি হেরিক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মায়া বেগম, নারায়নগঞ্জ জেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, নারায়নগঞ্জ জেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে চিলি , নিহত -২৪

বিড়ি কারখানা বন্ধ হচ্ছে শুল্ককর বৈষম্যে,বেকার হচ্ছেন কর্মীরা

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঢাকা ব্যুরো #

বিড়ি শিল্প রক্ষা, চলতি বাজেটে বিড়ির উপর বৃদ্ধিকৃত ৪ টাকা মূল্য প্রত্যাহার, বিড়ির উপর অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, সপ্তাহে ছয়দিন কাজের নিশ্চয়তাসহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিড়ি শ্রমিকরা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের আয়োজনে নারীসহ কয়েকশ বিড়ি শ্রমিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বঙ্গালী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বিড়ি তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা বিকল্প কোন কাজ না পেয়ে বিড়ি কারখানায় শ্রম দেয়। বিড়ি শিল্পে সমাজের অসহায়, বিশেষ করে চর, মঙ্গা অঞ্চলের অসহায় মানুষ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, পঙ্গুসহ বেকার শ্রমিকদের একমাত্র কর্মসংস্থান। কিন্তু বিড়িতে মাত্রাতিরিক্ত করারোপের ফলে বিড়ি মালিকরা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে শ্রমিকরা কর্ম হারিয়ে বেকার জীবন যাপন করছে। করোনা মহামারিতে কর্মের অভাবে তারা চরম অসহায়ত্বে দিনাতিপাত করছে।

এ বছর ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটেও প্রতি প্যাকেট বিড়ি ৪ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে বিড়িকে স্বমূলে ধ্বংস করার আরেকটি কৌশল অবলম্বন করেছে। বিড়িতে প্যাকেট প্রতি যেখানে ৪ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে সেখানে নিম্নস্তরের সিগারেটে মাত্র ২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও মধ্যমস্তরের সিগারেটে কোন ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি।

এই মূল্য বৈষম্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিড়ির বাজার সিগারেটের হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে বিদেশি সিগারেট কোম্পানী একচেটিয়া ব্যবসা করে এদেশ থেকে প্রচুর টাকা পাচার করছে। এছাড়াও বিড়ির উপর শুল্ক বৃদ্ধির কারণে নকল বিড়িতে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আমরা এই মূল্য বৈষম্য সৃষ্টির তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং বাজেটে মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাহার করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং করোনাকালীন সমস্যায় বিড়ি শিল্পকে সচল রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এমকে বাঙ্গালী, কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক ও পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি হেরিক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মায়া বেগম, নারায়নগঞ্জ জেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, নারায়নগঞ্জ জেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।