শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বন্ধুর স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ৫

নোয়াখালী ব্যুরো #

নোয়াখালীর সেনবাগে বন্ধুর স্ত্রীকে (৩২) বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে চারজন মিলে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার মামলায় উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক উল্যাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। একই সঙ্গে ওই গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বড় ভাই ইউপি সদস্য ছিদ্দিক উল্যা, ওবায়দুল হক, মো. এয়াছিন, আবদুল হক মাস্টার এবং মাসুদ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭-৮ দিন আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে তার স্বামীর ঝগড়া হয়। এরপর রেগে গিয়ে নিজের বাবার বাড়ি জেলার কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়ায় চলে যান তিনি। পরবর্তীতে ঝগড়ার বিষয়টি নিজের স্বামীর বন্ধু দিদারকে মুঠোফোনে জানান ওই নারী। সবকিছু শুনে গত ৫ সেপ্টেম্বর দিদার ফেনী পার্কে তার সঙ্গে দেখা করতে বললে ওই দিন সকালে ফেনীতে যান ওই গৃহবধূ।

সারাদিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে রাতে স্বামীর বাড়ি সেনবাগে পৌঁছে দেবে বলে গৃহবধূকে নিয়ে ফেনী থেকে সেনবাগের উদ্দেশে রওনা দেয় দিদার। রাত ১০টার দিকে কৌশলে সেনবাগের বীজবাগ ইউনিয়নের কাজীরখিল এলাকার সড়কের পাশের একটি নির্জন স্থানে ওই গৃহবধূকে নিয়ে গিয়ে দিদারসহ চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

গৃহবধূর অভিযোগ, পরদিন সকালে এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার ছিদ্দিক উল্যাহকে জানালে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাকে খারাপ নারী আখ্যা দিয়ে মারধর করে পুনরায় বাবার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে পাঠিয়ে দেয়।

কোনো বিচার না পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওই গৃহবধূ সেনবাগ থানায় হাজির হয়ে দিদারসহ ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সেনবাগ থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, মামলার পর রাতেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলায় অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

বন্ধুর স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ৫

প্রকাশের সময় : ০৮:২১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
নোয়াখালী ব্যুরো #

নোয়াখালীর সেনবাগে বন্ধুর স্ত্রীকে (৩২) বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে চারজন মিলে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার মামলায় উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক উল্যাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। একই সঙ্গে ওই গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বড় ভাই ইউপি সদস্য ছিদ্দিক উল্যা, ওবায়দুল হক, মো. এয়াছিন, আবদুল হক মাস্টার এবং মাসুদ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭-৮ দিন আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে তার স্বামীর ঝগড়া হয়। এরপর রেগে গিয়ে নিজের বাবার বাড়ি জেলার কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়ায় চলে যান তিনি। পরবর্তীতে ঝগড়ার বিষয়টি নিজের স্বামীর বন্ধু দিদারকে মুঠোফোনে জানান ওই নারী। সবকিছু শুনে গত ৫ সেপ্টেম্বর দিদার ফেনী পার্কে তার সঙ্গে দেখা করতে বললে ওই দিন সকালে ফেনীতে যান ওই গৃহবধূ।

সারাদিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে রাতে স্বামীর বাড়ি সেনবাগে পৌঁছে দেবে বলে গৃহবধূকে নিয়ে ফেনী থেকে সেনবাগের উদ্দেশে রওনা দেয় দিদার। রাত ১০টার দিকে কৌশলে সেনবাগের বীজবাগ ইউনিয়নের কাজীরখিল এলাকার সড়কের পাশের একটি নির্জন স্থানে ওই গৃহবধূকে নিয়ে গিয়ে দিদারসহ চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

গৃহবধূর অভিযোগ, পরদিন সকালে এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার ছিদ্দিক উল্যাহকে জানালে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাকে খারাপ নারী আখ্যা দিয়ে মারধর করে পুনরায় বাবার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে পাঠিয়ে দেয়।

কোনো বিচার না পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওই গৃহবধূ সেনবাগ থানায় হাজির হয়ে দিদারসহ ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সেনবাগ থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, মামলার পর রাতেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলায় অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।