সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বেনাপোলের ঐতিহ্যের অন্যতম তীর্থস্থান ‘নামাচার্য ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি আশ্রম

শেখ নাছির উদ্দিন #
বেনাপোলের ঐতিহ্যের অন্যতম তীর্থস্থান ‘নামাচার্য ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি আশ্রম’। আর এ আশ্রমের প্রধান আকর্ষণ হরিদাস ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ‘সিদ্ধবৃক্ষ মাধবীলতা ও তমালবৃক্ষ’।
হরিদাসের জন্ম ১৪৪৯ সালে। সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়ার কেড়াগাছি গ্রামে। কৈশোরে উত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে কী যেনো এক ভাবের উদয় হয়। সে ভাব তাকে গভীর থেকে আরও গভীরে নিয়ে যায়। অবশেষে ভিটেমাটি ছেড়ে হরিদাস হরিনামকে সঙ্গে করে ঠাকুর মনুষ্য লোকালয় ছেড়ে ছুটতে ছুটতে আশ্রয় নিলেন বেনাপোলের এক নির্জন জঙ্গলে। যেখানে ‘নামাচার্য ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি আশ্রম’। আজ থেকে ৫৬৪ বছর আগে সেখানে জঙ্গল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সেই জঙ্গলাশ্রম পরিণত হলো এক মহাতীর্থস্থানে। এই মহাতীর্থস্থানের সবকিছুই এখন নতুন। নতুন ফটক, নতুন ভবন, নতুন প্রতিমা, নতুন জাদুঘর, নতুন ভক্ত। সময়ের ব্যবধানে সবকিছুই পরিবর্তিত। পুরোনোর মধ্যে রয়ে গেছে শুধু দুটি গাছ- মাধবীলতা ও তমালবৃক্ষ। এ গাছ মরে যাওয়ার কথা বহু আগেই। কিন্তু মরেনি। হয়তো লতায়, পাতায় আর ফুলে-ফুলে ঠাকুর হরিদাসের স্মৃতি বহন করে দাঁড়িয়ে আছে আজও। ভক্তরা একে বলে ‘সিদ্ধবৃক্ষ মাধবীলতা’। আশ্রমের কোষাধ্যক্ষ বাবুল বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলাম কেন একে সিদ্ধবৃক্ষ বলছেন? তিনি শোনালেন সেই কথা- একটি মাধবীলতা গাছ বাঁচে বড়জোর ১০ থেকে ১৫ বছর। কিন্তু এর বয়স ৫৪৮ বছর। আজও দাঁড়িয়ে আছে এ গাছ। শুধু তাই না, প্রতিবসন্তেই ফুল দেয় এ মাধবী গাছটি। লালচে সাদা ফুলে ভরে ওঠে মাধবীতলা। মধ্য বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত প্রায় দেড় মাস ফুল দেয় এই মাধবীলতা।
ঠাকুর হরিদাস বেনাপোলের এ পাটবাড়ি আশ্রমে এসেছিলেন ১৪৭১ সালে। তিনি আসার আগেও এ গাছটি ছিল। তখন এটি ছিল একটা ছোট্ট লতাপাতার মতো। ৫৪৮ বছরে এ গাছটি এখন শক্ত কাণ্ডের একটি গাছে পরিণত হয়েছে। মাধবীলতা ফুলের গাছ এতো শক্ত কাণ্ডের কখনো হয় না।
আছে বহু পুরনো তমাল গাছ। কথিত আছে, মহাপ্রভু গৌরাঙ্গের হাতের লাঠি রেখে যান এই পাটবাড়ি আশ্রমে। সেই লাঠি (শষ্ঠি) থেকেই এ তমাল গাছটির জন্ম। অদ্বৈত মহাপ্রভুর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ভক্তদের কাছে এ তমাল গাছটিও পূজনীয়। আশ্রমের প্রবেশদ্বারেই রয়েছে এ তমাল গাছটি। বেনাপোল বাজার থেকে অল্পদূরেই পাটবাড়ি। পথধরে এগোতেই চোখে পড়বে এ আশ্রম। আশ্রমের প্রবেশ করেই যে গাছটি দেখা যাবে সেটি তমাল। আর মন্দিরের পাশে যে গাছটি সেটি মাধবীলতা। ভক্তদের কাছে মহাপূজনীয় এ গাছ দুটি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

ঠাকুরগাঁওয়ে কুয়াশায় ঢাকা চারপাশ, কমেছে তাপমাত্রা

বেনাপোলের ঐতিহ্যের অন্যতম তীর্থস্থান ‘নামাচার্য ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি আশ্রম

প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
শেখ নাছির উদ্দিন #
বেনাপোলের ঐতিহ্যের অন্যতম তীর্থস্থান ‘নামাচার্য ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি আশ্রম’। আর এ আশ্রমের প্রধান আকর্ষণ হরিদাস ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ‘সিদ্ধবৃক্ষ মাধবীলতা ও তমালবৃক্ষ’।
হরিদাসের জন্ম ১৪৪৯ সালে। সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়ার কেড়াগাছি গ্রামে। কৈশোরে উত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে কী যেনো এক ভাবের উদয় হয়। সে ভাব তাকে গভীর থেকে আরও গভীরে নিয়ে যায়। অবশেষে ভিটেমাটি ছেড়ে হরিদাস হরিনামকে সঙ্গে করে ঠাকুর মনুষ্য লোকালয় ছেড়ে ছুটতে ছুটতে আশ্রয় নিলেন বেনাপোলের এক নির্জন জঙ্গলে। যেখানে ‘নামাচার্য ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি আশ্রম’। আজ থেকে ৫৬৪ বছর আগে সেখানে জঙ্গল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সেই জঙ্গলাশ্রম পরিণত হলো এক মহাতীর্থস্থানে। এই মহাতীর্থস্থানের সবকিছুই এখন নতুন। নতুন ফটক, নতুন ভবন, নতুন প্রতিমা, নতুন জাদুঘর, নতুন ভক্ত। সময়ের ব্যবধানে সবকিছুই পরিবর্তিত। পুরোনোর মধ্যে রয়ে গেছে শুধু দুটি গাছ- মাধবীলতা ও তমালবৃক্ষ। এ গাছ মরে যাওয়ার কথা বহু আগেই। কিন্তু মরেনি। হয়তো লতায়, পাতায় আর ফুলে-ফুলে ঠাকুর হরিদাসের স্মৃতি বহন করে দাঁড়িয়ে আছে আজও। ভক্তরা একে বলে ‘সিদ্ধবৃক্ষ মাধবীলতা’। আশ্রমের কোষাধ্যক্ষ বাবুল বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলাম কেন একে সিদ্ধবৃক্ষ বলছেন? তিনি শোনালেন সেই কথা- একটি মাধবীলতা গাছ বাঁচে বড়জোর ১০ থেকে ১৫ বছর। কিন্তু এর বয়স ৫৪৮ বছর। আজও দাঁড়িয়ে আছে এ গাছ। শুধু তাই না, প্রতিবসন্তেই ফুল দেয় এ মাধবী গাছটি। লালচে সাদা ফুলে ভরে ওঠে মাধবীতলা। মধ্য বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত প্রায় দেড় মাস ফুল দেয় এই মাধবীলতা।
ঠাকুর হরিদাস বেনাপোলের এ পাটবাড়ি আশ্রমে এসেছিলেন ১৪৭১ সালে। তিনি আসার আগেও এ গাছটি ছিল। তখন এটি ছিল একটা ছোট্ট লতাপাতার মতো। ৫৪৮ বছরে এ গাছটি এখন শক্ত কাণ্ডের একটি গাছে পরিণত হয়েছে। মাধবীলতা ফুলের গাছ এতো শক্ত কাণ্ডের কখনো হয় না।
আছে বহু পুরনো তমাল গাছ। কথিত আছে, মহাপ্রভু গৌরাঙ্গের হাতের লাঠি রেখে যান এই পাটবাড়ি আশ্রমে। সেই লাঠি (শষ্ঠি) থেকেই এ তমাল গাছটির জন্ম। অদ্বৈত মহাপ্রভুর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ভক্তদের কাছে এ তমাল গাছটিও পূজনীয়। আশ্রমের প্রবেশদ্বারেই রয়েছে এ তমাল গাছটি। বেনাপোল বাজার থেকে অল্পদূরেই পাটবাড়ি। পথধরে এগোতেই চোখে পড়বে এ আশ্রম। আশ্রমের প্রবেশ করেই যে গাছটি দেখা যাবে সেটি তমাল। আর মন্দিরের পাশে যে গাছটি সেটি মাধবীলতা। ভক্তদের কাছে মহাপূজনীয় এ গাছ দুটি।