সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

৩০ টাকায় আমদানি করা পেঁয়াজ, হাত বদলে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়

মশিউর রহমান কাজল #

দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি থাকলেও খোলাবাজারে কমেনি দাম। ৩০ টাকায় আমদানি করা পেঁয়াজ, বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। একহাত বদলে বেড়ে যাচ্ছে কেজিতে ২০ টাকা। এতে চাহিদামতো পণ্য কিনতে না পেরে বেকায়দায় পড়েছেন ক্রেতারা। তবে বাজারের আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ৫৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। গত এক ১৩ দিনে এ বন্দর দিয়ে ৬৫০ মে: টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা একেক জন একেক রকম দাম নিচ্ছেন। এতে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার কমিটি বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না বাড়ালে এটি নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে জানান তারা। ক্রেতারা বলছেন, এমনিতেই কাজ নেই। এরমধ্যে বর্তমান সময়ে অন্যায় করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ালে কীভাবে বাঁচা যায়।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় আড়াই মাস ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। কিছু দিন হলো এ বন্দরের রেল ও স্থলপথে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য দ্রব্যসহ পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। তবে আমদানি বাড়লেও খোলাবাজারে কোনোভাবেই কমছে না মূল্য। বাজার কমিটি বা প্রশাসনের তেমন কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় খুশিমতো সাধারণ ক্রেতাদের ঠকাচ্ছেন বিক্রেতারা। পেঁয়াজ আমদানিকারক শেখ এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহাবুব রহমান ডলার বলেন, প্রতি মে.টন পেঁয়াজ ভারত থেকে ৩০০ ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়েছে। অন্যান্য খরচ রয়েছে কেজিতে আড়াই টাকার মতো। আড়তদারদের কাছে তারা বিক্রি করছেন কেজিতে ৫০-৫৫ টাকা দরে। পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খুলনার হামিদ এন্টারপ্রাইজের বেনাপোলের প্রতিনিধি দিপু বলেন, আগে পেঁয়াজ আমদানি হতো প্রতি মে.টন ১৫৫ ডলারে। ভারতের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় বন্যা হওয়ায় পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে ভারত সরকার পেঁয়াজের রফতানি মূল্য ১৫৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। অর্থ্যাৎ দ্বিগুনের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। এ কারণে দামও বেড়েছে। এ মূল্য সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা রাশেদ বলেন, কেনার পর অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয় তাই একটু বেশি দামে বিক্রয় করতে হয়।
তবে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানিতে খুশি পরিবহনকারী ট্রাক চালকেরা। করোনার কারণে এতদিন তারা পণ্য পরিবহন করতে না পেরে অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন।

বেনাপোল উদ্ভিদ সংগনিরোধের উপ-সহকারী কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার বলেন, শনিবার ১৮৫ মে. টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে। দিন দিন পেঁয়াজ আমদানি কমে আসছে। কারণ পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা গেছে যেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, সে অঞ্চলে বন্যা হয়েছে। এ জন্য ভারত সরকার ১৫৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ডলার মূল্যে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করছে। এছাড়া এ বন্দর দিয়ে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি মাছ, মরিচ, টমেটো, পানপাতা, আনার ও আপেলসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয়।

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, পেয়াজ সহ যে কোন উচ্চ পচনশীল পণ্য বন্দর থেকে দ্রুত খালাশের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে বসবে দুই বাংলার ভাষা প্রেমীদের মিলন মেলা -শেখ আফিল উদ্দিন, এমপি

৩০ টাকায় আমদানি করা পেঁয়াজ, হাত বদলে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়

প্রকাশের সময় : ০২:০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

মশিউর রহমান কাজল #

দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি থাকলেও খোলাবাজারে কমেনি দাম। ৩০ টাকায় আমদানি করা পেঁয়াজ, বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। একহাত বদলে বেড়ে যাচ্ছে কেজিতে ২০ টাকা। এতে চাহিদামতো পণ্য কিনতে না পেরে বেকায়দায় পড়েছেন ক্রেতারা। তবে বাজারের আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ৫৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। গত এক ১৩ দিনে এ বন্দর দিয়ে ৬৫০ মে: টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা একেক জন একেক রকম দাম নিচ্ছেন। এতে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার কমিটি বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না বাড়ালে এটি নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে জানান তারা। ক্রেতারা বলছেন, এমনিতেই কাজ নেই। এরমধ্যে বর্তমান সময়ে অন্যায় করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ালে কীভাবে বাঁচা যায়।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় আড়াই মাস ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। কিছু দিন হলো এ বন্দরের রেল ও স্থলপথে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য দ্রব্যসহ পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। তবে আমদানি বাড়লেও খোলাবাজারে কোনোভাবেই কমছে না মূল্য। বাজার কমিটি বা প্রশাসনের তেমন কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় খুশিমতো সাধারণ ক্রেতাদের ঠকাচ্ছেন বিক্রেতারা। পেঁয়াজ আমদানিকারক শেখ এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহাবুব রহমান ডলার বলেন, প্রতি মে.টন পেঁয়াজ ভারত থেকে ৩০০ ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়েছে। অন্যান্য খরচ রয়েছে কেজিতে আড়াই টাকার মতো। আড়তদারদের কাছে তারা বিক্রি করছেন কেজিতে ৫০-৫৫ টাকা দরে। পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খুলনার হামিদ এন্টারপ্রাইজের বেনাপোলের প্রতিনিধি দিপু বলেন, আগে পেঁয়াজ আমদানি হতো প্রতি মে.টন ১৫৫ ডলারে। ভারতের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় বন্যা হওয়ায় পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে ভারত সরকার পেঁয়াজের রফতানি মূল্য ১৫৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। অর্থ্যাৎ দ্বিগুনের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। এ কারণে দামও বেড়েছে। এ মূল্য সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা রাশেদ বলেন, কেনার পর অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয় তাই একটু বেশি দামে বিক্রয় করতে হয়।
তবে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানিতে খুশি পরিবহনকারী ট্রাক চালকেরা। করোনার কারণে এতদিন তারা পণ্য পরিবহন করতে না পেরে অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন।

বেনাপোল উদ্ভিদ সংগনিরোধের উপ-সহকারী কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার বলেন, শনিবার ১৮৫ মে. টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে। দিন দিন পেঁয়াজ আমদানি কমে আসছে। কারণ পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা গেছে যেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, সে অঞ্চলে বন্যা হয়েছে। এ জন্য ভারত সরকার ১৫৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ডলার মূল্যে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করছে। এছাড়া এ বন্দর দিয়ে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি মাছ, মরিচ, টমেটো, পানপাতা, আনার ও আপেলসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয়।

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, পেয়াজ সহ যে কোন উচ্চ পচনশীল পণ্য বন্দর থেকে দ্রুত খালাশের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।