সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ #
কৃষ্ণগহ্বর, মহাজাগতিক নানা তত্ত্ব, বহির্বিশ্বের প্রাণ সহ নানা ক্ষেত্রকে নিজের বিজ্ঞান বোধ দিয়ে আলোকিত করেছেন পদার্থবিদ্যায় এযুগের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। জীবনে তিন চতুর্থাংশ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে কাটিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তার বিজ্ঞান চেতনা সারা বিশ্বকে আলোকিত করেছে। নির্বাক হকিং পদার্থবিদ্যার নানা জটিল বিষয় সহজভাবে সাধারণ মানুষকে বলার চেষ্টা করেছেন।
বর্তমানে বিজ্ঞান সর্ম্পকে টুকটাক ধারণা রাখেন এমন কাউকে যদি কয়েকজন পর্দাথবিজ্ঞানীর নাম বলতে বলা হয় স্টিফেন হকিং এর নাম তার মধ্যে থাকবেই। তিনি লিখেছিলেন “এ ব্রিফ হিস্টোরি অব টাইম” (A Brief History of Time)। সব শারীরিক বাধা উপেক্ষা করেই যার মস্তিষ্ক করেছিল নানা বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনা। চলুন আজ জেনে নেই তার সর্ম্পকে অজানা কিছু তথ্য-
> স্টিফেন হকিং-এর জন্ম হয় ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি। যা গ্যালিলিও এর জন্মের ঠিক ৩০০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন।> যখন তার বয়স ছিল নয় বছর তখন তিনি ছিলেন ক্লাসের সর্বশেষ মেধাক্রমের ছাত্র অর্থাৎ পেছনের দিক থেকে প্রথম। মূল কথা, স্কুলে খারাপ ছাত্রের তালিকাতেই ছিলো তার নাম।
> যদিও পরীক্ষায় কম পেতেন তবুও তার বুদ্ধির তীব্রতায় শিক্ষকদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। বিজ্ঞান সর্ম্পকে আগ্রহের কারণে শিক্ষক আর বন্ধুরা আদর করে তাকে ডাকতেন আইনস্টাইন।
> বাবার ইচ্ছে ছিলো ছেলে ডাক্তারি পড়বে নয়তো অক্সফোর্ডে পড়বে অথচ টাকা ছিলো না। স্টিফেন হকিং তাই অংশগ্রহণ করলেন স্কলারশিপ পরীক্ষায় এবং টিকেও গেলেন সফলতার স্বাক্ষর রেখে।
> ছোটোবেলা থেকে প্রচন্ড আগ্রহ ছিলো গণিতে অথচ অক্সফোর্ডে এসে বেছে নিয়েছিলেন ফিজিক্সের একটি অপ্রচলিত শাখা কসমোলজি।
> আত্মজীবনী লেখক ক্রিস্টিন লার্সেন এর ভাষ্যমতে স্টিফেন হকিং ভার্সিটি জীবনের প্রথম দিকে ছিলেন অনেক বেশি নিঃসঙ্গ। তাই হয়তো একাকীত্ব দূর করতেই যোগ দিয়েছিলেন কলেজের বোট রেসিং টিমে। সবচেয়ে মজার কথাটি হলো তার দায়িত্ব ছিলো রেসের সময় নৌকার হাল ধরে রাখা এবং এই কাজটি তিনি এতো সফলতার সঙ্গে করেছিলেন যে অল্পকিছুদিনেই হয়ে উঠেছিলেন পুরো অক্সর্ফোডে বিপুল জনপ্রিয়। সপ্তাহে ছয়দিন সন্ধ্যায় প্র্যাকটিস করতে হতো বোট চালানোর। যা তার পড়ালেখায় মনোযোগের ব্যাঘাতও ঘটিয়েছিল।
> গ্রাজুয়েশন শেষ করে ক্রিসমাসের ছুটিতে বাড়ি আসতেই তার পরিবারের সদস্যরা তার অসুস্থতার বিষয়টি খেয়াল করেন। সেই সময়ই নিউ ইয়ার পার্টিতে দেখা হয় জেনির সঙ্গে। তার একুশ সপ্তাহ পর যখন ডাক্তারের পরীক্ষায় তিনি জানতে পারলেন তিনি ল্যাটেরাল স্ক্লেরেওসিস এ আক্রান্ত। তখন তার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায় কারণ তাকে বলা হয়, তার বেঁচে থাকার সময় মাত্র কয়েক বছর। কিন্তু সেখানে লিউকেমিয়ায় মরনাপন্ন এক শিশুকে দেখে তিনি ফিরে পান বেঁচে থাকার প্রেরণা। তাই জেনিকে নিয়ে শুরু হয় বিবাহিত জীবনের।
> ১৯৮৩ সালে জিম হার্টলের সঙ্গে আবিষ্কার করেন মহাবিশ্বের আকার আকৃতি সর্ম্পকে অজানা তথ্য।
> ২০০৭ সালে স্টিফেন হকিং তার মেয়ে লুসি হকিং এর সঙ্গে মিলে লিখেছিলেন ছোটোদের বই “George’s secret Key to the Universe” যা জর্জ নামের ছোটো বালকের কাহিনী কিন্তু যাতে রয়েছে ব্ল্যাকহোলসহ নানা বৈজ্ঞানিক ধারণা। ২০০৯ সালে বের হয়েছিল এই বইয়ের পরবর্তী পর্ব।
> জীবনে বহু পুরষ্কার পেলেও নোবেল পুরস্কারটা তার থেকে গেছে অধরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho