মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মেশিনারিজ ঘোষণায় রেডিমেড গার্মেন্ট ও বিয়ার আমদানি কমলাপুর কাস্টম হাউসে

সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ #

ঘোষণা ছিল মেশিনারিজ। কিন্তু আমদানি করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত রেডিমেড গার্মেন্ট পণ্য ও আমদানি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য (বিয়ার)। একটি চালানে ঘোষণাবহির্ভূত এসব রেডিমেড পণ্য ও আমদানি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউস কর্মকর্তারা। গতকাল ঘোষণাবহির্ভূত এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে। আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউসের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর উত্তরার (হাউস-৯, রানা ভোলা অ্যাভিনিউ, সেক্টর-১০) আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জে অ্যান্ড সি ট্রেডিং অ্যান্ড বিজনেস কনসালটেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে মেশিনারিজ ঘোষণায় ১৪ হাজার ৫০০ কেজি পণ্য আমদানি করে। এসব পণ্য খালাসের জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফিরোজ এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।

প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি করেছে বলে কমিশনার মোবারা খানমের নিকট গোপন সংবাদ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে কমিশনারের নির্দেশে আজ কাস্টমস কর্মকর্তারা কায়িক পরীক্ষা করতে যায়। কর্মকর্তারা গিয়ে দেখা পায়, কন্টেইনারের মধ্যভাগে দুটি বড় কাঠের ক্রেটে দুই সেট মেশিনারিজ। অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্মকর্তারা কন্টেইনারের ভেতর থেকে কাঠের ক্যারেট দুটি নামানোর জন্য বলে।

নামানোর পর দেখা যায়, কন্টেইনারের শেষভাগে আরও তিনটি ছোট কাঠের ক্রেট এবং অনেক ছোট বড় কার্টন। ছোট তিনটি ক্যারেট খোলার পর এর ভেতর থেকে ঘোষণাবহির্ভূত বেশকিছু পণ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে রয়েছে ৪৫০ পিস ইউপিএস চার্জার, ছয় হাজার ৮৪০ পিস রেডিমেড গার্মেন্ট (লেডিস সিনথেটিক টাউজার), ৩৬০ পিস (১৮০ লিটার) বিয়ার ক্যান, ২৪০ লিটার স্পিট জাতীয় তরল পদার্থ, ৪৭৭ কেজি ইগনেশন সুইচ, ৫২ কেজি কানেক্টিং কেব্ল, ৫২০ পিস ট্রাইমার, ১১২ পিস সিরামিক মগ, ৭৯৫ কেজি মাস্ক, ৯৩৬ কেজি সুইচ চকেট পার্টস, ছয় পিস অটোমেটিক লাইন ডায়ার, ১৫৪ কেজি পিভিসি পাইপ, ৩৫০ কেজি এসি কনট্রাক্টর, ১১০ কেজি বেইস ক্যাপ, এক হাজার ৫৪৭ কেজি লোডেড পিসিবি ফর বাল্ব ও এক হাজার ২৫৬ কেজি এসএমডি প্রভূতি।

জরিমানাসহ প্রায় ৭০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি, আমদানি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য আমদানি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে বসবে দুই বাংলার ভাষা প্রেমীদের মিলন মেলা -শেখ আফিল উদ্দিন, এমপি

মেশিনারিজ ঘোষণায় রেডিমেড গার্মেন্ট ও বিয়ার আমদানি কমলাপুর কাস্টম হাউসে

প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ #

ঘোষণা ছিল মেশিনারিজ। কিন্তু আমদানি করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত রেডিমেড গার্মেন্ট পণ্য ও আমদানি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য (বিয়ার)। একটি চালানে ঘোষণাবহির্ভূত এসব রেডিমেড পণ্য ও আমদানি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউস কর্মকর্তারা। গতকাল ঘোষণাবহির্ভূত এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে। আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউসের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর উত্তরার (হাউস-৯, রানা ভোলা অ্যাভিনিউ, সেক্টর-১০) আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জে অ্যান্ড সি ট্রেডিং অ্যান্ড বিজনেস কনসালটেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে মেশিনারিজ ঘোষণায় ১৪ হাজার ৫০০ কেজি পণ্য আমদানি করে। এসব পণ্য খালাসের জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফিরোজ এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।

প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি করেছে বলে কমিশনার মোবারা খানমের নিকট গোপন সংবাদ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে কমিশনারের নির্দেশে আজ কাস্টমস কর্মকর্তারা কায়িক পরীক্ষা করতে যায়। কর্মকর্তারা গিয়ে দেখা পায়, কন্টেইনারের মধ্যভাগে দুটি বড় কাঠের ক্রেটে দুই সেট মেশিনারিজ। অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্মকর্তারা কন্টেইনারের ভেতর থেকে কাঠের ক্যারেট দুটি নামানোর জন্য বলে।

নামানোর পর দেখা যায়, কন্টেইনারের শেষভাগে আরও তিনটি ছোট কাঠের ক্রেট এবং অনেক ছোট বড় কার্টন। ছোট তিনটি ক্যারেট খোলার পর এর ভেতর থেকে ঘোষণাবহির্ভূত বেশকিছু পণ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে রয়েছে ৪৫০ পিস ইউপিএস চার্জার, ছয় হাজার ৮৪০ পিস রেডিমেড গার্মেন্ট (লেডিস সিনথেটিক টাউজার), ৩৬০ পিস (১৮০ লিটার) বিয়ার ক্যান, ২৪০ লিটার স্পিট জাতীয় তরল পদার্থ, ৪৭৭ কেজি ইগনেশন সুইচ, ৫২ কেজি কানেক্টিং কেব্ল, ৫২০ পিস ট্রাইমার, ১১২ পিস সিরামিক মগ, ৭৯৫ কেজি মাস্ক, ৯৩৬ কেজি সুইচ চকেট পার্টস, ছয় পিস অটোমেটিক লাইন ডায়ার, ১৫৪ কেজি পিভিসি পাইপ, ৩৫০ কেজি এসি কনট্রাক্টর, ১১০ কেজি বেইস ক্যাপ, এক হাজার ৫৪৭ কেজি লোডেড পিসিবি ফর বাল্ব ও এক হাজার ২৫৬ কেজি এসএমডি প্রভূতি।

জরিমানাসহ প্রায় ৭০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি, আমদানি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য আমদানি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।