সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া ভয়াবহ যুদ্ধ : আর্মেনিয়ার ৮৪ সেনা নিহত

দেবুল কুমার দাস ##

আর্মেনিয়ার দখলে থাকা নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিতে তুমুল লড়াই জড়িয়ে পড়েছে আজারবাইজান। রবিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাতে উভয়পক্ষে ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার আর্মেনিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, এ প্রাণঘাতী সংঘাতে তাদের আরও ২৬ জন সেনা নিহত হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত দেশটির সেনাদের মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বেসামরিক লোক মারা গেছেন ১১ জন, যার মধ্যে ৯ জন আজারবাইজানের, বাকি দুইজন আর্মেনিয়ার। এ লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ জনে।

বাকু ও ইয়েরেভানের কর্মকর্তারা জানান, সোমবারেও তীব্র লড়াই হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।  নাগোরনো-কারবাখের নেতা আরায়িক হারুতিউনিয়ান বলেন, ‘এটা জীবন-মৃত্যুর যুদ্ধ।’ এদিন সন্ধ্যায় আজারবাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্তসরুন হোভানিসায়ান বলেন, ‘আজারবাইজানি সেনারা কারবাখ ফ্রন্টলাইনের দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছে।’

এ লড়াই শুরুর জন্য দু’দেশ পরস্পরকে দায়ী করছে। আর্মেনিয়া বলছে, আজারবাইজান প্রথমে বিমান ও কামান দিয়ে হামলা শুরু করেছে। পরে তারা এর জবাব দেওয়া শুরু করেছে এবং সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে হামলার জন্য সংঘবদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজান বলছে, চারদিক থেকে শুরু হওয়া গোলাবর্ষণের জবাব দিয়েছে তারা।

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় দেশই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তারা দুটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়।

তবে নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ বাধে। এ নিয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সালে অঞ্চলটি দখলে নিয়ে নেয় আর্মেনিয়া।যদিও নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চলটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি।

ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ মারা যায় এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। এই উদ্বাস্তুদের চাপ তৈরি হয় আজারবাইজানের ওপর। ২০১৬ সালেও অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিল।

চলতি বছরের গত জুলাইয়ে সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

ঠাকুরগাঁওয়ে কুয়াশায় ঢাকা চারপাশ, কমেছে তাপমাত্রা

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া ভয়াবহ যুদ্ধ : আর্মেনিয়ার ৮৪ সেনা নিহত

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেবুল কুমার দাস ##

আর্মেনিয়ার দখলে থাকা নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিতে তুমুল লড়াই জড়িয়ে পড়েছে আজারবাইজান। রবিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাতে উভয়পক্ষে ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার আর্মেনিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, এ প্রাণঘাতী সংঘাতে তাদের আরও ২৬ জন সেনা নিহত হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত দেশটির সেনাদের মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বেসামরিক লোক মারা গেছেন ১১ জন, যার মধ্যে ৯ জন আজারবাইজানের, বাকি দুইজন আর্মেনিয়ার। এ লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ জনে।

বাকু ও ইয়েরেভানের কর্মকর্তারা জানান, সোমবারেও তীব্র লড়াই হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।  নাগোরনো-কারবাখের নেতা আরায়িক হারুতিউনিয়ান বলেন, ‘এটা জীবন-মৃত্যুর যুদ্ধ।’ এদিন সন্ধ্যায় আজারবাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্তসরুন হোভানিসায়ান বলেন, ‘আজারবাইজানি সেনারা কারবাখ ফ্রন্টলাইনের দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছে।’

এ লড়াই শুরুর জন্য দু’দেশ পরস্পরকে দায়ী করছে। আর্মেনিয়া বলছে, আজারবাইজান প্রথমে বিমান ও কামান দিয়ে হামলা শুরু করেছে। পরে তারা এর জবাব দেওয়া শুরু করেছে এবং সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে হামলার জন্য সংঘবদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজান বলছে, চারদিক থেকে শুরু হওয়া গোলাবর্ষণের জবাব দিয়েছে তারা।

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় দেশই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তারা দুটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়।

তবে নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ বাধে। এ নিয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সালে অঞ্চলটি দখলে নিয়ে নেয় আর্মেনিয়া।যদিও নাগোরনো-কারবাখ অঞ্চলটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি।

ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ মারা যায় এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। এই উদ্বাস্তুদের চাপ তৈরি হয় আজারবাইজানের ওপর। ২০১৬ সালেও অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিল।

চলতি বছরের গত জুলাইয়ে সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।