Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১বুধবার , ২৪ মার্চ ২০২১
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

সোশ্যাল মিডিয়ায় কঙ্গনাকে নিয়ে ট্রোলিং

বার্তাকন্ঠ
মার্চ ২৪, ২০২১ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সোমবার জাতীয় পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কঙ্গনা রানাওয়াতকে নিয়ে শুরু হয়েছে ট্রোলিং। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, বিজেপি ঘনিষ্ট বলেই কঙ্গনাকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার ‘পাইয়ে দেওয়া’ হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পুরস্কার কি সত্যিই পক্ষপাতদুষ্ট? এই প্রসঙ্গে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্টজনের মতই বা কী? জানার চেষ্টা করলেন অভিনন্দন দত্ত।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্য আমি লড়াই করেছি
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক): আগে বহুবার জাতীয় পুরস্কার পেলেও গত দশ বছর পাইনি। কী কারণ জানি না। অথচ আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছি। এটাও ঠিক যে পুরস্কারের কথা চিন্তা করে আমি কোনওদিন ছবি করিনি। কঙ্গনার ছবিগুলো আমি দেখিনি। তাই আমার মন্তব্য করা উচিত নয়। হতেই তো পারে তিনি সত্যিই ভালো অভিনয় করেছেন। আমি দু’বার জাতীয় পুরস্কারের জুরি বোর্ডে ছিলাম। একটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ছে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ‘পদক্ষেপ’ ছবির জন্য যেবার সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পেলেন, সেবার আমি ছিলাম জুরি চেয়ারম্যান। আমিই জুরি সদস্যদের সৌমিত্রবাবুর দীর্ঘ কেরিয়ার সম্বন্ধে অবগত করেছিলাম এবং তাঁকে সেরা অভিনেতা বেছে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে একবার সৌমিত্রবাবু সহ-অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাই সেবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার ঘোষণার পর ওঁকে ফোন করে পুরস্কার নিতে অনুরোধ করেছিলাম। দিল্লিতে গিয়ে সেবারের পুরস্কার এবং ফিরিয়ে দেওয়া পুরস্কার দুটোই নিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক দল বা কোনও ইন্ডাস্ট্রির তরফেও প্রভাব খাটানো হয়
গৌতম ঘোষ (পরিচালক, প্রাক্তন জুরি সদস্য): জাতীয় পুরস্কারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। সেখানে কাউকে পছন্দ করার মতো বিষয়গুলো নেই বলে অস্বীকার করব না। সেখানে রাজনৈতিক দল বা বিশেষ কোনও ইন্ডাস্ট্রির তরফেও প্রভাব খাটানো হয়। তবে এবারের ছবিগুলো দেখিনি বলে কঙ্গনার যোগ্যতা নিয়ে কিছু বলতে পারব না। এখন তো অভিনেতা অভিনেত্রীদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক। সেইজন্য হয়তো কঙ্গনাকে নিয়ে বিতর্কটা শুরু হয়েছে। তবে আবার সবসময় যে পক্ষপাত থাকে সেটাও ঠিক নয়।

কান, বার্লিন, অস্কার—সব পুরস্কার নিয়েই তো অভিযোগ
শেখর দাস (প্রাক্তন জুরি সদস্য ও পরিচালক): অভিযোগ করা খুব সহজ। কান, বার্লিন, অস্কার—সব পুরস্কার নিয়েই তো অভিযোগের শেষ নেই। অনেক বড় বড় পরিচালক রেগে গিয়েছেন। তাঁদের মনে হয়েছে যে তাঁদের সঙ্গে হয়তো অবিচার হয়েছে। কিন্তু সেখানে পক্ষপাত আছে কি না, তা আমার জানা নেই। অতীত হাতড়ে দেখলে বোঝা যাবে যাঁদের বা যে ছবিগুলোকে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সেগুলো খুব খারাপ নয়। এখন যে রাজনৈতিক দল সরকারে আছে শিল্পীমহলের একাংশ তো তাদের বেশ বিরোধী। আগে অন্য সরকারের সময়েও বিরোধিতা হয়েছিল। জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধী না থাকলে ‘পথের পাঁচালি’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে নাও যেতে পারত। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তখন জুরি সদস্য সত্যজিৎ রায়। কিন্তু ‘সাত পাকে বাঁধা’র পরিবর্তে ‘এইট অ্যান্ড হাফ’ সেরা ছবির পুরস্কার পায়। শুনেছি মানিকবাবু খুব রেগে গিয়েছিলেন।

দর্শক পছন্দ না করলে পুরস্কারের কোনও অর্থ নেই
ঋদ্ধি সেন (জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা): প্রথমেই বলি, আমি কঙ্গনা রানাওয়াতের অভিনয়ের গুণমুগ্ধ। ওঁকে অনেক শুভেচ্ছা। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না অভিনয়ের মান দিয়েই কোনও পুরস্কারকে বিচার করা উচিত। ‘কুইন’ এর জন্য কঙ্গনা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন, তা নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এবার যে দুটো ছবির জন্য তিনি পুরস্কার পেয়েছেন সেখানে ওঁর অভিনয় খুব ভালো নয়। ‘নগরকীর্তন’ মুক্তি পাওয়ার আগে আমি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলাম। তাই রিলিজের পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া পেয়ে আমার আর কোনও সন্দেহ ছিল না। কারণ দর্শক যদি পছন্দ না করেন, তাহলে সেই পুরস্কারের কোনও অর্থ থাকে না। কঙ্গনার ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টোটা। ছবিগুলো দর্শক আগেই দেখে বুঝেছেন যে, এই দুটো ছবির জন্য অনন্ত কঙ্গনার সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার কথা নয়। তাই পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

ছোট থেকেই শুনছি জাতীয় পুরস্কারে ‘লবি’ হয়
সুদীপ্তা চক্রবর্তী (জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী): জাতীয় পুরস্কারে মুখ দেখাদেখি থাকাটা অসম্ভব বলে মনে হয় না। কারণ পৃথিবীর সমস্ত অ্যাওয়ার্ডই শুনেছি পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। কিন্তু আমার কাছে তার প্রমাণ নেই। অনেক ছোট বয়স থেকে শুনেছি যে জাতীয় পুরস্কারে বিভিন্ন ‘লবি’ কাজ করে। কঙ্গনার অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু যে দুটো ছবির জন্য ওঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমি দেখিনি। তবে ওঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে তা যদি সত্যি হয়, সেটা অত্যন্ত দুঃখের!

এটাকে আমি ঠিক ‘লবি’ বলতে চাই না
শ্রীলেখা মুখোপাধ্যায় (প্রাক্তন জুরি সদস্য): একদম অসম্ভব নয়। আর এটাকে আমি ঠিক ‘লবি’ও বলতে চাই না। কারণ আমার সঙ্গে কারও সম্পর্ক থাক বা না থাক, একজন বাঙালি হিসেবে বাংলা ছবিকেই সেখানে এগিয়ে দিতে চাইব। ছবি বাছাইয়ের সময় প্রত্যেক রাজ্যের ক্ষেত্রেই এটা হয়ে থাকে। তখন তো মনে হতেই পারে যে, ভালো বাংলা ছবিটার হয়ে আমি একটু লড়াই করি। কিন্তু সবাই যখন একসঙ্গে মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন দেখা যায় প্রত্যেকেই ওই ছবিটার সমর্থনেই কথা বললেন। মনে পড়ছে, আমি যখন ছিলাম তখন সবাই ‘এক যে ছিল রাজা’ ছবিটার প্রশংসা করেছিলেন। ‘পঙ্গা’ ও ‘মণিকর্ণিকা’— দুটো ছবিই আমি দেখেছি। সেখানে কঙ্গনার অভিনয় দেখে আমার অন্তত মনে হয়নি যে, ওঁকে পুরস্কার পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

সবটাই এখন রাজনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত 
অনিকেত চট্টোপাধ্যায় (পরিচালক): জাতীয় পুরস্কার নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। লবি তো ছিলই। তবে এখন দেখছি, সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়েছে। পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে বা এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা)তে কে দায়িত্ব নেবেন— সবটাই এখন রাজনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কেন কঙ্গনা রানাওয়াত? আর কি কেউ ছিলেন না! তাহলে তো বলে দেওয়াই ভালো যে আগামী তিন-চার বছর অক্ষয়কুমারের জন্য জাতীয় পুরস্কার তোলা থাকবে। বাঙালি পরিচালকদের মধ্যে সৃজিত (মুখোপাধ্যায়) আমার অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু ‘গুমনামী’ ছবিটার বিষয় নিয়ে আমার শুরু থেকে আপত্তি ছিল। এইরকম মিথ্যা তত্ত্ব নিয়ে তৈরি অনৈতিক একটা ছবিকে পুরস্কার পাইয়ে দেওয়াটাও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সেই রাজনীতি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে চায়। তার মানে ছবিটার কনটেন্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে! নেতাজির মতো একজন মানুষকে নিয়ে একটা গুজবের উপর ভিত্তি করে তৈরি ছবির পুরস্কার পাওয়াটা বাঙালির অপমান।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।