প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৬, ৫:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৩, ২০২১, ১২:৩২ পি.এম
বিশ্বে মহামারিতে ক্ষুধা ও অপুষ্টি বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
করোনা মহামারির মধ্যে এ বছর বিশ্বজুড়ে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ক্ষুধার্থ ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৮ লাখে। গত বছরের সঙ্গে এ বছরের এই আমূল পরিবর্তনকে অনেকটা নাটকীয় বলেই আখ্যা দিচ্ছে জাতিসংঘ।
বিশ্বের জনসংখ্যার ১০ শতাংশের সমান এবং ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ১১৮ মিলিয়ন বেড়েছে অপুষ্টির সংখ্যা এবং বর্তমানে এই সংখ্যা এসে দাড়িয়েছে ৭৬৮ মিলিয়নে। জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) রিপোর্ট থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
জাতিসংঘের পাঁচটি অঙ্গসংগঠনের প্রধান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে এই মহামারি আমাদের খাদ্য ব্যবস্থায় দুর্বলতাগুলি প্রকাশ করে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকিস্বরূপ। বিশ্বের কোনো অঞ্চলই এই অবস্থা থেকে রেহাই পায়নি।’ তারা এই অবস্থাকে 'ক্রিটিক্যাল জাংচার' অর্থাৎ সঙ্কটকালীন অবস্থা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের প্রায় অর্ধেকরও বেশি সংখ্যক মানুষ এশিয়া মহাদেশের। এ মহাদেশে এই সংখ্যাটি ৪১৮ মিলিয়ন ছুঁয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশে তাদের জনসংখ্যার প্রায় ২১ ভাগ মানুষই অপুষ্টিতে ভোগে বলে রিপোর্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রায় ১৪৯ মিলিয়নই হচ্ছে শিশু যাদের বয়স পাঁচ বছরেরও কম।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ তাদের স্থিতিশীল লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি ক্ষুধামুক্ত পৃথিবীর অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে যে হারে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছে তাতে করে এই লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু সফল হবে সে বিষয়ে অনেকেই সন্দিহান। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগামের (ডব্লিউএফপি) সিস্টেম এনালাইসিসের প্রধান সাসকিয়া ডি'পিয়ারের ভাষ্যমতে, ‘আমরা তাত্ক্ষণিক ১৩৮ মিলিয়ন খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য রেখেছি এবং আরও অনেক লোকের দীর্ঘমেয়াদী পরিস্থিতি উন্নতির জন্য আমরা দেশগুলোর সরকার্রের সাথে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’
সাসকিয়া আরও মনে করেন, মহামারির সময়টিতে সরকারগুলো তাদের বাজাটের ঘাটতি মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়াও বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং নিম্নমুখী অর্থনীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের প্রধান অর্থনীতিবিদ আরিফ হোসাইন বলেন, ‘আমাদের সব থেকে বড় সঙ্কাটি সত্যি হতে যাচ্ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কয়েক দশক না লাগলেও অন্তঃতপক্ষে বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে।’
সংকটকালীন এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে এই প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যে নীতি-নির্ধারকদের পুষ্টিহীনতা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যেমন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবিক উন্নয়ন ও শান্তি-নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা; অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার জন্য সবচেয়ে দুর্বলদের স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণ; এবং দারিদ্র্য এবং কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho