শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফের আল-আকসায় মুসলমানদের প্রবেশে বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদ থেকে ফের মুসলমানদের বের করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এসময় তারা মুসল্লিদের ওপর টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনী হাজার খানেক ইহুদিকে জোরপূর্বক আল-হারাম আল-শরীফে প্রবেশ করায়। রবিবার মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে এ অভিযানের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইসরায়েলি সেনারা কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে মারধরও করে। আটকও করা হয় কয়েকজনকে।

এদিকে আল-আকসা মসজিদে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের এ অংশটি দেশটির পশ্চিম তীর শাসন করছে। এক বিবৃতিতে তারা বলছে, সেনাদের এই আগ্রাসনের পুরোটা দায় নিতে হবে ইসরায়েল সরকারকে। একই সঙ্গে আল-হারাম আল-শরীফে ইহুদিদের জোরপূর্বক প্রবেশকে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবেও দেখছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি হামলার আগে কয়েকজন ফিলিস্তিনি যুবক তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছিল।

সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীর পর মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ। খৃষ্টপূর্ব ১০০৪ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন হযরত সোলায়মান আলাইহি ওয়াসাল্লাম। দুইটি বড় ও ১০টি ছোট গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিতে প্রকাশ পেয়েছে নির্মাণশৈলীর এক মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি।

বিভিন্ন সময়ে মসজিদটি সংস্কারে ব্যবহার করা হয় মার্বেল, স্বর্ণসহ নানা ধরণের মূল্যবান ধাতু ও পাথর। এটিকে মুসলমানদের পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ইউনেস্কো।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমি অবৈধভাবে দখলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় ইহুদিরাষ্ট্র ইসরাইল। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৭ সালে আরবদের সাথে যুদ্ধে, আল-আকসা মসজিদ দখল করে নেয় দেশটি। এরপর থেকেই এটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে দখলদার বাহিনী। আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর আল-আকসা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরাইল। এমনকি ১৯৬৯ সালে পবিত্র মসজিটিতে অগ্নিসংযোগও করেছিল দখলদাররা। এরপর নানা বিধিনিষেধ আর শর্ত পূরণের মাধমে সেখানে ইবাদতের সুযোগ পেতেন সাধারণ মুসল্লিরা।

ইহুদিদের কাছে এই স্থানটি টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি, এর নিচেই রয়েছে তাদের দুইটি প্রাচীন মন্দির। অন্যদিকে খ্রিস্টানরাও আল-আকসা মসজিদের স্থাপনাকে তাদের পবিত্র স্থান হিসেবে দাবি করে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ফের আল-আকসায় মুসলমানদের প্রবেশে বাধা

প্রকাশের সময় : ০২:৪০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুলাই ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদ থেকে ফের মুসলমানদের বের করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এসময় তারা মুসল্লিদের ওপর টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনী হাজার খানেক ইহুদিকে জোরপূর্বক আল-হারাম আল-শরীফে প্রবেশ করায়। রবিবার মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে এ অভিযানের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইসরায়েলি সেনারা কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে মারধরও করে। আটকও করা হয় কয়েকজনকে।

এদিকে আল-আকসা মসজিদে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের এ অংশটি দেশটির পশ্চিম তীর শাসন করছে। এক বিবৃতিতে তারা বলছে, সেনাদের এই আগ্রাসনের পুরোটা দায় নিতে হবে ইসরায়েল সরকারকে। একই সঙ্গে আল-হারাম আল-শরীফে ইহুদিদের জোরপূর্বক প্রবেশকে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবেও দেখছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি হামলার আগে কয়েকজন ফিলিস্তিনি যুবক তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছিল।

সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীর পর মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ। খৃষ্টপূর্ব ১০০৪ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন হযরত সোলায়মান আলাইহি ওয়াসাল্লাম। দুইটি বড় ও ১০টি ছোট গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিতে প্রকাশ পেয়েছে নির্মাণশৈলীর এক মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি।

বিভিন্ন সময়ে মসজিদটি সংস্কারে ব্যবহার করা হয় মার্বেল, স্বর্ণসহ নানা ধরণের মূল্যবান ধাতু ও পাথর। এটিকে মুসলমানদের পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ইউনেস্কো।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমি অবৈধভাবে দখলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় ইহুদিরাষ্ট্র ইসরাইল। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৭ সালে আরবদের সাথে যুদ্ধে, আল-আকসা মসজিদ দখল করে নেয় দেশটি। এরপর থেকেই এটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে দখলদার বাহিনী। আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর আল-আকসা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরাইল। এমনকি ১৯৬৯ সালে পবিত্র মসজিটিতে অগ্নিসংযোগও করেছিল দখলদাররা। এরপর নানা বিধিনিষেধ আর শর্ত পূরণের মাধমে সেখানে ইবাদতের সুযোগ পেতেন সাধারণ মুসল্লিরা।

ইহুদিদের কাছে এই স্থানটি টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি, এর নিচেই রয়েছে তাদের দুইটি প্রাচীন মন্দির। অন্যদিকে খ্রিস্টানরাও আল-আকসা মসজিদের স্থাপনাকে তাদের পবিত্র স্থান হিসেবে দাবি করে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা