বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে এক দশকে পানিতে ডুবে ২৫ লাখ প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যু। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক দশকে সারা বিশ্বে প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে।

আজ ২৫ জুলাই (রবিবার) প্রথম ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ডব্লিউএইচও’র প্রকাশিত তথ্য মতে, পানিতে ডুবে মৃত্যুর শিকার প্রায় ৬০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। এদের মধ্যে অধিকাংশের বয়সই পাঁচ বছরের কম।

সংস্থাটির এক কর্মকর্তা ড. ডেভিড মিডংস গণমাধ্যমকে জানান, শুধু ২০১৯ সালেই বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার মানুস পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানায় বিশ্বজুড়ে বন্যা ও নৌ দুর্ঘটনার কারণে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমান পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়নি। তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে মোট পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় চীনে। এরপরেই দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে আছে যুক্তরাষ্ট ও ফ্রান্স।

 

সংস্থাটি আরো জানায়, কেবল ২০১৬ সালে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এদিকে দেশে গত ১৯ মাসে ৯৬৭টি ঘটনায় এক হাজার ৫১২ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে একটি বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষায় উঠে এসেছে। এদের মধ্যে এক হাজার ৩৩২ জন পানিতে পড়ে মারা গেছে। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন নৌযান দুর্ঘটনায় ডুবে অথবা আহত হয়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলো তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। সাধারণ কিছু সতর্কতা ও 0স্বল্প খরচে এসব মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সতর্কতামূলক এবং উদ্ধার কাজের প্রশিক্ষণের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, নৌ পরিবহন চলাচল ও বন্যায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপানর প্রতিও নজর দেয়ার আহবান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। সরকার ও দাতা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পাইলট ভিত্তিতে কয়েকটি জেলায় কিছু কিছু কাজ হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে এক দশকে পানিতে ডুবে ২৫ লাখ প্রাণহানি

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যু। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক দশকে সারা বিশ্বে প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে।

আজ ২৫ জুলাই (রবিবার) প্রথম ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ডব্লিউএইচও’র প্রকাশিত তথ্য মতে, পানিতে ডুবে মৃত্যুর শিকার প্রায় ৬০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। এদের মধ্যে অধিকাংশের বয়সই পাঁচ বছরের কম।

সংস্থাটির এক কর্মকর্তা ড. ডেভিড মিডংস গণমাধ্যমকে জানান, শুধু ২০১৯ সালেই বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার মানুস পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানায় বিশ্বজুড়ে বন্যা ও নৌ দুর্ঘটনার কারণে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমান পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়নি। তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে মোট পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় চীনে। এরপরেই দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে আছে যুক্তরাষ্ট ও ফ্রান্স।

 

সংস্থাটি আরো জানায়, কেবল ২০১৬ সালে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এদিকে দেশে গত ১৯ মাসে ৯৬৭টি ঘটনায় এক হাজার ৫১২ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে একটি বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষায় উঠে এসেছে। এদের মধ্যে এক হাজার ৩৩২ জন পানিতে পড়ে মারা গেছে। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন নৌযান দুর্ঘটনায় ডুবে অথবা আহত হয়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলো তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। সাধারণ কিছু সতর্কতা ও 0স্বল্প খরচে এসব মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সতর্কতামূলক এবং উদ্ধার কাজের প্রশিক্ষণের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, নৌ পরিবহন চলাচল ও বন্যায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপানর প্রতিও নজর দেয়ার আহবান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। সরকার ও দাতা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পাইলট ভিত্তিতে কয়েকটি জেলায় কিছু কিছু কাজ হচ্ছে।