Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১শুক্রবার , ৩০ জুলাই ২০২১
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

অশ্রুঝরা শোকাবহ আগস্ট মাস শুরু রবিবার

বার্তাকন্ঠ
জুলাই ৩০, ২০২১ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা ব্যুরো।।: রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর মাস ‘শোকাবহ আগস্ট’। কেবল জাতির পিতা নয়, তাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে ইতিহাসের এই দিনটিকে সবচেয়ে কলঙ্কিত দিনে পরিণত করেছে ঘাতকরা। যে পিতা স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, যে পিতা স্বাধীনতা অর্জনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে কেবল গুছিয়ে নিতে শুরু করেছেন, এদিন ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছিল সেই পিতার প্রাণ।

১৯৭৫ সালের ১৫ তারিখে প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্র স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত এক বেদনাবিধূর শোকের দিন। সেদিন খুনিরা শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করেছিল। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়।

ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী, মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামাল, দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল ও তার স্ত্রী রোজী জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির পিতার ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলেও ওই সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পিতা-মাতা সব হারানো দুই বোন দেশেও ফিরতে পারেননি। শরণার্থীর মতো তাদের থাকতে হয়েছে বিদেশ-বিভূঁইয়ে।

পরে ১৯৮১ সালে ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রাজপথে লড়াই সংগ্রাম ও আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসকের পতন ঘটে। আরও পাঁচ বছর পর ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে পঁচাত্তরের ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আর তখনই উদ্যোগ নেওয়া হয় জাতির কলঙ্কমোচনের। জাতির পিতাকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ২১ বছর বন্ধ থাকার পর উদ্যোগ নেওয়া হয় খুনিদের বিচারের। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেন শেখ হাসিনা।

বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিব চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্য্যমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আজ তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর্য নিয়ে বেদনাবিধুর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী শোক দিবস পালন করবে। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে সব কর্মসূচি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।