রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইবিতে থামছেই না চুরির ঘটনা: এবার ছাত্রী হলে চুরি

ছবি: সংগৃহীত

আতিক এম রহমান, ইবি প্রতিনিধি ।।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চুরির ঘটনা যেন থামছেই না। বিগত কয়েক বছরে ছোট-বড় অন্তত দশবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকবার চোর ধরা পড়লেও উল্লেখ্যযোগ্য কোন শাস্তি না হওয়ার বন্ধ এই আশঙ্কা আরো বেড়েছে। এতে নিজেদের শিক্ষাসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ক্যাম্পাসে রেখে চরম উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ছাত্রীদের খালেদা জিয়া হলের গ্রিল কেটে ও তালা ভেঙে অন্তত ৯টি কে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দিনক্ষণ জানা না গেলেও কনস্ট্রাকশন (রিপেয়ারিং) শ্রমিকদের মাধ্যমে শনিবার চুরি যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ থাকায় হলের রিপেয়ারিং কাজ চলছিলো। ফলে হলের চাবি ছিল ঠিকাদারদের কাছে। অন্যান্য দিনের মতো শ্রমিকরা কাজে আসলে হলের নিচ তলার বারান্দার গ্রিল ভাঙা দেখতে পান।

সূত্রে মতে, ক্যাম্পাসের পশ্চিম কিনারে অবস্থিত খালেদা জিয়া হল। হলটির পেছনে বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ। তবে নামমাত্র একটি দেয়ার ছাড়া তেমন কোন নিরাপত্তা প্রাচীর নেই। এই হলটিরই দণি (পুরাতন) ব্লকের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ৯টি কক্ষ থেকে জিনিসপত্র চুরি গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া হলটির ডাইনিং থেকেও কয়েকটি বেসিন ট্যাপকল চুরি হয়েছে।
তবে, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় কগুলোর ভেতর থেকে কি কি জিনিসপত্র চুরি হয়েছে কিংবা আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই বা কতটা; সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো কিছু জানা যায়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী নিরাপত্তাকর্মীদের ভাষ্যমতে, প্রাচীর টপকে গ্রিল ভেঙে হলের ডাইনিংয়ে ঢুকে থাকতে পারে চোর। পরে ডাইনিং থেকে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার কগুলোতে তালা ভেঙে কে প্রবেশ করা হয়েছে। করে সামনে তালাগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়। করে ভেতরে সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও জানান তারা।

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ঘটনাস্থল পর্যবেণ করে দেখব।’

প্রসঙ্গত, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা স্বাভাবিকতায় রূপ নিয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের উল্লেখ্যযোগ্য দায়িত্বশীলতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত কয়েক মাসে সাদ্দাম হোসেন হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শেখ রাসেল হলে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দিনে দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে ভ্যান চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া নির্মাণাধীন রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে দুই ভ্যান টাইলস ও আট কার্টন ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার কোনো কোনোটিতে হাতেনাতে আটকও হলেও থানায় নিয়ে চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে চোরেরা আস্কারা পাচ্ছেন।

এদিকে পুনঃপুন এমন চুরির ঘটনায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি একই ঘটনার পুণরাবৃত্তিতে এবং ইতোপূর্বে চোর ধরা পড়ার পরও উল্লেখ্যযোগ্য শাস্তি প্রদান না করায় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কারো ইন্ধন থাকতে বলেও মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার নিশ্চিতের দাবি ইবি ছাত্র ইউনিয়নের :

বারংবার এমন চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে চুরি যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার ও ভুক্তভোগীদের তিপূরণ প্রদান করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। বিষয়টিকে প্রশাসনের ব্যর্থতা উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক পিয়াস পান্ডে স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সভাপতি নূরুন্নবী সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক জি. কে. সাদিক বলেন, ”এসব ঘটনা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাত্রুটি ও প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট করেছে। করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় আমরা দেখলাম বিভিন্ন হলে চুরি হয়েছে। একাডেমিক ভবন থেকে চুরি হয়েছে। আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে ভ্যান চুরির মত ঘটনাও ঘটেছে। এবার খালেদা জিয়া হলের ৯টি কে চুরির ঘটনায় গোটা ক্যাম্পাসের চরম অনিরাপদ পরিস্থিতির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের এসব ব্যর্থতার ফল দিতে হচ্ছে শিার্থীদের।”

বিবৃবিতে তারা তিন দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো শিক্ষার্থীশূণ্য ক্যাম্পাসে হল ও একাডেমিক ভবনগুলোর পাশে উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করে বাড়তি প্রহরী নিযুক্ত করতে হবে এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থাপনকৃত সিসি ক্যামেরাগুলো সচল ও ফুটেজ সংরণ করতে হবে; চুরি যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার ও শিার্থীদের তিপূরণ দিতে হবে এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইবিতে থামছেই না চুরির ঘটনা: এবার ছাত্রী হলে চুরি

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অগাস্ট ২০২১

আতিক এম রহমান, ইবি প্রতিনিধি ।।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চুরির ঘটনা যেন থামছেই না। বিগত কয়েক বছরে ছোট-বড় অন্তত দশবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকবার চোর ধরা পড়লেও উল্লেখ্যযোগ্য কোন শাস্তি না হওয়ার বন্ধ এই আশঙ্কা আরো বেড়েছে। এতে নিজেদের শিক্ষাসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ক্যাম্পাসে রেখে চরম উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ছাত্রীদের খালেদা জিয়া হলের গ্রিল কেটে ও তালা ভেঙে অন্তত ৯টি কে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দিনক্ষণ জানা না গেলেও কনস্ট্রাকশন (রিপেয়ারিং) শ্রমিকদের মাধ্যমে শনিবার চুরি যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ থাকায় হলের রিপেয়ারিং কাজ চলছিলো। ফলে হলের চাবি ছিল ঠিকাদারদের কাছে। অন্যান্য দিনের মতো শ্রমিকরা কাজে আসলে হলের নিচ তলার বারান্দার গ্রিল ভাঙা দেখতে পান।

সূত্রে মতে, ক্যাম্পাসের পশ্চিম কিনারে অবস্থিত খালেদা জিয়া হল। হলটির পেছনে বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ। তবে নামমাত্র একটি দেয়ার ছাড়া তেমন কোন নিরাপত্তা প্রাচীর নেই। এই হলটিরই দণি (পুরাতন) ব্লকের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ৯টি কক্ষ থেকে জিনিসপত্র চুরি গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া হলটির ডাইনিং থেকেও কয়েকটি বেসিন ট্যাপকল চুরি হয়েছে।
তবে, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় কগুলোর ভেতর থেকে কি কি জিনিসপত্র চুরি হয়েছে কিংবা আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই বা কতটা; সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো কিছু জানা যায়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী নিরাপত্তাকর্মীদের ভাষ্যমতে, প্রাচীর টপকে গ্রিল ভেঙে হলের ডাইনিংয়ে ঢুকে থাকতে পারে চোর। পরে ডাইনিং থেকে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার কগুলোতে তালা ভেঙে কে প্রবেশ করা হয়েছে। করে সামনে তালাগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়। করে ভেতরে সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও জানান তারা।

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ঘটনাস্থল পর্যবেণ করে দেখব।’

প্রসঙ্গত, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা স্বাভাবিকতায় রূপ নিয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের উল্লেখ্যযোগ্য দায়িত্বশীলতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত কয়েক মাসে সাদ্দাম হোসেন হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শেখ রাসেল হলে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দিনে দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে ভ্যান চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া নির্মাণাধীন রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে দুই ভ্যান টাইলস ও আট কার্টন ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার কোনো কোনোটিতে হাতেনাতে আটকও হলেও থানায় নিয়ে চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে চোরেরা আস্কারা পাচ্ছেন।

এদিকে পুনঃপুন এমন চুরির ঘটনায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি একই ঘটনার পুণরাবৃত্তিতে এবং ইতোপূর্বে চোর ধরা পড়ার পরও উল্লেখ্যযোগ্য শাস্তি প্রদান না করায় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কারো ইন্ধন থাকতে বলেও মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার নিশ্চিতের দাবি ইবি ছাত্র ইউনিয়নের :

বারংবার এমন চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে চুরি যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার ও ভুক্তভোগীদের তিপূরণ প্রদান করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। বিষয়টিকে প্রশাসনের ব্যর্থতা উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক পিয়াস পান্ডে স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সভাপতি নূরুন্নবী সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক জি. কে. সাদিক বলেন, ”এসব ঘটনা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাত্রুটি ও প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট করেছে। করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় আমরা দেখলাম বিভিন্ন হলে চুরি হয়েছে। একাডেমিক ভবন থেকে চুরি হয়েছে। আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে ভ্যান চুরির মত ঘটনাও ঘটেছে। এবার খালেদা জিয়া হলের ৯টি কে চুরির ঘটনায় গোটা ক্যাম্পাসের চরম অনিরাপদ পরিস্থিতির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের এসব ব্যর্থতার ফল দিতে হচ্ছে শিার্থীদের।”

বিবৃবিতে তারা তিন দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো শিক্ষার্থীশূণ্য ক্যাম্পাসে হল ও একাডেমিক ভবনগুলোর পাশে উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করে বাড়তি প্রহরী নিযুক্ত করতে হবে এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থাপনকৃত সিসি ক্যামেরাগুলো সচল ও ফুটেজ সংরণ করতে হবে; চুরি যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার ও শিার্থীদের তিপূরণ দিতে হবে এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।