মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আফগান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দাতা সংস্থাগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

যুক্তরাষ্ট্রের ডলার সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তের পর এবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানাল আফগানিস্তানে আর্থিক (ঋণ) সহায়তা দেওয়া থেকে তারাও সরে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

গত রোববার (১৫ আগস্ট) তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই পথে হাঁটল আইএমএফ।

সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তালেবান নেতৃত্বে আফগান সরকার গঠনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বা সংশয় থাকার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমনকি আগামী ২৩ আগস্ট আইএমএফ থেকে যে ৩৭ কোটি ডলার আফগানিস্তানে পাঠানোর কথা ছিল; তাও বন্ধ করা হয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে আর্থিক মন্দাবস্থা মোকাবিলায় এই ধরনের অর্থ ব্যবহার করা হয়।

আফগানিস্তানের জন্য আইএমএফ’র স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) সম্পদের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো দেশের সরকারের অধীনে মুদ্রা বিনিময় করা হয়ে থাকে। আইএমএফ’র এসডিআর ইউনিট স্টার্লিং, ডলার, ইউরো, ইয়েন, উয়ান বিনিময়ের কাজে নিয়োজিত। এ প্রসঙ্গে ওই মুখপাত্র বলেন, এসব সিদ্ধান্তই বিশ্ব সম্প্রদায়ের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে।
এর আগে গতকাল (১৮ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো সম্পদ যা যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত রয়েছে সেই সম্পদের কোন বিবরণ বা হিসাব তালেবানদের দেওয়া হবে না।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) এক লিখিত বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ সচিব (মন্ত্রী) জানেট ইয়েলেন জানিয়েছেন, তালেবানরা কোনো ধরনের মার্কিন সহায়তা পাবে না। গত ২০ বছরে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান বা কার্যক্রম চলমান থাকাকালীন সময়ে এসডিআর’র আওতায় তেমন কোনো শর্ত ছাড়াই আফগানিস্তানে প্রায় ৫০ কোটি ডলার অর্থ গেছে। এই অর্থ মার্কিন জোটটের বিরুদ্ধে জঙ্গি সহায়তা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এটা মার্কিন জোটের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বলেও মন্তব্য করেন ইয়েলেন।

এর আগে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে আফগান সরকারের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থসম্পদ জমা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন তালেবানের নেতৃত্বে আফগানের সরকারের অধীনে এই অর্থ ব্যয়ের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

অবশ্য গত রোববার (১৫ আগস্ট) আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরে সদ্য সাবেক গভর্নর, যিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েও গিয়েছেন তিনি (আজমল আহমেদি) এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ফেডারেল রিজার্ভে আফগান রিজার্ভের পরিমাণ ৯ বিলিয়ন ডলার। অবশ্য ওই অর্থমূল্যের মাত্র দশমিক ১ থেকে দশমিক ২ শতাংশ অর্থ তালেবানরা ব্যবহার করতে পারবে এমন সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কোন অর্থ চুরি বা হারিয়ে যায়নি। কারণ, ওই অর্থের সবই সঠিকভাবে (আন্তর্জাতিক হিসাব মেনে) সংরক্ষণ করা আছে বলেও উল্লেখ করে আজমল আহমেদি। এ জন্য অবশ্যই হয়তো আফগান স্থানীয় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক ডলার সরবরাহ করতে পারছে না। হয়তো ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- আমরা পারছি না কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ করতে পারছে না।

আফগানিস্তানে, আইএমএফ সবশেষ ঋণের অর্থ পাঠিয়েছে গত জুনে। এই অর্থছাড়ের অনুমোদন অবশ্য দেয়া হয়েছিল গত নভেম্বরে। ওই মাসেই জাতিসংঘ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে যেখানে তালেবানদের অর্থের প্রাথমিক উৎস সম্পর্কে বলা হয়। বলা হয়, তালেবানরা সন্ত্রাসী উপায়ে বা অবৈধ পথেই তাদের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নিশ্চিত করে থাকে। যেমন- মাদক পাচার, আফিম-পপি চাষ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও তালেবান নিয়ন্ত্রাধীন এলাকা থেকে খনিজ সম্পদ আহরোণ ও কর আদায়ের মতো কাজ তারা করে থাকে।

উদ্বোধনের ৫মাসের মধ্যেই ‘বিপর্যয়’ রাম মন্দিরের, ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে

আফগান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দাতা সংস্থাগুলো

প্রকাশের সময় : ১২:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অগাস্ট ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

যুক্তরাষ্ট্রের ডলার সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তের পর এবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানাল আফগানিস্তানে আর্থিক (ঋণ) সহায়তা দেওয়া থেকে তারাও সরে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

গত রোববার (১৫ আগস্ট) তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই পথে হাঁটল আইএমএফ।

সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তালেবান নেতৃত্বে আফগান সরকার গঠনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বা সংশয় থাকার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমনকি আগামী ২৩ আগস্ট আইএমএফ থেকে যে ৩৭ কোটি ডলার আফগানিস্তানে পাঠানোর কথা ছিল; তাও বন্ধ করা হয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে আর্থিক মন্দাবস্থা মোকাবিলায় এই ধরনের অর্থ ব্যবহার করা হয়।

আফগানিস্তানের জন্য আইএমএফ’র স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) সম্পদের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো দেশের সরকারের অধীনে মুদ্রা বিনিময় করা হয়ে থাকে। আইএমএফ’র এসডিআর ইউনিট স্টার্লিং, ডলার, ইউরো, ইয়েন, উয়ান বিনিময়ের কাজে নিয়োজিত। এ প্রসঙ্গে ওই মুখপাত্র বলেন, এসব সিদ্ধান্তই বিশ্ব সম্প্রদায়ের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে।
এর আগে গতকাল (১৮ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো সম্পদ যা যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত রয়েছে সেই সম্পদের কোন বিবরণ বা হিসাব তালেবানদের দেওয়া হবে না।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) এক লিখিত বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ সচিব (মন্ত্রী) জানেট ইয়েলেন জানিয়েছেন, তালেবানরা কোনো ধরনের মার্কিন সহায়তা পাবে না। গত ২০ বছরে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান বা কার্যক্রম চলমান থাকাকালীন সময়ে এসডিআর’র আওতায় তেমন কোনো শর্ত ছাড়াই আফগানিস্তানে প্রায় ৫০ কোটি ডলার অর্থ গেছে। এই অর্থ মার্কিন জোটটের বিরুদ্ধে জঙ্গি সহায়তা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এটা মার্কিন জোটের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বলেও মন্তব্য করেন ইয়েলেন।

এর আগে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে আফগান সরকারের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থসম্পদ জমা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন তালেবানের নেতৃত্বে আফগানের সরকারের অধীনে এই অর্থ ব্যয়ের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

অবশ্য গত রোববার (১৫ আগস্ট) আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরে সদ্য সাবেক গভর্নর, যিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েও গিয়েছেন তিনি (আজমল আহমেদি) এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ফেডারেল রিজার্ভে আফগান রিজার্ভের পরিমাণ ৯ বিলিয়ন ডলার। অবশ্য ওই অর্থমূল্যের মাত্র দশমিক ১ থেকে দশমিক ২ শতাংশ অর্থ তালেবানরা ব্যবহার করতে পারবে এমন সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কোন অর্থ চুরি বা হারিয়ে যায়নি। কারণ, ওই অর্থের সবই সঠিকভাবে (আন্তর্জাতিক হিসাব মেনে) সংরক্ষণ করা আছে বলেও উল্লেখ করে আজমল আহমেদি। এ জন্য অবশ্যই হয়তো আফগান স্থানীয় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক ডলার সরবরাহ করতে পারছে না। হয়তো ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- আমরা পারছি না কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ করতে পারছে না।

আফগানিস্তানে, আইএমএফ সবশেষ ঋণের অর্থ পাঠিয়েছে গত জুনে। এই অর্থছাড়ের অনুমোদন অবশ্য দেয়া হয়েছিল গত নভেম্বরে। ওই মাসেই জাতিসংঘ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে যেখানে তালেবানদের অর্থের প্রাথমিক উৎস সম্পর্কে বলা হয়। বলা হয়, তালেবানরা সন্ত্রাসী উপায়ে বা অবৈধ পথেই তাদের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নিশ্চিত করে থাকে। যেমন- মাদক পাচার, আফিম-পপি চাষ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও তালেবান নিয়ন্ত্রাধীন এলাকা থেকে খনিজ সম্পদ আহরোণ ও কর আদায়ের মতো কাজ তারা করে থাকে।