মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে মাটির নিচেই রয়েছে রাশি রাশি গুপ্তধন

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে গোষ্ঠীটি। বিনা রক্তপাতেই কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানের এই পুনরুত্থানে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে চীন ও পাকিস্তান। যদিও অতীতে আফগান ইস্যুতে চীনের তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা গেল আফগানিস্তান বিষয়ে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে চীন।

তালেবানের কাবুল নিয়ন্ত্রণের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রভাবশালী নেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদের নেতৃত্বে আকস্মিক চীন সফরে যায় গোষ্ঠীটির একটি প্রতিনিধি দল। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে।

মূলত এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। আফগানিস্তান বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সম্পর্কটি বেশ পুরনো হলেও চীন কেন হঠাৎ করে দেশটির বিষয় এতো আগ্রহ দেখাচ্ছে? এনিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর নেপথ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ। বিশেষ করে লিথিয়ামের বিপুল মজুদ দেশটির ব্যাপারে চীনকে আগ্রহী করে তুলেছে। চীন ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরির বিষয়ে জোর দিচ্ছে।

এই যানবাহনের অন্যতম প্রধান উপকরণ লিথিয়াম। পাশাপাশি চীনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন প্রেক্ষাপট আফগানিস্তানের ব্যাপারে বেইজিংকে আগ্রহী করে তুলেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই আফগানিস্তানের মাটির নিচেই রয়েছে রাশি রাশি গুপ্তধন। যা অল্প সময়েই ঘুরিয়ে দিতে দেশটির অর্থনীতির চাকা।

বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আফগানিস্তানের মাটির নিচে এক লাখ কোটি ডলার মূল্যের গুপ্তধন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম খনিজ লিথিয়াম। দূষণহীন যান চলাচলের ব্যাটারি, মোবাইল ফোনের ব্যাটারির জন্য এই খনিজ আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত।

কিন্তু প্রকৃতিতে দুর্লভ এবং খনি থেকে সেই মৌল নিষ্কাশনের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। তাই এর বহুল ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়াও তামা, সোনা, আকরিক লোহাসহ নানা ধরনের বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের মাটির নিচে।

যদিও আফগানিস্তানে মজুদ লিথিয়ামের বিষয়টি একেবারেই এড়িয়ে গেছে চীন। তারা বলছে, তালেবানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের মূল লক্ষ্য পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলকে বেইজিংবিরোধী তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট- ইটিআইএম-এর হাত থেকে রক্ষা করা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, খনিজ-সমৃদ্ধ আফগানিস্তানে কৌশলগত প্রবেশের জন্য নতুন প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগাবে চীন।

রান্ধুবীবাড়িতে সনাতন ধর্মের ব্যক্তি উচ্ছেদের নোটিশ পেয়ে মৃত্যু

আফগানিস্তানে মাটির নিচেই রয়েছে রাশি রাশি গুপ্তধন

প্রকাশের সময় : ০৬:০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অগাস্ট ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে গোষ্ঠীটি। বিনা রক্তপাতেই কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানের এই পুনরুত্থানে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে চীন ও পাকিস্তান। যদিও অতীতে আফগান ইস্যুতে চীনের তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা গেল আফগানিস্তান বিষয়ে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে চীন।

তালেবানের কাবুল নিয়ন্ত্রণের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রভাবশালী নেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদের নেতৃত্বে আকস্মিক চীন সফরে যায় গোষ্ঠীটির একটি প্রতিনিধি দল। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে।

মূলত এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। আফগানিস্তান বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সম্পর্কটি বেশ পুরনো হলেও চীন কেন হঠাৎ করে দেশটির বিষয় এতো আগ্রহ দেখাচ্ছে? এনিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর নেপথ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ। বিশেষ করে লিথিয়ামের বিপুল মজুদ দেশটির ব্যাপারে চীনকে আগ্রহী করে তুলেছে। চীন ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরির বিষয়ে জোর দিচ্ছে।

এই যানবাহনের অন্যতম প্রধান উপকরণ লিথিয়াম। পাশাপাশি চীনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন প্রেক্ষাপট আফগানিস্তানের ব্যাপারে বেইজিংকে আগ্রহী করে তুলেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই আফগানিস্তানের মাটির নিচেই রয়েছে রাশি রাশি গুপ্তধন। যা অল্প সময়েই ঘুরিয়ে দিতে দেশটির অর্থনীতির চাকা।

বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আফগানিস্তানের মাটির নিচে এক লাখ কোটি ডলার মূল্যের গুপ্তধন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম খনিজ লিথিয়াম। দূষণহীন যান চলাচলের ব্যাটারি, মোবাইল ফোনের ব্যাটারির জন্য এই খনিজ আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত।

কিন্তু প্রকৃতিতে দুর্লভ এবং খনি থেকে সেই মৌল নিষ্কাশনের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। তাই এর বহুল ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়াও তামা, সোনা, আকরিক লোহাসহ নানা ধরনের বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের মাটির নিচে।

যদিও আফগানিস্তানে মজুদ লিথিয়ামের বিষয়টি একেবারেই এড়িয়ে গেছে চীন। তারা বলছে, তালেবানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের মূল লক্ষ্য পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলকে বেইজিংবিরোধী তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট- ইটিআইএম-এর হাত থেকে রক্ষা করা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, খনিজ-সমৃদ্ধ আফগানিস্তানে কৌশলগত প্রবেশের জন্য নতুন প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগাবে চীন।