বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল 

মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি।। 
সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল এযেন বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে।  দেশের লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ কাজে ব্যাবহৃত যানবাহনসহ যন্ত্রাংশ নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর চাহিদা না থাকায় আর ব্যবহার হচ্ছে না। খোলা আকাশের নিচে ব্যারাজের গোডাউনে অযত্নে আর অবহেলায় বছরের পর বছর পরে আছে কয়েকশ কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ।জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী নামক এলাকায় তিস্তা নদীর উপর ৫৬টি জলকপাট দিয়ে নির্মিত ব্যারাজটি দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। এ প্রকল্পে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হয়। ওই ব্যারাজের নির্মাণ কাজ ১৯৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯৯০ সালে শেষ হয়। সেচ প্রকল্প ও ব্যারাজটি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ড।  সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর উপর নির্মিত ব্যরাজের কাজ শেষে দোয়ানী গোডাউনে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে ট্রাক, বেকার, ওযাগন, ঢালাই মেশিন, সহ কয়েকশ কোটি টাকা দামের দামী  যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। অযত্ন আর অবহেলায় আর এসব জিনিস দীর্ঘদিন ধরে পরে থাকায় ব্যাবহার অনুপযোগী হয়েও পড়েছে।   সূত্র মতে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এসব দামী যানবাহন ও যন্ত্রাংশ মেরামতের উদ্দ্যোগ না নেওয়ায় ব্যবহার ও চলাচল যোগ্য যানবাহন, যন্ত্রাংশগুলো রোদ বৃষ্টি পুরে ভিজে নষ্ট হচ্ছে ও চুরি হয়ে যাচ্ছে এর যন্ত্রাংশ। অথচ এক সময়ের এসব সচল আধুনিক জিনিস গুলো বর্তমানে অচল হয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেকোন সময়  দামী  যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার অযোগ্য ঘোষনা করতে পারে। এদিকে গোডাউনে পরে থাকা জিনিসগুলো জং ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ার কারণে মেয়াদ  উত্তীর্ণ  হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিস্তা ব্যারাজের একজন কর্মচারী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার জিনিস ও যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয় অথচ অর্থের অভাবে গোডাউনে পরে থাকা জিনিস ও যন্ত্রাংশসমূহ মেরামত করা হচ্ছে  না। অথচ এসকল গাড়ী ট্রাক সচল  থাকলে  দেশের উন্নয়নের কাজে ব্যাবহার করা যেত। শত কোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান জিনিসের জন্য দক্ষ জনবল না থাকায় তা ব্যবহার না করার ফলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হচ্ছে।
ব্যারাজের গোডাউনের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারাজ’র উপ সহকারী প্রকৌশলী বিলাস চন্দ্র এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকৌশলী আসফুদ্দৌলা বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি হয়েছে। কমিটি’র রিপোর্ট পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল 

প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১
মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি।। 
সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল এযেন বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে।  দেশের লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ কাজে ব্যাবহৃত যানবাহনসহ যন্ত্রাংশ নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর চাহিদা না থাকায় আর ব্যবহার হচ্ছে না। খোলা আকাশের নিচে ব্যারাজের গোডাউনে অযত্নে আর অবহেলায় বছরের পর বছর পরে আছে কয়েকশ কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ।জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী নামক এলাকায় তিস্তা নদীর উপর ৫৬টি জলকপাট দিয়ে নির্মিত ব্যারাজটি দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। এ প্রকল্পে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হয়। ওই ব্যারাজের নির্মাণ কাজ ১৯৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯৯০ সালে শেষ হয়। সেচ প্রকল্প ও ব্যারাজটি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ড।  সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর উপর নির্মিত ব্যরাজের কাজ শেষে দোয়ানী গোডাউনে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে ট্রাক, বেকার, ওযাগন, ঢালাই মেশিন, সহ কয়েকশ কোটি টাকা দামের দামী  যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। অযত্ন আর অবহেলায় আর এসব জিনিস দীর্ঘদিন ধরে পরে থাকায় ব্যাবহার অনুপযোগী হয়েও পড়েছে।   সূত্র মতে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এসব দামী যানবাহন ও যন্ত্রাংশ মেরামতের উদ্দ্যোগ না নেওয়ায় ব্যবহার ও চলাচল যোগ্য যানবাহন, যন্ত্রাংশগুলো রোদ বৃষ্টি পুরে ভিজে নষ্ট হচ্ছে ও চুরি হয়ে যাচ্ছে এর যন্ত্রাংশ। অথচ এক সময়ের এসব সচল আধুনিক জিনিস গুলো বর্তমানে অচল হয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেকোন সময়  দামী  যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার অযোগ্য ঘোষনা করতে পারে। এদিকে গোডাউনে পরে থাকা জিনিসগুলো জং ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ার কারণে মেয়াদ  উত্তীর্ণ  হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিস্তা ব্যারাজের একজন কর্মচারী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার জিনিস ও যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয় অথচ অর্থের অভাবে গোডাউনে পরে থাকা জিনিস ও যন্ত্রাংশসমূহ মেরামত করা হচ্ছে  না। অথচ এসকল গাড়ী ট্রাক সচল  থাকলে  দেশের উন্নয়নের কাজে ব্যাবহার করা যেত। শত কোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান জিনিসের জন্য দক্ষ জনবল না থাকায় তা ব্যবহার না করার ফলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হচ্ছে।
ব্যারাজের গোডাউনের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারাজ’র উপ সহকারী প্রকৌশলী বিলাস চন্দ্র এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকৌশলী আসফুদ্দৌলা বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি হয়েছে। কমিটি’র রিপোর্ট পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।