বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

এসএসসি-এইচএসসি প্রস্তুতি, বাতিল হচ্ছে পিএসসি-জেএসসি পরীক্ষা

ফাইল ছবি

ঢাকা ব্যুরো ।।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় গেলো বছর সবধরনের পরীক্ষা বাতিল করে সরকার। বর্তমানে করোনার প্রভাব কিছুটা কমেছে। ফলে খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের জন্যও চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে প্রায় একই সময়ে অর্থ্যাৎ নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) আয়োজনের কথাও ছিলো। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গেলো বছরের মতো এবারো এই দুই পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত বাতিল করে দিতে পারে সরকার। সূত্রগুলো তাদের এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে। সেজন্য এসব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পুরো সপ্তাহ ধরে ক্লাস হচ্ছে। আবার পঞ্চম শ্রেণিতে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হচ্ছে, তবে সেটি পরীক্ষার জন্য নয়, মাধ্যমিকে ওঠার প্রস্তুতি হিসেবে। আর অষ্টম শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে মাত্র একটি।

সূত্রের দাবি, পরীক্ষা নিলে সপ্তাহে একটি ক্লাস হতো না। একটা মাত্র ক্লাসে সারাবছর না পড়ানোর ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। এমনকি সিলেবাসও শেষ করা যাবে না। সেখানে পরীক্ষা হবে কিভাবে?

তবে পিএসসি হবে কি না? সেটি জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে (ডিপিই) খোঁজ নিতে গিয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ছয় দিন কেন ক্লাস হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে অধিদফতরের উত্তর, তারা সিলেবাস শেষ করতে চায়। অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা চাচ্ছি মাধ্যমিকে পা রাখার আগে শিশুদের শিখনের ভিত্তিটা মজবুত হোক। এজন্য ওদের সারা সপ্তাহ ক্লাস দিয়েছি। সিলেবাস শেষ করা গেলে পরে পরীক্ষা নেয়া যাবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকার সিদ্ধান্ত দিলে তারা পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে আপাতত কোনো ভাবনাই নেই তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেছেন, লিখে দিন জেএসসি পরীক্ষা এবার হবে না। তবে এ বিষয়ে অধিদফতরের মহাপরিচালকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ কয়েকটি শিক্ষাবোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেএসসি পরীক্ষা আয়োজনে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড দায়িত্ব পালন করে। তবে বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে তারা ব্যস্ত থাকায় এখন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার কথা চিন্তা করছেন না। বোর্ডগুলো বলছে, এই পরীক্ষার জন্য কোনো প্রস্তুতি নেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. রমা বিজয় সরকার বলেন, এ বছর জেএসসি পরীক্ষা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরীক্ষা হলে এরই মধ্যে নির্দেশ পেতাম। ওদের সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস হতো। সেটা কিন্তু হচ্ছে না। তারপরও আমরা অপেক্ষা করছি। নির্দেশনা এলে পরীক্ষা নেয়া হবে।

আর ঢাকা শিক্ষাবোর্ড বলছে, ১১ নভেম্বর এসএসসি ও সমমান এবং ২ ডিসেম্বর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই দুই পরীক্ষার জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, জেএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমরা জেএসসি পরীক্ষা নিই। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। তাই প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এ পরীক্ষার আয়োজন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা থাকে প্রায় ২৫ লাখ। আর এই পরীক্ষা দুটো আয়োজন করে থাকে বোর্ড। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোথাও পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা আয়োজনের কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়েনি।

ড. ইউনূসকে ৫০ কোটি টাকা কর জমা দিয়ে আপিল করতে হবে : হাইকোর্ট রায়

এসএসসি-এইচএসসি প্রস্তুতি, বাতিল হচ্ছে পিএসসি-জেএসসি পরীক্ষা

প্রকাশের সময় : ০৩:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঢাকা ব্যুরো ।।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় গেলো বছর সবধরনের পরীক্ষা বাতিল করে সরকার। বর্তমানে করোনার প্রভাব কিছুটা কমেছে। ফলে খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের জন্যও চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে প্রায় একই সময়ে অর্থ্যাৎ নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) আয়োজনের কথাও ছিলো। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গেলো বছরের মতো এবারো এই দুই পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত বাতিল করে দিতে পারে সরকার। সূত্রগুলো তাদের এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে। সেজন্য এসব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পুরো সপ্তাহ ধরে ক্লাস হচ্ছে। আবার পঞ্চম শ্রেণিতে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হচ্ছে, তবে সেটি পরীক্ষার জন্য নয়, মাধ্যমিকে ওঠার প্রস্তুতি হিসেবে। আর অষ্টম শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে মাত্র একটি।

সূত্রের দাবি, পরীক্ষা নিলে সপ্তাহে একটি ক্লাস হতো না। একটা মাত্র ক্লাসে সারাবছর না পড়ানোর ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। এমনকি সিলেবাসও শেষ করা যাবে না। সেখানে পরীক্ষা হবে কিভাবে?

তবে পিএসসি হবে কি না? সেটি জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে (ডিপিই) খোঁজ নিতে গিয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ছয় দিন কেন ক্লাস হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে অধিদফতরের উত্তর, তারা সিলেবাস শেষ করতে চায়। অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা চাচ্ছি মাধ্যমিকে পা রাখার আগে শিশুদের শিখনের ভিত্তিটা মজবুত হোক। এজন্য ওদের সারা সপ্তাহ ক্লাস দিয়েছি। সিলেবাস শেষ করা গেলে পরে পরীক্ষা নেয়া যাবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকার সিদ্ধান্ত দিলে তারা পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে আপাতত কোনো ভাবনাই নেই তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেছেন, লিখে দিন জেএসসি পরীক্ষা এবার হবে না। তবে এ বিষয়ে অধিদফতরের মহাপরিচালকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ কয়েকটি শিক্ষাবোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেএসসি পরীক্ষা আয়োজনে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড দায়িত্ব পালন করে। তবে বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে তারা ব্যস্ত থাকায় এখন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার কথা চিন্তা করছেন না। বোর্ডগুলো বলছে, এই পরীক্ষার জন্য কোনো প্রস্তুতি নেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. রমা বিজয় সরকার বলেন, এ বছর জেএসসি পরীক্ষা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরীক্ষা হলে এরই মধ্যে নির্দেশ পেতাম। ওদের সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস হতো। সেটা কিন্তু হচ্ছে না। তারপরও আমরা অপেক্ষা করছি। নির্দেশনা এলে পরীক্ষা নেয়া হবে।

আর ঢাকা শিক্ষাবোর্ড বলছে, ১১ নভেম্বর এসএসসি ও সমমান এবং ২ ডিসেম্বর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই দুই পরীক্ষার জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, জেএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমরা জেএসসি পরীক্ষা নিই। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। তাই প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এ পরীক্ষার আয়োজন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা থাকে প্রায় ২৫ লাখ। আর এই পরীক্ষা দুটো আয়োজন করে থাকে বোর্ড। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোথাও পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা আয়োজনের কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়েনি।