শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে শরতের সৌন্দর্য কাশফুল

মেহেদী হাসান রাজু, রাজবাড়ী।।
শরতের কাশফুল জানিয়ে দিচ্ছে দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা। ঢাকের তালে দেবীকে আহবান জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভক্তরা । মৃৎশিল্পীরা মৃত্তিকায় যত্নে গড়ছে প্রতিমা। শেষ বিকেল থেমে থেমে বৃষ্টি। কালো মেঘের আবরণ ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে সোনালী মিষ্টি রোদ। সাদা মেঘের মিটিমিটি হাসি যেন শুভ্রতা ছড়াচ্ছে চারদিকে। সাদা কাশফুল শারদ বন্দনার কলরবে মেতে উঠেছে। নীল আকাশে চলছে সাদা-কালো মেঘের লুকোচুরি। কখনো কালো মেঘে আবার কখনো সাদা মেঘের আভরণে লুকিয়ে হাসছে সোনালী সূর্য। এ যেন প্রকৃতিতে সাজ সাজ রব।
পদ্মা কন্যা খ্যাত রাজবাড়ীর প্রায় ডজন খানেক স্থান এখন সাদা সাদা কাশফুলের দখলে। বালুমাটির বিশাল তীরবর্তী এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে সাদা কাশফুল। সাদা মেঘের খুনসুটি আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের বাতাসে নদীর পানি দোল খাওয়ার দৃশ্য যেন মন কাড়ে সবার। প্রতিবছর এই সময়টাতে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সৌন্দর্যের ছোঁয়ায় প্রায় সবার শরীর-মন জুড়িয়ে যায়।
নদীতে নৌকা ভ্রমনে আসা ভ্রমন পিপাসুদের কাছে মাঝ নদীতে ঘুরতে ঘুরতে অদূরে নদীর তীর ঘেষে থাকা সবুজ সাদার মিলনে গড়ে উঠা কাশবন এখন যেন প্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিন কাশফুলের নির্মল হাওয়া উপভোগের জন্য প্রায় সব বয়সী মানুষ ছুটে আসে। কাশফুল দেখার পাশাপাশি একটু নৌকা ভ্রমণও হয়।
জেলার সদর উপজেলার গোদার বাজার চরাঞ্চল, গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া ইউনিয়ন, উজানচর ইউনিয়ন, পাংশ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন, হাবাসপুর ও কসবামাজাইল ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলবে কাশফুলের। যদিও তা গত এক যুগের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, এ কাশবন চাষে বাড়তি পরিচর্যা ও সার প্রয়োগের প্রয়োজনও নেই। নিজ থেকে অথবা বীজ ছিটিয়ে দিলেই কাশবনের সৃষ্টি হয়ে থাকে। কাশবনের ব্যবহার বহুবিধ। চারাগাছ একটু বড় হলেই এর কিছু অংশ কেটে গরু-মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাশ দিয়ে গ্রামের নারীরা ঝাঁটা, ডালি, দোন তৈরি করে। কৃষকরা ঘরের ছাউনি হিসেবেও ব্যবহার করে। তবে গত কয়েক বছরে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে কাশবন। যার সিংহভাগই নেই বললে চলে।

হারিয়ে যাচ্ছে শরতের সৌন্দর্য কাশফুল

প্রকাশের সময় : ০১:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
মেহেদী হাসান রাজু, রাজবাড়ী।।
শরতের কাশফুল জানিয়ে দিচ্ছে দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা। ঢাকের তালে দেবীকে আহবান জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভক্তরা । মৃৎশিল্পীরা মৃত্তিকায় যত্নে গড়ছে প্রতিমা। শেষ বিকেল থেমে থেমে বৃষ্টি। কালো মেঘের আবরণ ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে সোনালী মিষ্টি রোদ। সাদা মেঘের মিটিমিটি হাসি যেন শুভ্রতা ছড়াচ্ছে চারদিকে। সাদা কাশফুল শারদ বন্দনার কলরবে মেতে উঠেছে। নীল আকাশে চলছে সাদা-কালো মেঘের লুকোচুরি। কখনো কালো মেঘে আবার কখনো সাদা মেঘের আভরণে লুকিয়ে হাসছে সোনালী সূর্য। এ যেন প্রকৃতিতে সাজ সাজ রব।
পদ্মা কন্যা খ্যাত রাজবাড়ীর প্রায় ডজন খানেক স্থান এখন সাদা সাদা কাশফুলের দখলে। বালুমাটির বিশাল তীরবর্তী এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে সাদা কাশফুল। সাদা মেঘের খুনসুটি আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের বাতাসে নদীর পানি দোল খাওয়ার দৃশ্য যেন মন কাড়ে সবার। প্রতিবছর এই সময়টাতে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সৌন্দর্যের ছোঁয়ায় প্রায় সবার শরীর-মন জুড়িয়ে যায়।
নদীতে নৌকা ভ্রমনে আসা ভ্রমন পিপাসুদের কাছে মাঝ নদীতে ঘুরতে ঘুরতে অদূরে নদীর তীর ঘেষে থাকা সবুজ সাদার মিলনে গড়ে উঠা কাশবন এখন যেন প্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিন কাশফুলের নির্মল হাওয়া উপভোগের জন্য প্রায় সব বয়সী মানুষ ছুটে আসে। কাশফুল দেখার পাশাপাশি একটু নৌকা ভ্রমণও হয়।
জেলার সদর উপজেলার গোদার বাজার চরাঞ্চল, গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া ইউনিয়ন, উজানচর ইউনিয়ন, পাংশ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন, হাবাসপুর ও কসবামাজাইল ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলবে কাশফুলের। যদিও তা গত এক যুগের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, এ কাশবন চাষে বাড়তি পরিচর্যা ও সার প্রয়োগের প্রয়োজনও নেই। নিজ থেকে অথবা বীজ ছিটিয়ে দিলেই কাশবনের সৃষ্টি হয়ে থাকে। কাশবনের ব্যবহার বহুবিধ। চারাগাছ একটু বড় হলেই এর কিছু অংশ কেটে গরু-মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাশ দিয়ে গ্রামের নারীরা ঝাঁটা, ডালি, দোন তৈরি করে। কৃষকরা ঘরের ছাউনি হিসেবেও ব্যবহার করে। তবে গত কয়েক বছরে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে কাশবন। যার সিংহভাগই নেই বললে চলে।