Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১শুক্রবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

যশোরে ওমিক্রন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

বার্তাকন্ঠ
জানুয়ারি ১৪, ২০২২ ১০:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যশোর ব্যুরো।। যশোরে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে প্রথমেই যশোরে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। ভারতীয় দু’জনসহ তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ায় শহরবাসীর মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চললেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বালাই নেই। জেলা প্রশাসন এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা গোটা জেলায় মাইকিংসহ বিমানবন্দর ও বেনাপোল বন্দরে সতর্কতা জারি করেছে। একইসাথে শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর মাস নাগাদ দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়। এরপর থেকে মানুষের জীবনের চাকা স্বাভাবিক হতে থাকে। ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেঁস্তোরা, যানবাহনে প্রাণ ফিরে আসে। কিন্তু এ পরিস্থিতি তিনমাসের বেশি স্থায়ী হয়নি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিসহ পৃথিবী জুড়ে হানা দিয়েছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ ভ্যারিয়েন্ট আমাদের দেশে প্রথম ধরা পড়েছে। এরপর ১২ জানুয়ারি যবিপ্রবি ল্যাবে পরীক্ষায় যশোরে তিনজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়। যা খুলনা বিভাগের দশ জেলার মধ্যে প্রথম এ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে চিন্তিত যশোর জেলা প্রশাসনসহ স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা আক্রান্তের পরিসংখ্যান অনুযায়ী যশোর জেলাকে মধ্যমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কারণে যশোর জেলাকে হলুদ জোনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। রেডজোনে রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি জেলা।

বুধবার যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জিনোম সিকুয়েন্সের মাধ্যমে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত করেন। জিনোম সেন্টার থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওমিক্রন আক্রান্ত ভারতীয় দুই নাগরিকের মধ্যে একজন পুরুষ, যার বয়স ৩০ বছর এবং নারীর বয়স ৪১ বছর। তাদের মধ্যে করোনার তেমন কোনো উপসর্গ নেই। অপর আক্রান্ত বাংলদেশি পুরুষ নাগরিক, তার বয়স ২৫ বছর। তিনি স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন বলে গবেষক দলটি ধারণা করছেন। ওই ব্যক্তির তিন দিন ধরে ঠান্ডা, গলা ব্যাথা ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ নেই।

ইতোমধ্যে করোনার নতুন এ ধরণ স্পাইক প্রোটিনে ৩০টিরও বেশি মিউটেশন বিদ্যমান। যশোরে পরীক্ষায় ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া তিনজনের ডাটা জিআইএসএআইডি ডাটাবেজে জমা দেয়া হয়েছে। এরপরই তাদের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তারা জানান।

এদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরের ৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদিন নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ছিলো ২২ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া, বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত থেকে আসা এক যাত্রীর করোনা পজিটিভ হয়েছে। তার শরীরে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকায় করোনা টেস্ট করা হয়। ফলাফল পজেটিভ আসায় তাকে মেডিকেল আইশোলেশন বুথে রাখা হয়েছে। তার বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে।

যশোরে করোনার এ পরিস্থিতিতেও মানুষের সচেতনার ব্যাপক অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহর ও শহরতলীর অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। ফলে দিনে দিনে করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।

যশোরে করোনা সংক্রমণের হার বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বৃহস্পতিবার থেকেই জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শুরু করেছে। এদিন আদালত জরিমানা না করলেও জনগণকে সতর্ক করেছে। এছাড়া, যশোর শহরসহ আটটি উপজলা শহরে প্রশাসনের উদ্যোগে মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে।

এসব ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ যাবৎ তারা শহরে সচেতনতামূলক মাইকিং চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও, এনজিও কর্মকর্তা ও ইমামসহ সামাজিক, পেশাজীবী প্রষ্ঠিানের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সাথে তাদেরও কাজ করার আহবান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, যশোর বিমানবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যাতে স্বাস্থ্যবিধির বাইরে কেউ ভারত-বাংলাদেশে চলাচল করতে না পারে। বিমানবন্দরে মানুষের অহেতুক ঘোরাফেরা ও যাত্রী রিসিভকারীরা যাতে ভিড় না করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে একজন যেতে পারে সে বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জেলার আটটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে হাটে বাজারে ও জনসমাগম স্থলে পদক্ষেপ গ্রহণ বা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। মানুষ যেনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে ও প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বিক্ষিতভাবে জমায়েত না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।