সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শরণখোলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

নাজমুল ইসলাম,  শরনখোলা (বাগেরহাট) ।।

বাগেরহাটের শরণখোলায় ছাঁদে ফাটল ধরা একটি ঝুঁকিপূর্ন ভবনে নিয়মিত পাঠদান চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫৩ শিশুর। বিদ্যালয়টির ভবন ঘেষে বেড়িবাধ নির্মান করায় মাটির চাঁপে ফাটল ধরেছে এর বিভিন্ন অংশে। ফাটল ভয়াবহ রুপ নেয়ায় তিনটি শ্রেনি কক্ষের একটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। এ অবস্থায় ছেলে- মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উৎকন্ঠায় থাকছেন অভিভাবকরা। শিক্ষকরা ঝুকিপূর্ন এ ভবন স্থানান্তর করে তাদের নিজস্ব জমিতে নতুন ভবন নির্মানের দাবী জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের কাছে।

জানাযায়, বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদ তীরবর্তী উত্তর সাউথখালী গ্রামে ১৯৯০ সালে স্থানীয়দের সহায়তায় স্থাপিত হয় বাবলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৪ সালে এটি সরকারী নিবন্ধিত হয়। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি তিন কক্ষ বিশিষ্ট একতলা একটি সরকারী ভবন প্রাপ্ত হয়। ২০০৭ সালের সিডরের সময় ২০ ফুট উচ্চতার প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাসে ভবনটি ভেঙ্গে যায়। সে সময় বিদ্যালয়টিতে আশ্রয় নেয়া দুই শতাধিক মানুষের মধ্যে ৪৮ জনের নির্মম মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ২৭ জনই ছিলো শিশু। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হয়। পরে গত ২০২০ সালে বিশ্বব্যাংকের আর্থীক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার ৩৫/১ পোল্ডারে টেকসই বেড়িবাধ নির্মান করেন। কিন্তু নির্মিত বাধের কিছু অংশ বিদ্যালয়ের ভবনের উপর পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীদের চলা- চলের পথ এবং খেলাধুলার জায়গা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। মাটির চাপে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে। ওয়ালসহ ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং ছাদ বীমে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ফাটল। এ অবস্থায় ভবনের একটি শ্রেনি কক্ষ ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। ফাটল ধরা ভবনে অবস্থান করতে সাহস পাচ্ছেনা শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উৎকন্ঠায় থাকছেন। এলাকাবাসী সহ অভিভাবকদের দাবী ঝুকিপুর্ন এ বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে পার্শবর্তী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমিতে নতুন ভবন স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনির ছাত্রী রবি আক্তার, আবিদা আক্তার, রবিউল ইসলাম, চতূর্থ শ্রেনির ছাত্রী লিজা আক্তার জানায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। ক্লাস রুমে বসে লেখা- পড়া করতে তাদের অনেক ভয় করছে। কিন্তু বাধ্য হয়ে ভাঙ্গা ভবনে তাদের পাঠ গ্রহন করতে হচ্ছে। এছাড়া খেলাধূলা করারও কোন জায়গা নেই তাদের।
অভিভাবক মোঃ আসগোর আলী খান, দেলোয়ার হোসেন ও জাহানারা বেগম জানান, ছেলে- মেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকতে হচ্ছে তাদের। কখন যে বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে পড়ে তার ঠিক নেই। এটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা উচিৎ।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এম,ডি আহসান আলম জানান, তাদের বিদ্যালয় ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। একটি কক্ষের ছাদ বীমে ফাটল ধরায় ইতোমধ্যে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা অত্যান্ত ঝুকির মুখে রয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ- সভাপতি মোঃ শাহজাহান খান জানান, বেড়িবাধ নির্মানকারী কর্তৃপক্ষ নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ঘেষে বেড়িবাধ নির্মান করেছে। বাধের মাটির চাপে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভবনটিতে ধস্ নামলে ছাত্র- ছাত্রীদের প্রানহানির আশঙ্কা রয়েছে।
শরনখোলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম জানান, বাবলাতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে ফাটল ধরার খবর জানতে পেরেছি। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

নজরুল/বার্তাকণ্ঠ

 

 

 

শরণখোলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

প্রকাশের সময় : ০৮:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২

নাজমুল ইসলাম,  শরনখোলা (বাগেরহাট) ।।

বাগেরহাটের শরণখোলায় ছাঁদে ফাটল ধরা একটি ঝুঁকিপূর্ন ভবনে নিয়মিত পাঠদান চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫৩ শিশুর। বিদ্যালয়টির ভবন ঘেষে বেড়িবাধ নির্মান করায় মাটির চাঁপে ফাটল ধরেছে এর বিভিন্ন অংশে। ফাটল ভয়াবহ রুপ নেয়ায় তিনটি শ্রেনি কক্ষের একটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। এ অবস্থায় ছেলে- মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উৎকন্ঠায় থাকছেন অভিভাবকরা। শিক্ষকরা ঝুকিপূর্ন এ ভবন স্থানান্তর করে তাদের নিজস্ব জমিতে নতুন ভবন নির্মানের দাবী জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের কাছে।

জানাযায়, বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদ তীরবর্তী উত্তর সাউথখালী গ্রামে ১৯৯০ সালে স্থানীয়দের সহায়তায় স্থাপিত হয় বাবলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৪ সালে এটি সরকারী নিবন্ধিত হয়। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি তিন কক্ষ বিশিষ্ট একতলা একটি সরকারী ভবন প্রাপ্ত হয়। ২০০৭ সালের সিডরের সময় ২০ ফুট উচ্চতার প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাসে ভবনটি ভেঙ্গে যায়। সে সময় বিদ্যালয়টিতে আশ্রয় নেয়া দুই শতাধিক মানুষের মধ্যে ৪৮ জনের নির্মম মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ২৭ জনই ছিলো শিশু। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হয়। পরে গত ২০২০ সালে বিশ্বব্যাংকের আর্থীক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার ৩৫/১ পোল্ডারে টেকসই বেড়িবাধ নির্মান করেন। কিন্তু নির্মিত বাধের কিছু অংশ বিদ্যালয়ের ভবনের উপর পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীদের চলা- চলের পথ এবং খেলাধুলার জায়গা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। মাটির চাপে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে। ওয়ালসহ ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং ছাদ বীমে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ফাটল। এ অবস্থায় ভবনের একটি শ্রেনি কক্ষ ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। ফাটল ধরা ভবনে অবস্থান করতে সাহস পাচ্ছেনা শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উৎকন্ঠায় থাকছেন। এলাকাবাসী সহ অভিভাবকদের দাবী ঝুকিপুর্ন এ বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে পার্শবর্তী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমিতে নতুন ভবন স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনির ছাত্রী রবি আক্তার, আবিদা আক্তার, রবিউল ইসলাম, চতূর্থ শ্রেনির ছাত্রী লিজা আক্তার জানায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। ক্লাস রুমে বসে লেখা- পড়া করতে তাদের অনেক ভয় করছে। কিন্তু বাধ্য হয়ে ভাঙ্গা ভবনে তাদের পাঠ গ্রহন করতে হচ্ছে। এছাড়া খেলাধূলা করারও কোন জায়গা নেই তাদের।
অভিভাবক মোঃ আসগোর আলী খান, দেলোয়ার হোসেন ও জাহানারা বেগম জানান, ছেলে- মেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকতে হচ্ছে তাদের। কখন যে বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে পড়ে তার ঠিক নেই। এটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা উচিৎ।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এম,ডি আহসান আলম জানান, তাদের বিদ্যালয় ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। একটি কক্ষের ছাদ বীমে ফাটল ধরায় ইতোমধ্যে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা অত্যান্ত ঝুকির মুখে রয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ- সভাপতি মোঃ শাহজাহান খান জানান, বেড়িবাধ নির্মানকারী কর্তৃপক্ষ নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ঘেষে বেড়িবাধ নির্মান করেছে। বাধের মাটির চাপে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভবনটিতে ধস্ নামলে ছাত্র- ছাত্রীদের প্রানহানির আশঙ্কা রয়েছে।
শরনখোলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম জানান, বাবলাতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে ফাটল ধরার খবর জানতে পেরেছি। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

নজরুল/বার্তাকণ্ঠ