Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১মঙ্গলবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

পশ্চিমাদের কাছে হামলার প্রমাণ চাইল ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইউক্রেনে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরেই কিয়েভের দূতাবাস খালি করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু মার্কিন কর্মকর্তারা গতকয়েক দিন ধরেই বলে আসছেন, আগামীকাল বুধবার অর্থাৎ ১৬ তারিখই ইউক্রেনের উপরে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। আজ মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের মস্কো সফরের পরের দিনটিকেই হামলার সম্ভাব্য দিন হিসাবে ধরে রেখেছেন মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দাদের একাংশ।

কিন্তু যে দেশের উপরে হামলার ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা পশ্চিমা দুনিয়া, সেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবার নাম না করে পশ্চিমের দেশগুলোর কাছ থেকে প্রমাণ চাইলেন।

সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইউক্রেনের সঙ্গে বিমান পরিষেবাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেশ কিছু দেশ। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তলানিতে ঠেকার আশঙ্কা করছেন জেলেনস্কিসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। দুইদিন আগেই দেশের নাগরিকদের শান্ত থেকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিয়েছিল ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশের প্রেসিডেন্টও নাগরিকদের উদ্দেশে একই বার্তা দিয়েছেন।

কারও নাম না করেই জেলেনস্কি বলেছেন, আমি জানি আমরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। আপনার বা অন্য কারও কাছে যদি সত্যিই এই তথ্য থাকে যে ১৬ তারিখে রাশিয়া এ দেশে হামলা চালাবেই, তাহলে দয়া করে সেই তথ্যপ্রমাণ আমাদের দিন।

পশ্চিমা গোয়েন্দারা বারবার দাবি করেছেন, মঙ্গলবারের পরে ইউক্রেনের উপরে আচমকা হামলা চালাতে পারে রাশিয়ার বাহিনী। গোয়েন্দাদের দাবি, এই ধরনের ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালিয়ে কিয়েভের উপরে চাপ বজায় রাখতে চাইছে মস্কো।

গতকাল সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ না হলেও ইউক্রেনকে যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহের প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়ে রেখেছে। সেই মতো গতকালই ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়া থেকে যুদ্ধবিমান ধ্বংসকারী সরঞ্জাম ইউক্রেনে এসে পৌঁছেছে।

গত রবিবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কারবি জানিয়েছেন, গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, সীমান্তের তিনদিক দিয়ে অন্তত এক লাখ ৩০ হাজার রুশ সেনা ইউক্রেনকে ঘিরে রেখেছে।

মস্কোর দাবি, রুটিন অভিযান শেষে তাদের বাহিনী সীমান্ত ছেড়ে ভিতরে ঢুকে যাবে। কিন্তু উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, যুদ্ধ প্রস্তুতির সব সরঞ্জাম সীমান্তে মজুত রেখেছে রাশিয়া। জেলেনস্কিও বারবার দাবি করছেন, হামলা হলে তার জবাব দিতে তার সেনাবাহিনীও প্রস্তুত।

যদিও প্রেসিডেন্টের মতো ইউক্রেনের অধিকাংশ নাগরিকও মনে করেন, রাশিয়া তাঁদের দেশে হামলা চালাবে না। গত কয়েকদিন ধরে দেশ জুড়ে ‘একতা যাত্রায়’ অংশ নিয়েছেন ইউক্রেনের নাগরিকেরা। রাশিয়া ও তার মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে সেখানে।

কিয়েভের বাসিন্দা বরিস শেরেপেঙ্কো বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না রাশিয়া আমাদের উপরে হামলা চালাতে পারে।’ উল্টো দিকে, অনেকে আবার মানসিকভাবে সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে চাইছেন। আলোনা বুজনিৎস্কায়া নামে এক নারী যেমন বললেন, ‘সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আমাদের, যাতে আমরা কোনও কিছুতেই ভয় না পাই।’

এই সব কিছুর মধ্যেই আবার প্রশ্ন উঠছে রাশিয়ার এত চাপের মধ্যে কি ন্যাটো সদস্য হওয়ার দাবি শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেবে ইউক্রেন। পড়শি দেশের এই দাবি নিয়েই প্রথম থেকে আপত্তি তুলে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন ব্রিটেনে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ভাডিম প্রিসটাইকো।

তবে তিনি বলেছেন, ‘এভাবে ব্ল্যাকমেল, হুমকি আর চাপের মুখে পড়লে আমাদের সরকারও হয়তো ভেবে দেখবে। হয়তো ন্যাটো বাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না কোনও দিন।

..আনন্দবাজার পত্রিকা

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।