Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১শুক্রবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হলো যেভাবে

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম, শিক্ষক ও কলামিস্ট
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২ ১০:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এসেছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। এ মাস এলেই মনে পড়ে যায় বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শহীদদের কথা, তাদের নি:স্বার্থ আত্মত্যাগের কথা। আমাদের এই মাতৃভাষা বাংলাকে ‘রাষ্ট্রভাষা’ হিসেবে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। পৃথিবীতে এমন উদাহরণ আর দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হওয়ায় ‘২১ ফেব্রুয়ারি’ কে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করি আমরা। ভাষা আন্দোলন শোক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি বিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। প্রিয় ভাষা দিবস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তা পালন করা হয় আড়ম্বরভাবে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই বিগত শতকের চল্লিশের দশকে ভাষাবিতর্ক শুরু হয়ে যায়। তখনকার কিছু মুসলিম লীগ নেতা ও বুদ্ধিজীবী বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দেয়, এ প্রসঙ্গে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন এবং খ্যাতনামা বাঙালি পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদল্লাহর বিতর্ক উল্লেখযোগ্য।
ভাষার প্রশ্নে ১৯৪৭ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তমুদ্দন মজলিস’ এর উদ্যোগে সর্বপ্রথম গঠিত হয় “রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ”। পরে গঠিত হয় “সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ”। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ‘উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা’র প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকার রাজপথে মিছিলের ওপর পুলিশ বেপরোয়া গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ অনেকে শহীদ হন। এই শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় বাংলাকে ‘রাষ্ট্রভাষা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।আর এই আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরেই এসেছে বাংলাদেশের কাংখিত স্বাধীনতা। ডানা মেলেছে মুক্ত আকাশে এদেশের মুক্তিকামী কোটি জনতা । ‘২১ ফেব্রুয়ারি’
পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি।
কানাডার ভ্যানকুভার শহরে (কাকতালীয়ভাবে ভাষাশহীদদের নামের সাথে মিলে যাওয়া) বসবাসরত দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম প্রাথমিক উদ্যোক্তা হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার জন্য ১৯৯৮ সালে তৎকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে
আবেদন জানিয়েছিলেন। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং ২০১১ সাল থেকে জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করে আসছে।
★ লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।