Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১মঙ্গলবার , ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

কিশোরগঞ্জে গ্রুপিং-কোন্দলে বিপর্যস্ত আ’লীগ

সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় - কিশোরগঞ্জ।।
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২২ ৯:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ক্ষমতাসীন আ’লীগের সবচেয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে পরিচিত ছিল কিশোরগঞ্জ জেলা। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে জেলার ১৩টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ নেতৃত্বের কারণে সব স্তরে বিরোধও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ফলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপজেলা ইউনিটে  বিরাজ করছে অস্থিরতা ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি। উপজেলা কমিটিগুলোর (১৩টি) মেয়াদ শেষ হয়েছে কয়েক বছর আগে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ার কারণে দলের দুঃসময়ে পরীক্ষিত, ত্যাগী নেতাদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলা ইউনিটের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, করিমগঞ্জ- এ চারটি উপজেলায় দ্বন্দ্ব ও কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কমিটি দিয়ে চলছে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ। একসময় জেলার সবচেয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে সদর উপজেলার সুনাম ছিল। কিন্তু সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর পরেই বদলে যায় সদর আওয়ামী লীগের দৃশ্যপট। আধিপত্যের লড়াইয়ের তীব্র প্রতিযোগিতায় ভেঙে পড়েছে সাংগঠনিক কাঠামো। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা আ’লীগের বিভেদ ও কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ টিটু ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী এ দুইটি গ্রুপে বিভক্ত সদর আ’লীগের তৃনমুলের নেতা-কর্মীরা। সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুর আস্থাভাজন অনুসারী সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এড. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে এক গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ সাদীর নেতৃত্বে রয়েছে আরেকটি গ্রুপ। দুই বলয়ে বিভক্ত হয়েই দলীয় কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে সংসদ সদস্যের এক গ্রুপ। বিদ্যমান মূল দুইটি গ্রুপের বাইরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে সংসদ সদস্যের এ বলয়। আবার সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির সাথে সদর উপজেলার সবকটি গ্রুপের রয়েছে যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ১৯৯৭ সালের ২ এপ্রিল কমিটি গঠন হয়। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই উপজেলায় আওয়ামী লীগ চলছে পুরাতন কমিটি দিয়ে। বর্তমান দলীয় বিভেদ ও কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নেয়ায় ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তৃণমূলে।
বিপর্যস্ত উপজেলা ইউনিটগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। গত ২০০২ সালে নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদকে আহ্বায়ক করে ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট করিমগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ ২০ বছরেও এই উপজেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এসময়ের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটির ১৪ জন সদস্য মারা গেছেন এবং একজন বহিষ্কৃত হয়েছেন। এ ইউনিটের নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে এখন অরাজক ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বিরাজমান। এদিকে কটিয়াদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি ২৫ বছর। বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ ২৮ নেতার মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বহীন অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
জেলার সবচেয়ে সাংঘর্ষিক ও বিপদজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে পাকুন্দিয়া উপজেলা আ’লীগে। সম্প্রতি বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিদ্যমান দুটি গ্রুপ। সর্বশেষ গতকাল শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুইটি পক্ষ। এতে আহত হয় অন্তত ১২ জন। গত বছরের ২২ জুলাই জেলা আ’লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) সাবেক সংসদ সদস্য এড. সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে এ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এই কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত নেতাসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ এনে উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে রাজপথে সোচ্চার বর্তমান সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের পক্ষ। গতকাল আহবায়ক কমিটির ১০ জন প্রভাবশালী ও পরীক্ষিত নেতা সংবাদ সম্মেলন করে একযোগে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারীরা হলেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির, জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ, পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম আকন্দ, পাটুয়াভাঙ্গা ইউপির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাব উদ্দিন, চন্ডিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছু উদ্দিন, নারান্দী ইউপির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাব উদ্দিন, নারান্দী ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. মুছলেহ উদ্দিন ও মো. শাহাব উদ্দীন।
এছাড়াও অপর ৯টি উপজেলা আ’লীগে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এসব উপজেলায় যেকোনো মুহূর্তে দলীয় বিভেদ ও কোন্দল প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে সংঘর্ষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। জেলা আ’ লীগের ১৩ উপজেলা ইউনিটের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামরুল আহসান শাহজাহান বলেন, উপজেলা কমিটির সম্মেলন হয়নি দীর্ঘদিন যাবত। এসব উপজেলায় দ্রুত সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বার্তা/এন

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।